কারুশিল্পীরা আমাদের হাজার বছরের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে গভীরভাবে মমত্ব দিয়ে লালন করে। শিল্পীদের সৃষ্টিশীলতা পরিশীলিত হয়ে আজ ধ্রুপদী মর্যাদায় অভিষিক্ত হয়েছে। কারুশিল্পীরা আমাদের লোক সংস্কৃতির প্রাণপুরুষ। জাতীয় জাদুঘর নান্দনিক কারুশিল্পীদের জীবন ও কর্ম নিয়ে যে প্রদর্শনীর আয়োজন করেছে তা থেকে শিল্পীদের আনন্দ-বেদনার নানা দিক সম্পর্কে জানা যাবে।
শুক্রবার জাতীয় জাদুঘর আয়োজিত শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদ্যাপন উপলক্ষে ‘কারুশিল্পীদের জীবন ও কর্ম’ নিয়ে পাঁচদিনব্যাপী প্রদর্শনীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তারা এসব কথা বলেন। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত বেলুন উড়িয়ে ও ফিতা কেটে এই প্রদর্শনীর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।
কারুশিল্প প্রদর্শনী উদ্বোধনের আগে অর্থমন্ত্রী তাঁর বাবা আবুল আহমেদ আব্দুল হাফিজ-এর ১৯৮৪ সালে জাদুঘরে উপ?হার দেয়া মোগল সম্রাট দ্বিতীয় শাহ আলমের স্বর্ণমুদ্রা, তুলট কাগজে লেখা কোরআন শরীফের পাণ্ডুলিপি এবং একটি হুক্কা বোর্ড অব ট্রাস্টিজ সভাকক্ষে পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনের সময় অর্থমন্ত্রীর ভাই ও বোনেরা উপস্থিত ছিলেন।
কারুশিল্প মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান জাতীয় জাদুঘর বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সদস্য প্রফেসর নজরুল ইসলাম, স্বাগত বক্তব্য রাখেন জাতীয় জাদুঘরের মহাপরিচালক ফয়জুল লতিফ চৌধুরী। অর্থমন্ত্রীকে সিলেটে তৈরি একটি শীতল পাটি সৌজন্য উপহার হিসাবে প্রদান করেন। ফয়জুল লতিফ চৌধুরী আগামী বছরও জীবন্তভাবে কারুশিল্পীদের উপস্থাপন করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
আলোচক ড. আমিনুর রহমান সুলতান ঐতিহ্যবাহী কারুশিল্পীদের জীবন ইতিহাস নিয়ে চমত্কার একটি তথ্যবহুল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। জাতীয় জাদুঘর বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সভাপতি এম. আজিজুর রহমান ধন্যবাদ জ্ঞাপন করে বলেন, জাতীয় জাদুঘরের এ আয়োজনটি এদেশের কারুশিল্পীদের পৃষ্ঠপোষকতার ক্ষেত্রে দারুণ অবদান রাখবে।
সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক নজরুল ইসলাম বলেন, কারুশিল্পীরা হলেন আমাদের লোক সংস্কৃতির প্রাণপুরুষ। এদের নান্দনিক কাজগুলোই হাজার বছরের সংস্কৃতিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে।
এছাড়া শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে জাতীয় জাদুঘর আজ ৩ পর্বের অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করেছে। সকাল ১০ টায় প্রধান মিলনায়তনে আয়োজন করা হয়েছে চলচ্চিত্র প্রদর্শনী। জহির রায়হানের ‘জীবন থেকে নেয়া’ পূর্ণ দৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র বিনা টিকিটে দেখা যাবে। সকাল ১১ টায় জাদুঘর প্রাঙ্গণে আয়োজন করা হয়েছে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। শিল্পী কিরণ চন্দ্র রায়, শিল্পী ফরিদা পারভীনসহ দেশের খ্যাতনামা শিল্পীবৃন্দ সঙ্গীত ও নৃত্য পরিবেশন করবেন। এছাড়া থাকছে কবিতা পাঠের আসর।
অনুষ্ঠানমালার অংশ হিসাবে আয়োজন করা হয়েছে ভাষা বিনিময় মেলা। বাংলাদেশে বসবাসরত বিভিন্ন ভাষাভাষীর প্রতিনিধিবৃন্দ ২৭টি স্টলে তাদের ভাষা ও সংস্কৃতি প্রদর্শন করবেন এবং আগ্রহী দর্শনার্থীদের সাথে নিজস্ব ভাষায় মতবিনিময় করবে। সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর প্রধান অতিথি হিসাবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও ভাষা বিনিময় মেলা উদ্বোধন করবেন।
