অজানা গন্তব্যে ভারত-পাকিস্তান

আপডেট : ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ২২:৩৭

ভারত ও পাকিস্তান উত্তেজনা নতুন মাত্রায় পৌছে গেছে। পাকিস্তানের সাবেক কুটনীতিক ও সাংবাদিক হুসেইন হাক্কানি বলেছেন, আমরা উভয় দেশই এমন পথে অগ্রসর হয়েছি তার গন্তব্য জানা নেই। মঙ্গলবার পাকিস্তানের অভ্যন্তরে ভারতের বিমান হামলার পর ইসলামাবাদ বলে, তারা সুবিধামতো সময়ে প্রতিশোধ নেবে। এর ২৪ ঘন্টারও কম সময় পরে পাকিস্তান দাবি করে তারা লাইন অব কন্ট্রোল বরাবর বিমান হামলা চালিয়েছে। তারা আরো দাবি করেছে যে তারা দুটি ভারতীয় যুদ্ধবিমান গুলি করে ভূপাতিত করেছে এবং পাকিস্তানি ভূখন্ডে আছড়ে পড়া দু’জন পাইলটকেও আটক করেছে। অনেকে মনে করছেন, ভারতের উদ্দেশে পাকিস্তানের বিমান হামলা ‘ইটের বদলে পাটকেল’ নিক্ষেপ। তবে ভারত পাকিস্তান হামলা-পাল্টা হামলা চালিয়ে কি অর্জন করছে সেটা স্পষ্ট না হলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবার আগে শান্তি ফিরিয়ে আনা এখন বড় চ্যালেঞ্জ। বিবিসির সাংবাদিক সৌতিক বিশ্বাসের এক বিশ্লেষনে এসব কথা বলা হয়েছে।

ভারতের ধারণা, পাকিস্তানের জঙ্গি আস্তানায় হামলা চালানোর অধিকার তাদের আছে। যে কারণে ২০১৬ সালেও একইভাবে হামরা চালিয়েছিল তারা। বিবিসিকে প্রফেসর হাক্কানি বলেন, পাকিস্তান ভারতের সঙ্গে যুদ্ধ চায় না। তবে এটাও সত্য যে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী এখন বিশ্বাসযোগ্যতার চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। কারণ, এটা সবার জানা যে তারা পাকিস্তানে সক্রিয় সবগুলো জিহাদি গ্রুপকে ধ্বংস করতে চায় না। আবার এসব জিহাদিদের উপস্থিতি পাকিস্তানের জন্য একের পর এক ঝামেলার কারণ হয়েছে। ২০১১ সালে ওসামা বিন লাদেনকে হত্যার জন্য যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তানে বিনা অনুমতিতে ঢুকেছিল। এখন একই কারণে (জঙ্গি নিধনে) ভারত ঢুকছে পাকিস্তানের সীমানায়, বোমা ফেলছে এবং ঝামেলাবিহীন ভাবে ফিরেও আসছে। অর্থাত্ পাকিস্তানের সার্বভৌমত্ব কেউ লংঘন করেও নিরাপদে ফিরে যাচ্ছে। এই ঘটনা সেদেশের সেনাবাহিনীকে বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখোমুখি করেছে। তারা কিভাবে আত্মপক্ষ সমর্থন করে তা দেখার আগ্রহ জাগতেই পারে। তবে কোনো কোনো সূত্র জানিয়েছে, ভারতীয় যুদ্ধবিমানগুলো লাইন অব কন্ট্রোল থেকেই জঙ্গি ঘাটিগুলোর উদ্দেশে গোলা ছুড়তে চেয়েছিল। কিন্তু প্রতিকূল বাতাসের কারণে তারা পাকিস্তানি সীমান্তে ঢুকতে বাধ্য হয়।

বিশ্লেষকরা বলছেন, দুঃখজনক হলেও সত্যি দুই দেশের মধ্যে পরমাণু অস্ত্রের উত্তেজনা চরমে ওঠার ঝুঁকি আছে। তবে সেটা ঘটতে পারে হয়তো দেয়ালে কারো পিঠ ঠেকে গেলে। তবে আপাতত তেমন সম্ভাবনা দেখা না গেলেও এই যুদ্ধ যুদ্ধ খেলা উভয় দেশের জনগণের মধ্যে এক ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরী করছে। সারাক্ষণ এক অজানা আতঙ্কে থাকছে শান্তিপ্রিয় লোকগুলো। দিল্লি কিংবা ইসলামাবাদ কেউই পরিস্কার করে বলতে পারছে না কি পেলে তারা খুশি হবে। কয়েক দশক ধরে চলা উত্তেজনা নিরাময়ের ওষুধ আসলে কোথায় লুকিয়ে আছে সে উত্তর আপাতত কারো কাছে নেই।