‘আমি রাজনীতি করি না। পরিবার নিয়ে থাকি। আমাকে কেন পোড়ানো হলো? আমি কি দোষ করেছি? আমার বউ-পোলাপানের কি হইবো? কে হেগোরে খাওয়াইব? আমার পরিবার তো পথে বসে যাবে।’
এমনটাই বলছিলেন হারিছ মিয়া। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের বার্ন ইউনিটে চিকিত্সাধীন আছেন তিনি। অবরোধের আগুনে দগ্ধ হয়েছেন হারিছ। যন্ত্রণায় ছটফট করছেন আর পরিবারের চিন্তায় কান্নায় ভেঙ্গে পড়ছেন।
২৩ জানুয়ারি রাজধানীর ডেমরা এলাকার মোল্লা ব্রিজের কাছে যাত্রীবাহী বাসে পেট্রোল বোমা ছোঁড়া হলে দগ্ধ হন হারিছ মিয়া। আগুনে তার দুই হাত ও শরীরের কিছু অংশ ঝলসে যায়। ওই ঘটনায় দগ্ধ হয়েছেন আরও ২৬ জন। বেশিরভাগই ঢাকা মেডিক্যালের বার্ন ইউনিটে চিকিত্সাধীন।
দগ্ধ হারিছের আকুতি আর করুণ আর্তনাদে ভারী হয়ে উঠছে বার্ন ইউনিটের বাতাস। চিকিত্সকরা বলছেন, তার শরীরের ১৮ শতাংশ পুড়ে গেছে। শ্বাসনালীও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেরে উঠতে বেশ কিছুদিন লাগবে।
হারিছ মিয়া পেশায় ব্যবসায়ী, বয়স ৩৫। বাড়ি রূপগঞ্জের তারাবোতে। নিজের জামদানি শাড়ির একটি কারখানা আছে। পরিবার নিয়েই থাকতেন। সংসারে স্ত্রী, এক মেয়ে ও দুই ছেলে আছে। বাবা-মা, দুই ভাই ও একবোনও তাদের সঙ্গে থাকে।
হারিছের বাবা ইউনূস মিয়া জানান, ঘটনার দিন সকালে কারখানার কাজে ঢাকা যায় হারিছ। কাজ শেষ করে বাসে উঠে রাতে বাসায় ফিরছিল সে। বাসটি ডেমরার মোল্লা ব্রিজের কাছে আসলে দুর্বৃত্তরা পেট্রোল বোমা ছুঁড়ে মারে। বাসে থাকা অন্যদের সঙ্গে দগ্ধ হন হারিছ। স্থানীয় লোকজন আর পুলিশের সহায়তায় তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের বার্ন ইউনিটে আনা হয়। ইউনূস মিয়া বলেন, ছেলেটার ব্যান্ডেজ বাঁধা দুই হাত দেখে ভীষণ কষ্ট হচ্ছে, কান্না আটকে রাখতে পারছি না। আল্লাহর কাছে ছেলের কষ্ট লাঘবের জন্য বার বার দোয়া করা ছাড়া আমার তো আর কিছুই করার নাই।
তিনি বলেন, দেশে যা হচ্ছে তা বন্ধ করার জন্য সরকারের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি। সরকারের কাছে আকুল আবেদন, সব নাগরিকের বেঁচে থাকা নিশ্চিত করতে যেনো যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হয়।
কথা বলতে বলতে কেঁদে দেন হারিছের বাবা। কাঁদতে কাঁদতে বলেন, আমার ছেলেটার কিছু হয়ে গেলে সংসার চালাবে কে?
