সুন্দরবনে নতুন করে সংগঠিত হচ্ছে বনদস্যুরা। তাদের কার্যক্রম ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। মুক্তিপণ আদায়ের লক্ষ্যে জেলেদের ওপর অত্যাচার-নির্যাতনও বেড়েছে। এক সপ্তাহে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ পাঁচজন বনদস্যু নিহত ও একজন গ্রেফতার হয়েছে। তাদের কাছ থেকে আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলিও উদ্ধার করা হয়েছে।
গত বছরের পহেলা নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সুন্দরবনকে আনুষ্ঠানিকভাবে দস্যুমুক্ত ঘোষণা করেন। কিন্তু দু’মাস যেতে না যেতেই আবারও সুন্দরবনে শুরু হয়েছে দসু্যুদের তত্পরতা।
জেলেরা জানান, সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত ঘোষণার পর কিছুদিন বনজীবীরা নির্ভয়ে সুন্দরবনে কাজ করতে পেরেছে। তবে দু’মাস যেতে না যেতেই ছোট ছোট কয়েকটি দস্যু বাহিনীর আবির্ভাব ঘটে সুন্দরবনের সাতক্ষীরা, খুলনা ও চাঁদপাই রেঞ্জের কিছু এলাকায়। ফের শুরু হয় বনজীবীদের জিম্মি ও মুক্তিপণ আদায়ের ঘটনা। তবে র্যাব ও কোস্টগার্ড সদস্যরা থেমে থাকেনি। তারা নতুন এ সকল দস্যু বাহিনীর সন্ধানে সুন্দরবনের অভ্যন্তরে অভিযান পরিচালনা করছে। এরই অংশ হিসেবে গত সাত দিনে পৃথক অভিযানে ৫ জন বনদস্যু নিহত হয়েছে।
র্যাব-৮ এর সূত্র জানায়, গত ২৫ ফেব্রুয়ারি সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জে র্যাবের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ বনদস্যু আরিফ বাহিনীর প্রধানসহ চার দস্যু নিহত হয়েছে। নিহতরা হচ্ছে, আব্দুল আউয়ালের ছেলে মো. আলিম ওরফে আরিফ, আফজাল হাওলাদারের ছেলে রাজু, আলতাফ হাওলাদারের ছেলে সোহেল ও রুবেল। ১৮ ফেব্রুয়ারি সুন্দরবনের পশ্চিম বন বিভাগের দাকোপ অঞ্চলে কোস্টগার্ডের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ আছাবুর বাহিনীর একজন সদস্য নিহত হয়। এ সময় সেখান থেকে চারটি দেশি বন্দুক ও একরাউন্ড গুলি উদ্ধার করে কোস্টগার্ড। একই দিনে র্যাব-৬ এর সদস্যরা কয়রার বাড়ইখালী গ্রামে অভিযান চালিয়ে কামরুল ইসলাম মোড়ল নামের একজন বনদস্যুকে গ্রেফতার করে। সুন্দরবনের ওপর নির্ভরশীল জেলে, বাওয়ালী, মৌয়ালরা জানান, জানুয়ারি মাসের মাঝামাঝি সময়ে সুন্দরবনে ছোট ছোট কয়েকটি দস্যু বাহিনী সংগঠিত হয়েছে। তারা জেলেদের অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায় করে চলেছে।
সূত্র মতে, খুলনা, বাগেরহাট ও সাতক্ষীরা জেলায় অবস্থিত পৃথিবীর একক বৃহত্তম প্রাকৃতিক ম্যানগ্রোভ সুন্দরবন। সুন্দরবনকে ঘিরে এ সকল জেলার উপকূলীয় অঞ্চলের লাখ লাখ মানুষ যুগ যুগ ধরে জীবিকা নির্বাহ করছে। বর্তমান সরকারের ঘোষণা মোতাবেক ২০১৬ সাল থেকে সুন্দরবনের জলদস্যু-বনদস্যুদের আত্মসমর্পণের প্রক্রিয়া শুরু হয়।
