দেশের মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাওয়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘রাজনীতি করি দেশের মানুষের জন্য, নিজের জন্য নয়। কাজেই মানুষের সমস্যা জানার এবং সমাধানের চেষ্টা করি। রাজনীতিবিদ হিসেবে এটাই আমার কর্তব্য বলে মনে করি। আর ক্ষমতা ভোগ করার বিষয় নয়, জনসেবার বিষয়। সেজন্যই বাংলাদেশের মানুষের কীভাবে কল্যাণ করতে পারি, সে লক্ষ্য নিয়েই কাজ করে যাচ্ছি। আমি মনে করি, জনগণ আমাদের ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছে। এটা আমাদের কর্তব্য।’ গতকাল বুধবার জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বের আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী। আত্মসমর্পণকারী মাদক ব্যবসায়ীদের সহায়তা দেবে সরকার : সরকারি দলের মাহফুজুর রহমানের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, আত্মসমর্পণকারী মাদক ব্যবসায়ীদের আর্থিক সহায়তা দিয়ে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করবে সরকার। যাতে তারা অন্য কোনো ব্যবসায় নিয়োজিত হয়ে ভালোভাবে চলতে পারে। তাদের চিকিত্সা ও কাউন্সিলিংয়ের মাধ্যমে মাদক থেকে দূরে রাখার পদক্ষেপ নিয়েছি। এভাবে তাদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, মাদকমুক্ত দেশ ও সমাজ গড়তে সামাজিক সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে। সংসদ সদস্যদেরও নিজ নিজ এলাকায় কেউ যাতে মাদকাসক্ত না হয়, সে ব্যাপারে সচেষ্ট থাকতে হবে।
জাতীয় পার্টির (জাপা) কাজী ফিরোজ রশীদের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যেখানে যেখানে মাদক চোলাচালান হয়, বিশেষ করে সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে মাদক নিয়ন্ত্রণ ও চোরাচালান বন্ধে সরকার পর্যাপ্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। মাদক পরিবহন ও চোরাচালানের জন্য সর্বোচ্চ শাস্তির (মৃত্যুদণ্ড) বিধান রাখা হয়েছে। প্রতিটি জেলায় মাদক নিরাময় কেন্দ্র স্থাপনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
জাতীয় পার্টির (জাপা) মুজিবুল হক চুন্নুর সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাজধানীর যানজট নিরসনে গণপরিবহন ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করা হবে। ঢাকা শহরের মেট্রোরেল, ফ্লাইওভার সবই গণপরিবহনের আওতায় করা হচ্ছে। যানজট নিরসনে বিআরটিসিকে শক্তিশালী করার উদ্যোগও সরকার নিয়েছে।
ঢাকায় ডিজিটাল ট্রাফিক পদ্ধতি চালুর পরিকল্পনা: জাতীয় পার্টির (জাপা) কাজী ফিরোজ রশীদের প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, বিশ্বের সব দেশেই ট্রাফিক সমস্যা আছে। কারণ জনসংখ্যা বাড়ছে, মানুষের আর্থিক অবস্থার উন্নতি হওয়ায় গাড়ি ব্যবহারের সংখ্যাও বাড়ছে। তিনি বলেন, ঢাকার যানজট নিরসনে আধুনিক ট্রাফিক সিগন্যাল ব্যবস্থা ও ডিজিটাল পদ্ধতি চালু করার পরিকল্পনা সরকার নিয়েছে। এটা চালু হলে যানজট নিরসন আরও কার্যকর হবে। এ সময় প্রধানমন্ত্রী সবাইকে ট্রাফিক আইন মেনে চলার আহ্বান জানান। সংসদ সদস্য দিদারুল আলমের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী চট্টগ্রাম মহানগরে যানজট নিরসনে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন।
জাতীয় পার্টির (জাপা) সংসদ সদস্য মুজিবুল হক চুন্নুর প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে দেশের সকল গ্রামকে শহরের সুযোগ-সুবিধা দিতে সরকারের গৃহীত পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের মূল লক্ষ্যই হলো-সকল গ্রামে শিক্ষা, চিকিত্সাসহ সকল ধরনের নাগরিক সুবিধা পৌঁছে দেওয়া। বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের অন্যতম নির্বাচনী অঙ্গীকার এটি। এ অঙ্গীকার বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সরকার গ্রাম কেন্দ্রিক নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
রাজধানীর চারদিকে ৮টি স্যাটেলাইট সিটি নির্মাণ করা হবে:সরকার দলীয় অপর সংসদ সদস্য বেনজীর আহমদের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনসংখ্যার চাপ কমাতে রাজধানী ঢাকার আশেপাশে ৮টি স্যাটেলাইট সিটি নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ইতিপূর্বে রাজধানীর পার্শ্ববর্তী এলাকায় ৪টি স্যাটেলাইট সিটি নির্মাণের লক্ষ্যে পিপিপি পদ্ধতিতে প্রকল্প গ্রহণের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। প্রকল্পগুলো হচ্ছে, বংশী-ধামরাই স্যাটেলাইট টাউন উন্নয়ন, ধলেশ্বরী-সিংগাইর স্যাটেলাইট টাউন উন্নয়ন, ইছামতি-সিরাজদিখান স্যাটেলাইট টাউন উন্নয়ন ও সাভার স্যাটেলাইট টাউনে হাইরাইজ এপার্টমেন্ট প্রকল্প। প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কার্যক্রম চলছে। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, এছাড়া গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় রাজধানী ঢাকার পার্শ্ববর্তী এলাকায় ৪টি স্যাটেলাইট সিটি প্রকল্প গ্রহণের উদ্যোগ নিয়েছে। এগুলো হলো, কেরানীগঞ্জে মডেল টাউন প্রকল্প ও বন্যা প্রবাহ এলাকা, জলাশয় সংরক্ষণ ও কমপ্যাক্ট টাউনশিপ প্রকল্প এবং কেরানীগঞ্জ ও সাভার উপজেলায় আবাসিক প্লট উন্নয়ন প্রকল্প।
