নিভতে বসেছে জীবনের ‘জীবন প্রদীপ’

আপডেট : ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৫, ০১:১৭

জীবন আহমেদ (২০) খিলগাঁওয়ে ফটোকপি মেরামতের কাজ করতেন। বাসা রাজধানীর ডেমরা মাতুয়াইলের শরীফ পাড়ায়। দুই ভাই আর দুই বোনের মধ্যে সবার ছোট জীবন। বাবা আনোয়ার হোসেন পেশায় মোটর পার্টস ব্যবসায়ী। অবরোধের আগুনে নিভে যেতে বসেছে বাবা-মা আর ভাইবোনদের সবার আদরের সেই জীবনের ‘জীবন প্রদীপ’। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের বার্ন ইউনিটে চিকিত্সাধীন আছেন তিনি।

চিকিত্সকরা জানিয়েছেন, জীবনের মুখমণ্ডল, দুই হাত আর বুকের কিছু অংশ পুড়ে গেছে। সব মিলিয়ে শরীরের প্রায় ১৮ শতাংশ পুড়ে গেছে। পুড়ে গেছে শ্বাসনালিও। শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে। ব্যান্ডেজ নিয়ে বেডে শুয়েই কাতরাচ্ছেন তিনি।
বিড়বিড় করে জীবন বলেন, আমি দগ্ধ হওয়ায় মা খুব কষ্ট পেয়েছেন। আমি ভাইবোনদের মধ্যে সবার ছোট। তাই মা আমাকে একটু বেশি ভালোবাসেন। ঘটনার কথা বলতে গিয়ে চোখে পানি এসে যায় জীবনের।
একটু দম নিয়ে তিনি জানান, ৩০ জানুয়ারি বিকালে একটি ফোন আসে। ওপাশ থেকে জানায় একটি ফটোকপি মেশিন মেরামত করতে হবে। রাজি হয়ে যাই আমি। কেননা এটাই আমার পেশা। রাতে দোকানের কাজ শেষ করে সাড়ে ৮টায় গাড়িতে উঠি। গাড়িটি খিলগাঁও উড়াল সেতুর কাছে আসতেই পেট্রোল বোমা নিক্ষেপ করে দুর্বৃত্তরা। এসময় অনেকের সঙ্গে দগ্ধ হন জীবন।  
গতকাল বার্ন ইউনিটে গিয়ে কথা হয় জীবনের বাবা আনোয়ার হোসেনের সঙ্গে। কাঁদতে কাঁদতে তিনি বলেন, রাজনীতি যারা করে তারা তো পোড়ে না। আমার ছেলে কাজ করে। চুরি-ডাকাতি তো আর করে না। রাজনীতির আগুনে আমার ছেলে কেন পুড়বে? রাজনীতির আগুন কেন আমার নিরীহ ছেলের গায়ে লাগবে?
আনোয়ার হোসেন বলেন, ১ ফেব্রুয়ারি মতিঝিলের একটি দোকানে যোগদানের কথা ছিল জীবনের। এটা নিয়ে বেশ আশাবাদী ছিল ছেলেটা। তবে অসুস্থ রাজনীতির বোমা তার সেই আশাকে ফিকে করে দিয়েছে।

বাবার দিকে একদৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকেন জীবন। ফের কথা হলো তার সঙ্গে। কথা বলতে বলতে জীবনের চোখ দিয়ে পানি চলে আসে। কান্নাজড়িত কণ্ঠে জীবন বলেন, জীবনে কখনো রাজনীতির ধারে-কাছেও যাইনি। রাজনীতি কী তা বুঝিও না। অথচ রাজনীতির নামে আমাদের মত সাধারণ মানুষকে পুড়িয়ে মারা হচ্ছে। আমাদেরও তো পরিবার-পরিজন আছে। আমার কিছু হয়ে গেলে আমার মা মরে যাবেন!