দ্বিতীয়বারের মতো এক টেবিলে মিলিত হয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন। বুধবার থেকে ভিয়েতনামের হ্যানয়ে এ দুই নেতার মধ্যে পূর্ব নির্ধারিত দুইদিনের বৈঠক শুরু হয়েছে। এই বৈঠকের প্রাক্কালে কিম জং উনকে ‘বন্ধু’ উল্লেখ করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেছেন, তার দেশ যদি পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ করে তবে শিগগিরই উত্তর কোরিয়া একটি সমৃদ্ধ দেশে পরিণত হবে। একদিন তারা গোটা বিশ্বের সমর্থন পাবে।
গতকাল হ্যানয়ের একটি ফাইভ স্টার হোটেলে দুই নেতার মুখোমুখি হবার দৃশ্য বিশ্ব গণমাধ্যমের কাছে ছিল অন্যতম আকর্ষণীয় দৃশ্য। প্রথম দর্শনে দুই নেতা পরস্পরের দিকে হাত বাড়িয়ে করমর্দন করেন। কিমের পিঠও চাপড়ে দেন ট্রাম্প। পরে ডিনারের টেবিলে অল্প সময়ের জন্য আলোচনা করেছেন কিম ও ট্রাম্প। ট্রাম্পের রসিকতায় কিম তার স্বভাবসুলভ গম্ভীর ব্যক্তিত্বের খোলস ছেড়ে একাধিকবার হেসে লুটোপুটি খান। তাদের মধ্যে মূল বৈঠক হবে আজ বৃহস্পতিবার। কোরীয় উপদ্বীপকে পারমাণবিক অস্ত্রমুক্ত করতে একটি রূপরেখা তৈরির ব্যাপারে আলোচনা হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
গত বছরের জুনে সিঙ্গাপুরে ট্রাম্প-কিম ঐতিহাসিক বৈঠক শেষে দুই দেশের মধ্যে এক সমঝোতা চুক্তি হয়। যৌথভাবে কোরিয়া উপদ্বীপকে পারমাণবিক অস্ত্রমুক্ত করার ব্যাপারে একমত হন তারা। তবে নিরস্ত্রীকরণের রূপরেখা সুনির্দিষ্ট না হওয়ায় দু’দেশের মধ্যে দর কষাকষি চলছে। এ বছরের শুরু থেকে ট্রাম্প বেশ কয়েকবার কিমের সঙ্গে নতুন বৈঠকের ব্যাপারে আগ্রহ প্রকাশ করেন। উত্তর কোরীয় নেতার সঙ্গে কয়েকটি চিঠিও আদান-প্রদান হয়েছে তার। এক পর্যায়ে আলোচনার তারিখ ও ভেন্যু নির্ধারিত হয়। গতকাল কিমের সঙ্গে বৈঠক করার আগে ভিয়েতনামের প্রেসিডেন্ট, প্রধানমন্ত্রী ও অন্য রাজনীতিবিদদের সঙ্গে বৈঠক করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
গতকাল সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, আলোচনা খুবই সফল হবে বলে মনে করি। তবে উত্তর কোরিয়াকে নিরস্ত্রীকরণের দাবি থেকেও যুক্তরাষ্ট্র সরবে না। কোরিয়া যুদ্ধের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘোষণা করবেন কি-না- এ প্রশ্নের উত্তরে ট্রাম্প বলেন, ‘সেটি আমরা দেখব।’ ওদিকে কিমও বৈঠকের আলোচনা খুব সফল হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, তারা ভিয়েতনামে দ্বিতীয় বৈঠক করার পথে বাধা টপকাতে পেরেছেন এবং এখন ধৈর্য ধরা প্রয়োজন। এবারের বৈঠককে সিঙ্গাপুরে গত বছরের জুনে হওয়া প্রথম বৈঠকের ধারাবাহিকতা হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
