থেরেসা মে কি এতকিছু সামাল দিতে পারিবেন?

আপডেট : ১৯ নভেম্বর ২০১৮, ২১:৪৩

ব্রেক্সিটের পরিণতি শেষাবধি কী হইতে যাইতেছে— তাহা অন্য কেহ দূরে থাকুক, খোদ ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মেও অনুমান করিতে পারিতেছেন না বলিয়াই প্রতীয়মান হইতেছে। এইদিকে, নিজ দল কনজারভেটিভ পার্টির ভিতরে বিরোধীরা এতটাই শক্তিশালী হইয়া উঠিয়াছেন যে, তাহারা যেকোনো সময়ে মে-এর বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনয়নের জন্য গাঁটছড়া বাঁধিতে শুরু করিয়া দিয়াছেন। এমতাবস্থায়, ক্ষমতার তরীটি বাঁচাইবার জন্য থেরেসা মে এইবার মোক্ষম একটি অস্ত্র ব্যবহার করিয়া বসিয়াছেন। সেই অস্ত্রটি হইল অভিবাসী-আতঙ্ক। বোধগম্য যে, জনমন আকৃষ্ট করিবার জন্যই তিনি এই অস্ত্রটি ব্যবহার করিলেন। অবশ্য এই আতঙ্ক ব্যবহার করিয়াও মে শেষাবধি কতখানি টিকিতে পারিবেন— তাহা লইয়া বেশিরভাগ পর্যবেক্ষক ঘোর সংশয়ের মধ্যে রহিয়াছেন।

গতকাল সোমবার ব্রিটিশ বণিকদের প্রভাবশালী সংস্থা কনফেডারেশন অফ ব্রিটিশ ইন্ডাস্ট্রিজ (সিবিআই) এর বার্ষিক সম্মেলনে প্রদত্ত ভাষণে থেরেসা মে জানান, ব্রেক্সিটের যেই খসড়াটি তিনি প্রস্তুত করিয়াছেন তাহাই ব্রিটেনের জন্য সর্বোচ্চ স্বার্থবাহী। এই প্রসঙ্গে তিনি আরও জানান যে, ব্রেক্সিটের পরে ইইউভুক্ত দেশগুলি হইতে আগত অভিবাসীদের জন্য ব্রিটেন আর কোনোভাবেই মুক্ত-দ্বার থাকিবে না। ইইউ হইতে আগত লোকজনকে কেবল ইইউ পরিচয়ে নহে, বরং অন্যদের মতোই মেধা ও দক্ষতার পরিচয় দিয়াই ব্রিটেনে অভিবাসী হইতে হইবে। উল্লেখ্য, বর্তমান আইনের আওতায় ইইউ-এর যেকোনো সদস্য দেশের নাগরিকেরা বর্তমানে ব্রিটেনে আগমন ও অবস্থান করিতে পারেন। একইভাবে ব্রিটিশ নাগরিকেরা ইইউ-এর যেকোনো দেশে এ ধরনের সুবিধা ভোগ করিয়া থাকেন। মে-এর প্রস্তাব মোতাবেক ব্রেক্সিটের পরে ব্রিটেন ইইউ-এর নাগরিকদের জন্য এহেন প্রতিকূল হইয়া উঠিলে, ইইউভুক্ত দেশগুলিতে বসবাসকারী লক্ষ-লক্ষ ব্রিটিশের কী হইবে? অনেক বিশ্লেষক মনে করিতেছেন যে, নানান সময়ে অভিবাসী-আতঙ্ক ছড়াইয়া কার্যসিদ্ধি সম্ভব হইলেও এইবার তাহার ব্যতিক্রম হইবে। কেননা, ইইউ-এর নাগরিকদের জন্য ব্রিটেন কড়াকড়ি করিলে, ইউরোপে অবস্থানরত ব্রিটিশদেরও একইরকম প্রতিক্রিয়ার জন্য প্রস্তুত থাকিতে হইবে।

এইদিকে, মে উত্থাপিত খসড়ায় ইউরোপের সহিত ব্রিটেনের ভবিষ্যত্ বাণিজ্য সম্পর্কের ব্যাপারেও অস্পষ্টতা রহিয়া গিয়াছে। এই বিষয়টি লইয়া থেরেসা মে পড়িয়া গিয়াছেন উভয় সংকটে। একদিকে, কড়া-ব্রেক্সিটপন্থিরা ব্রিটেনের স্বার্থ বিলাইয়া দিবার দায়ে মে’কে অভিযুক্ত করিতেছেন। অন্যদিকে, ইইউ-এর সঙ্গে ভবিষ্যত্ সম্পর্কের প্রসঙ্গে মে যেইসব প্রস্তাব উত্থাপন করিতেছেন সেইগুলি নিতান্তই অপ্রতুল। ইইউ একইসঙ্গে জানাইয়া দিয়াছে যে, ব্রিটেনকে নিতান্ত চড়া দামেই ব্রেক্সিট কিনিয়া লইতে হইবে।

থেরেসা মে-এর বিপদের এইখানেই শেষ নহে। মে-এর উত্থাপিত ব্রেক্সিট খসড়াটিকে ‘নিতান্ত অসম্পূর্ণ’ ও ‘ভবিষ্যত্ দিক-নির্দেশনাহীন’ হিসাবে চিহ্নিত করিয়াছেন বিরোধীদল লেবার পার্টির নেতা জেরেমি করবিন। তাহার মতে, ব্রেক্সিট এমনভাবে হইতে হইবে যাহা কিনা ব্রিটেনের সকল অঞ্চলে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান সুনিশ্চিতভাবে বৃদ্ধি করিবে। মে-এর প্রস্তাবে এই প্রসঙ্গগুলি অনুপস্থিত বলিয়া দাবি করিয়াছেন করবিন। এইসবের বাহিরে, ব্রেক্সিট প্রসঙ্গে দ্বিতীয় গণভোটের দাবিও ব্রিটেনজুড়িয়া ক্রমাগত শক্তিশালী হইয়া উঠিয়াছে। থেরেসা মে এতকিছু সামাল দিতে পারিবেন কি?