আবাহনী- মোহামেডানের বিদায়

আপডেট : ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ২১:৫৮

ঢাকা প্রিমিয়ার ক্রিকেট লিগ টি-২০ টুর্নামেন্টকে গা গরমের মঞ্চই ধরা হয়েছিল। প্রিমিয়ার লিগের মূল ওয়ানডে আসরের আগে ক্রিকেটারদের প্রস্তুতির বড় সুযোগ ছিল এই টুর্নামেন্ট। সেমিফাইনালের আগেই টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিয়েছে ঢাকার ক্রিকেটের বড় দুই ক্লাব আবাহনী ক্রীড়াচক্র ও মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব।

নিজেদের প্রথম ম্যাচে গত মঙ্গলবার শাইনপুকুর ক্রিকেট ক্লাবের কাছে হেরেই সেমিতে উঠার স্বপ্ন শেষ হয়ে গিয়েছিল মোহামেডানের। গতকাল নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জকে ৩০ রানে হারালেও সাদা কালো শিবিরের খেলা হলো না টুর্নামেন্টের শেষ চারে।

আবাহনী এবার শক্তিশালী দল গড়েছিল। কিন্তু টি-২০ টুর্নামেন্টটা দুলকি চালেই খেললো দলটি। বেঞ্চের শক্তি নিয়ে একাদশ গড়া আবাহনী প্রথম ম্যাচ জিতেছিল ব্রাদার্স ইউনিয়নের বিপক্ষে। গতকাল মিরপুর স্টেডিয়ামে দ্বিতীয় ম্যাচে প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাবের কাছে ৪৯ রানে হেরে গেছে আবাহনী। তাতেই ক্লাবটির বিদায় নিশ্চিত হয়েছে। বড় দুই ক্লাবের বিদায়ে দিনে ‘এ’ গ্রুপ থেকে দুই ম্যাচ জিতে সেমিফাইনালে উঠেছে প্রাইম ব্যাংক। ‘বি’ গ্রুপ থেকে দুটি ম্যাচ জেতা শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাবও শেষ চারে উঠে গেছে। গতকাল ফতুল্লার খান সাহেব ওসমান আলী স্টেডিয়ামে উত্তরা স্পোর্টিং ক্লাবকে ডিএল মেথডে ৪ রানে পরাজিত করেছে শেখ জামাল। ফতুল্লায় বৃষ্টির কারণে শেখ জামাল-উত্তরা স্পোর্টিংয়ের ম্যাচের দৈর্ঘ্য ছোট হয়ে ৮ ওভার করা হয়। আগে ব্যাট করে পাঁচ উইকেটে ৭২ রান তুলেছিল শেখ জামাল। ফারদিন হোসেন ২৫, ইমতিয়াজ হোসেন ১২, নাসির হোসেন অপরাজিত ১১ রান করেন। উত্তরা স্পোর্টিংয়ের সাজ্জাদ হোসেন তিনটি, আসাদুজ্জামান পায়েল একটি করে উইকেট পান।

প্রথম বিভাগ থেকে উঠা উত্তরা স্পোর্টিংয়ের ইনিংস শুরুর আগে আবারও বৃষ্টি নামে। পরে ডিএল মেথডে সাত ওভারে তাদের টার্গেট দাঁড়ায় ৬৪ রান। কিন্তু পাঁচ উইকেটে ৫৯ রানের বেশি যেতে পারেনি উত্তরা স্পোর্টিং। আনিসুল ইসলাম ১৩, মোহিমিনুল অপরাজিত ১২, শাকির হোসেন ১২, তানজিদ হাসান ১১ রান করেন। শেখ জামালের ইলিয়াস সানি ১১ রানে দুই উইকেট নিয়ে ম্যাচ সেরা হন।  মিরপুরে রুবেল মিয়ার হাফ সেঞ্চুরিতে প্রাইম ব্যাংক ছয় উইকেটে ১৭৬ রানের বড় স্কোর গড়েছিল। রুবেল মিয়া ৫৬ বলে ৭৬ রান (৭ চার, ৪ ছয়) করেন। অধিনায়ক বিজয় ৩৭, আরিফুল হক ২১, আল-আমিন জুনিয়র ২০, জাকির হাসান ১৭ রান করেন। আবাহনীর পক্ষে সাইফউদ্দিন, রুবেল, আরিফুল হাসান, জাকারিয়া, সাব্বির রহমান একটি করে উইকেট পান। রান তাড়া করতে নেমে ২০ রানে তিন উইকেট হারিয়ে বসে আবাহনী। সেই চাপ থেকে আর বের হতে পারেনি দলটি। নয় উইকেটে ১২৭ রান তুলতে সমর্থ হয় আবাহনী। শেষ দিকে রুবেলের ২৩ বলে ৩৬ রানের ইনিংসে আবাহনীর স্কোরটা একশ পার হয়। মোসাদ্দেক ১৭, আরিফুল হাসান অপরাজিত ১৫, সাইফউদ্দিন ১২, নাজমুল শান্ত ১১ রান করেন। প্রাইম ব্যাংকের অলক কাপালি, মোহর শেখ অন্তর তিনটি করে, আল-আমিন হোসেন দুটি করে উইকেট পান। রুবেল মিয়া ম্যাচ সেরা হন।