গণজাগরণ মঞ্চের দুই বছর পূর্তিতে বৃহস্পতিবার রাজধানীর শাহবাগে পৃথক কর্মসূচি পালন করেছে মঞ্চের বিভক্ত দুইটি অংশ। রাজনীতির নামে মানুষ হত্যা ও সহিংসতার প্রতিবাদে এবং জামায়াত-শিবির নিষিদ্ধের দাবিতে সকাল থেকে ইমরান এইচ সরকারের অংশ এবং বিকাল থেকে কামাল পাশার অংশ শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনের সড়কে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে।
সকাল সাড়ে ১০টার দিকে জাদুঘরের সামনে মাঝের রাস্তায় অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন মঞ্চের মুখপাত্র ডা. ইমরান এইচ সরকারের সমর্থক অংশ।
বিকাল সোয়া তিনটা থেকে জাদুঘরের ফটক সংলগ্ন রাস্তায় অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন মঞ্চের অন্যতম সংগঠক কামাল পাশা চৌধুরীর সমর্থক অংশ। দুই পক্ষের অবস্থানের কারণে ঐ সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। স্লোগানে ও গানে মুখরিত হয়ে উঠে ঐ এলাকা। ইমরান অংশের সমাবেশে ‘মানুষ হত্যার রাজনীতি বন্ধ কর, করতে হবে’;‘হত্যা খুনের রাজনীতি, চাই না’; ‘যে হাত মানুষ পোড়ায়, সে হাত ভেঙে দাও’ এবং ‘আমার ভাই পুড়ছে কেন? প্রশাসন জবাব চাই’, ‘যুদ্ধাপরাধীদের নিয়ে রাজনীতি মানি না, মানব না’ সহ বিভিন্ন স্লোগান উচ্চারিত হয়। কামাল পাশা অংশের সমাবেশে স্লোগানের পাশাপাশি মাইকে বিভিন্ন প্রতিবাদী সংগীত পরিবেশন করা হয়।
সন্ধ্যায় ইমরান এইচ সরকার বলেন, দেশজুড়ে সহিংসতার প্রতিবাদে ছাত্র-শিক্ষকসহ কর্মজীবী, পেশাজীবী মানুষকে সাথে নিয়ে আমাদের এই অবস্থান। সহিংসতা বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত আমাদের অবস্থান চলবে। একইসাথে মঞ্চের ছয় দফা বাস্তবায়নের আহবানও জানানো হচ্ছে।
তিনি বলেন, জামায়াত ইসলামী দেশব্যাপী সহিংসতা চালাচ্ছে। এ যুদ্ধাপরাধী সংগঠনটি গণতন্ত্রের নামে, বিভিন্ন মানুষের অধিকারের নামে কথা বলে। তারা অপরাজনীতির মাধ্যমে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার রুখে দেওয়ার চেষ্টা করছে। এ অপচেষ্টা প্রতিহত করা হবে।
গণজাগরণ মঞ্চের দুই বছর পূর্তি উপলক্ষে তিনি বলেন, সেদিন যে দাবিতে গণজাগরণ মঞ্চ গড়ে উঠেছিল, এখনকার অবস্থান কর্মসূচিতেও সেই দাবি আছে। যুদ্ধাপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে আন্দোলন চলবে।
কামাল পাশা চৌধুরী বলেন, মানুষ পুড়িয়ে ও দেশ জ্বালিয়ে ধ্বংসের রাজনীতির চর্চা হচ্ছে। একাত্তরের পরাজিত শক্তি অব্যাহতভাবে ষড়যন্ত্র করছে। মানুষহত্যার রাজনীতি বন্ধ এবং যুদ্ধাপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে আমাদের আন্দোলন চলবে।
উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি জামায়াত নেতা আব্দুল কাদের মোল্লার যাবজ্জীবন সাজার রায় প্রত্যাখান করে সর্বোচ্চ শাস্তি ফাঁসির দাবিতে শাহবাগে আন্দোলনে নামে গণজাগরণ মঞ্চ।
