অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাদের ফ্ল্যাট নয়, ঘর করে দেওয়া হবে

আপডেট : ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ২২:৩৭

অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য ফ্ল্যাট নির্মাণের পরিবর্তে তাদের বসত ভিটায় একতলা ঘর করে দেওয়া হবে। প্রতি জেলা/উপজেলায় অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য বহুতল ভবন নির্মাণের প্রকল্পটি প্রত্যাহার করে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। গতকাল শেরেবাংলানগরস্থ এনইসি সম্মেলন কক্ষে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপার্সন শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়।

সভা শেষে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান সংবাদ সম্মেলনে জানান, মুক্তিযোদ্ধাদের দাবির প্রেক্ষিতে এ প্রকল্পটি প্রত্যাহার করা হয়েছে। মুক্তিযোদ্ধাদের দাবি ছিল ফ্ল্যাট না দিয়ে নিজস্ব ভিটায় একই টাকা খরচ করে ঘর নির্মাণ করে দেওয়ার। সেজন্য এখন নতুন করে ঘর নির্মাণ প্রকল্প নেওয়া হবে। যাদের নিজস্ব ভিটা নেই তাদের পার্শ্ববর্তী খাস জমিতে ঘর করে দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

উল্লেখ্য, ২ হাজার ২৭৩ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রতি জেলা/উপজেলায় অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য বহুতল ভবন নির্মাণের প্রকল্পটি ২০১৮ সালের জানুয়ারি থেকে শুরু হয়ে ২০২০ সালের জুন মেয়াদে বাস্তবায়নের লক্ষ্য ছিল। কিন্তু প্রকল্পটি অনুমোদনের আদেশ জারি না হওয়ায় আর শুরু হয়নি। প্রকল্পটি প্রত্যাহারের বিষয়ে মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ফ্ল্যাটের মালিকানা, উত্তরাধিকার সংক্রান্ত জটিলতা, বহুতল ভবন নির্মাণের জন্য চিহ্নিত এলাকা কিংবা নিকটবর্তী এলাকায় সুবিধাভোগী মুক্তিযোদ্ধাদের কর্মসংস্থানের সুযোগের অপ্রতুলতা, বহুতল ভবনের রক্ষণাবেক্ষণ এবং লিফট বিহীন পাঁচতলা ভবনে বয়স্ক মুক্তিযোদ্ধাদের উঠা-নামার অসুবিধা ইত্যাদি বিষয় বিবেচনা করে জেলা/উপজেলায় ফ্ল্যাট নির্মাণের পরিবর্তে ভূমিহীন ও অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাদের নিজ বসতভিটায় কিংবা প্রয়োজনে সরকারি খাস জমি বন্দোবস্ত দিয়ে একতলা বিশিষ্ট বাসস্থান নির্মাণের প্রস্তাব করা হয়।

গতকাল একনেক সভায় মোট ১২ হাজার ৪৫৯ কোটি ৭৯ লাখ টাকা ব্যয়ের ১৩টি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এরমধ্যে তিনটি সংশোধিত প্রকল্প। অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য- ৩ হাজার ৩২২ কোটি ৩৪ লাখ টাকা ব্যয়ে বড়পুকুরিয়া-বগুড়া-কালিয়াকৈর ৪০০ কেভি লাইন প্রকল্প, ৮৪৫ কোটি ৮৩ লাখ টাকা ব্যয়ে মিরসরাইয়ে ভারতীয় অর্থনৈতিক অঞ্চল নিমিত্তে ভূমি অধিগ্রহণ প্রকল্প, ১৪৪৭ কোটি ২৪ লাখ টাকা ব্যয়ে বরিশাল-পটুয়াখালী সড়কে পায়রা নদীর উপর পায়রা সেতু (লেবুখালী সেতু) নির্মাণ প্রকল্প (২য় সংশোধিত), ১৬২০ কোটি ৭৪ লাখ টাকা ব্যয়ে চট্টগ্রাম মহানগরীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ, জলমগ্নতা/জলাবদ্ধতা নিরসন ও নিষ্কাশন উন্নয়ন প্রকল্প, ১৫৩৩ কোটি ৮৩ লাখ টাকা ব্যয়ে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরাধীন ৬৪টি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজের সক্ষমতা বৃদ্ধি প্রকল্প এবং ৭৯৯ কোটি ৭৬ লাখ টাকা ব্যয়ে গোপালগঞ্জে এসেনসিয়াল ড্রাগস কোম্পাানি লিমিটেডের তৃতীয় শাখা কারখানা স্থাপন প্রকল্প (২য় সংশোধিত)।

বৈঠকে বিভিন্ন প্রকল্প অনুমোদনের সময় প্রধানমন্ত্রীর অনুশাসনের বিষয়ে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান সাংবাদিকদের জানান, অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনের  জন্য জনবসতিপূর্ণ এলাকায় জমি অধিগ্রহণ না করতে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। একইসঙ্গে রাস্তা তৈরির সময় জলাধার নষ্ট না করারও নির্দেশ দেন তিনি। এছাড়া ওষুধের মান সুরক্ষার নির্দেশ দিয়েছেন। পরিকল্পনামন্ত্রী জানান, এখন থেকে যেসব সেতু বা অবকাঠামো নির্মাণ করা হবে সেগুলো স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা বা পন্ডিত ব্যক্তির নামে নামকরণ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তা না হলে নদীর নামে নামকরণ করতে হবে। চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা নিয়ন্ত্রণে একাধিক প্রকল্প ওভারলেপিং না করতে উচ্চক্ষমতার একটি সমন্বয় কমিটি গঠন করার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।

সভায় রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুেকন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পের জনবলের যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা পুনঃনির্ধারণ এবং প্রকল্পের সংযুক্ত জনবলের বিশেষ ভাতা প্রদানের বিষয়টি একনেকে উত্থাপন করা হয়। এ প্রকল্পে প্রেষণে নিয়োজিত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতার সঙ্গে অতিরিক্ত ৫০ শতাংশ ভাতা দেওয়া হবে।