মুন্সীগঞ্জে বৌদ্ধ নগরী পরিদর্শন ভারত চীন ও কোরিয়ার ভিক্ষুদের

আপডেট : ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৫, ১৭:৫৪

মুন্সীগঞ্জের নাটেশ্বরে চীন ও বাংলাদেশের যৌথ খননে আবিষ্কৃত প্রায় এক হাজার বছরের প্রাচীন বৌদ্ধ নগরী পরিদর্শন করেছেন ভারত, চীন ও কোরিয়ার প্রত্নতত্ত্ববীদ ও বৌদ্ধ ভিক্ষুরা।
মঙ্গলবার দুপুরে ২০ জন প্রত্নতত্ত্ববীদ ও বৌদ্ধ ভিক্ষু নাটেশ্বর গ্রামে আসেন। প্রথমে তারা নাটেশ্বরে আবিষ্কৃত বৌদ্ধ নগরীর পুরাকীর্তি ঘুরে-ফিরে দেখেন এবং পরে তারা জেলা সদরের বজ্রযোগিনী গ্রামে অতীশ দ্বীপংকরের বাস্তুভিটা পরিদর্শন করেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিক্রমপুর অঞ্চলে প্রত্নতাত্ত্বিক খনন ও গবেষণা প্রকল্পের পরিচালক নূহ-উল-আলম লেনিন, প্রকল্পটির গবেষণা পরিচালক ড. সুফি মোস্তাফিজুর রহমান, চায়না বুদ্ধিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের তিব্বত শাখার চেয়ারম্যান দ্রুব কাং, চীনের হুনান প্রভেন্সিয়াল ইনস্টিটিউশন অব কালচারাল রেলিকস্ অ্যান্ড আরকিউলজির অধ্যাপক চাই হুয়ারবো, কোরিয়ার বুদ্ধিস্ট জেনি লি, ডেনিয়েল হু, শাওন কিন, মুন্সীগঞ্জ সদর সার্কেল এএসপি মো. এমদাদ হোসেন প্রমুখ।
উল্লেখ্য, গত ১৬ ফেব্রুয়ারি সকালে নাটেশ্বর গ্রামে প্রত্নতাত্ত্বিক খননে হাজার বছর আগের প্রাচীন বৌদ্ধ নগরী আবিস্কারের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন বিক্রমপুর অঞ্চলে প্রত্নতাত্ত্বিক খনন ও গবেষণা প্রকল্পের পরিচালক নূহ-উল-আলম লেনিন। তিনি বলেন চীন ও বাংলাদেশের যৌথ প্রত্নতাত্ত্বিক খননে গত প্রায় দু’মাসে অষ্টোকোণাকৃতি স্তূপের অবশিষ্ট অসাধারণ বাহু, কোন এবং অভ্যন্তরীণ অষ্টোকোণাকৃতি স্তূপ, চ্যাম্বার ও মণ্ডপসহ নানা কিছু। প্রাচীন ইট নির্মিত দু’টি পাকা রাস্তার নির্মাণ শৈলীও আকর্ষণীয়। ২ দশমিক ৭৫ মিটার প্রশস্ত আকাবাঁকা একটি বিশেষ দেয়াল। ৭ মিটার গভীরতায় ৫টি নির্মাণযুগের প্রত্ননিদর্শন; বিক্রমপুরের দীর্ঘ সময় ব্যাপী এক সমৃদ্ধ সভ্যতার সাক্ষ্য বহন করে। যৌথ প্রত্নতাত্ত্বিক এই খনন কাজে চীনের চারজন এবং দেশের ২০ জন গবেষক অংশ নেন। চলতি মাস পর্যন্ত এই খনন শেষে এগুলো ঢেকে রাখা হবে। আগামী নভেম্বর থেকে পুনরায় আবার খনন শুরু হবে।