মানসম্পন্ন শিক্ষায় বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা পিছিয়ে রয়েছে বলে বিশ্বব্যাংকের এক গবেষণা প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। বিশ্বব্যাংক গত বছর বাংলাদেশের স্কুলগামী শিক্ষার্থীদের উপর পরিচালিত এক গবেষণায় দেখেছে, স্কুলে ১১ বছরের শিক্ষাজীবনের মধ্যে গড়ে একজন শিক্ষার্থীর সাড়ে চার বছরই ক্ষতি হচ্ছে বা পিছিয়ে থাকছে। প্রাক প্রাথমিক থেকে এসএসসি পর্যন্ত শিক্ষার এই ১১ বছরকে স্কুলজীবন ধরা হয়েছে। গতকাল বুধবার রাজধানীর একটি হোটেলে এ গবেষণা প্রতিবেদনটি প্রকাশ করেছে বিশ্বব্যাংক।
প্রতিবেদনে বলা হয়, তৃতীয় শ্রেণির ৩৫ শতাংশ শিক্ষার্থীর অবস্থা খুবই দুর্বল। এমনকি তারা নিজ শ্রেণির বাংলা পাঠ্যবইও ঠিকমত দেখে পড়তে পারে না। আর পঞ্চম শ্রেণির মাত্র ২৫ শতাংশ শিক্ষার্থী কোনো রকমে গণিতে পাস করতে পারে। এর পেছনে মোটাদাগে চারটি কারণকে চিহ্নিত করেছে বিশ্বব্যাংক। শিশুদের মানসিক বিকাশে পর্যাপ্ত কার্যক্রমের অভাব, দুর্বল পাঠদান পদ্ধতি, দুর্বল বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা এবং শিক্ষাখাতে কম বিনিয়োগ এর পেছনে অন্যতম কারণ। এ সমস্যা উত্তরণে প্রতিবেদনে কিছু সুনির্দিষ্ট সুপারিশও করা হয়েছে।
‘ওয়ার্ল্ড ডেভেলপমেন্ট রিপোর্ট ২০১৮: লার্নিং টু রিয়ালাইজ এডুকেশনস প্রমিস’ শীর্ষক ওই প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম। অনুষ্ঠানে প্রতিবেদনের বিস্তারিত তুলে ধরেন বিশ্বব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ হেলসি রগার্স ও সংস্থার এডুকেশন গ্লোবাল প্র্যাকটিস বিভাগের প্র্যাকটিস ম্যানেজার ক্রিস্টিয়ান এডো।
প্রতিবেদনে বলা হয়, বিদ্যালয় পর্যায়ের শিক্ষায় গুণগত পরিবর্তন আনা ও যোগ্যতা ও মানসম্পন্ন শিক্ষকের মাধ্যমে শিক্ষাব্যবস্থায় উন্নয়ন আনতে হবে। এছাড়া শিশুদের স্কুলমুখী করতে শিক্ষা ও পাঠদান পদ্ধতিকে আরো উন্নত করা এবং প্রেরণা যোগানো এবং কতটুকু অগ্রগতি হচ্ছে- তা মূল্যায়ন করার কথাও বলা হয়েছে।
বিশ্বব্যাংকের শিক্ষা বিষয়ক সিনিয়র পরিচালক জেইমে সাভেদ্রা বলেন, শিক্ষার্থীদের জন্য অনেক দেশই নিয়মিত পর্যাপ্ত বিনিয়োগ করতে পারছে না। এ কারণে স্কুল থেকে কাঙ্ক্ষিত শিক্ষা পাওয়া যাচ্ছে না। ঢাকায় বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর বব সুম বলেন, স্কুলে ছেলে ও মেয়ে শিক্ষার্থীর সমতার ক্ষেত্রে অল্প কয়েকটি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ একটি। বরং বাংলাদেশের স্কুলে ছেলের চাইতে মেয়ে শিক্ষার্থী বেশি।
শাহরিয়ার আলম বলেন, গত পাঁচ বছরে সরকার দেশের প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে দুই লাখ আর মাধ্যমিকে ৪০ হাজার শিক্ষক নিয়োগ দিয়েছে। ৯ বছর আগের চেয়ে এ খাতে সরকারের বিনিয়োগ বেড়েছে পাঁচগুণ। অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন লিগো ফাউন্ডেশনের ভাইস-প্রেসিডেন্ট সারা বুচি, বিশ্বব্যাংকের প্রতিনিধি হেলসি রোগাস্টাস, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব গিয়াসউদ্দিন আহমেদ প্রমুখ।
