বিএনপি-ঐক্যফ্রন্টের সিদ্ধান্ত মানবেন না তাদের নির্বাচিত দুই সংসদ সদস্য সুলতান মোহাম্মদ মনসুর ও মোকাব্বির খান। তারা ঘোষণা দিয়েছেন মার্চের দ্বিতীয় সপ্তাহে সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণ করবেন। তাদের এই সিদ্ধান্ত জানার পর বিরক্ত ও ক্ষুব্ধ হয়েছে বিএনপি। তারা বলছে, এটা যদি সত্যি তারা করে তবে ঐক্যফ্রন্টের বিশ্বাস ও আস্থার জায়গা ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
সিলেট-২ (ওসমানীনগর-বিশ্বনাথ) আসন থেকে নির্বাচিত গণফোরামের কেন্দ্রীয় প্রেসিডিয়াম সদস্য মোকাব্বির খান জানান, ১৪ বা ১৫ মার্চ শপথ নেবেন তারা। সেভাবেই তিনি প্রস্তুতি গ্রহণ করেছেন। তিনি বলেন, এলাকার নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ আমাকে তাদের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হিসেবে সংসদে দেখার দাবি এবং অনুরোধ জানিয়েছেন। তাদের অনুরোধ আমি অবজ্ঞা করতে পারিনা। আমি গত শনিবার আমার এলাকাবাসীর সামনে ঘোষণা দিয়েছি স্বাধীনতার মাস মার্চে শপথ গ্রহণ করবো। তিনি বলেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার পর দলীয় সিদ্ধান্তে এতদিন শপথগ্রহণ থেকে বিরত ছিলাম। ঐক্যফ্রন্টের শরিক বিএনপির সংসদ সদস্যরা শপথ নিবে কি নিবে না সেই সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় ছিলাম। তারা সিদ্ধান্ত নিতে না পারায় এবার আমি শপথ নেয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছি। মোকাব্বির খান ৩০ ডিসেম্বর গণফোরামের উদীয়মান সূর্য প্রতীকে এমপি নির্বাচিত হয়েছেন।
এদিকে মৌলভীবাজার-২ আসনে ধানের শীষ প্রতীকে বিজয়ী সুলতান মোহাম্মদ মনসুর বৃহস্পতিবার সিলেট হজরত শাহজালাল (রহ.) ও হজরত শাহপরাণ (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করে ঘোষণা দিয়েছেন মার্চের ১৫ তারিখের মধ্যে সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিবেন। ইত্তেফাককে তিনি বলেন, আমার নির্বাচনী এলাকার একশো ভাগ মানুষই চায় আমাকে সংসদে দেখতে। আমি তাদের কথার বাইরে যেতে পারিনা। আমি গণফোরামের কোন কর্মকর্তা নই। যেহেতু নিবন্ধিত কোন দলের সদস্য হয়ে নির্বাচন করতে হয় সে জন্য গণফোরামের সদস্য হিসেবে নির্বাচন করেছিলাম। আমরা দু’জন সদস্যই শপথ গ্রহণ করবো।
এদিকে ঐক্যফ্রন্টের ৩১ জানুয়ারির বৈঠকে গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন জানিয়েছিলেন, গণফোরাম থেকে নির্বাচিত দুইজন এমপি হিসাবে শপথ নেবেন না। তার দল এবং ফ্রন্টের সিদ্ধান্তের বাইরে কেউ সংসদে গেলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। গণফোরাম নেতারা জানিয়েছেন, দলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কেউ অবস্থান নিলে তাকে দলীয় গঠনতন্ত্র অনুযায়ী বহিষ্কার করা হবে।
প্রসঙ্গত, ব্যাপক অনিয়ম ও ‘ভোট ডাকাতি’র অভিযোগ এনে ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচন এবং ফলাফল প্রত্যাখ্যান করে ঐক্যফ্রন্ট সংসদে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। নির্বাচনে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ দলটির ছয় জন এবং জোটের শরিক গণফোরাম থেকে দু’জন সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। বর্তমানে ঐক্যফ্রন্টের মোট সংসদ সদস্য ৮ জন। বিধান অনুযায়ী সংসদের প্রথম অধিবেশন বসার পর ৯০ দিনের মধ্যে শপথ নেওয়ার সুযোগ থাকে। সে হিসাবে তাদের ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত সুযোগ রয়েছে।
