জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট ও জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। বুধবার সকালে রাজধানীর বকশীবাজার এলাকায় আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে অবস্থিত ঢাকার বিশেষ আদালত জজ-৩ এর বিচারক আবু আহমেদ জমাদ্দার তার জামিন ও সময় আবেদন খারিজ করে দিয়ে এ পরোয়ানা জারি করেন।
এছাড়া মামলায় আরো দুই আসামীর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। তারা হচ্ছেন- মাগুরার সাবেক এমপি কাজী সালিমুল হক কামাল ও ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ।
পৃথক দুর্নীতি মামলায় আজ ধার্য তারিখে খালেদা জিয়া হাজির হননি। খালেদা জিয়ার পক্ষে তার আইনজীবী সানাউল্লাহ মিয়া সময়ের আবেদন করেন।
আবেদনে উল্লেখ করা হয়, বেগম খালেদা জিয়া হরতাল-অবরোধে নিরাপত্তাজনিত কারণে আদালতে হাজির হতে পারেননি। এছাড়া বিচারকের প্রতি অনাস্থা জানিয়ে আনা আবেদন হাইকোর্টে পোন্ডং থাকায় সাক্ষ্যগ্রহণ মুলতবি রাখার আর্জি জানানো হয়। আদালত আবেদন বাতিল করে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে আদেশ দেয়।
আজ জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার বাদী ও মামলার প্রথম সাক্ষী দুদকের উপ-পরিচালক হারুন-অর-রশিদের অসমাপ্ত সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য দিন ধার্য রয়েছে। সাক্ষ্য দিতে আদালতে হাজির হন এ সাক্ষী।
এর আগে গত ২৯ জানুয়ারি সর্বশেষ ধার্য তারিখেও নিরাপত্তাজনিত কারণ এবং খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর মৃত্যুর কারণ দেখিয়ে আদালতে হাজির না হয়ে সময়ের আবেদন জানান খালেদা জিয়া। ওই সময়ের আবেদন মঞ্জুর করে আজ ২৫ ফেব্রæয়ারি পর্যন্ত সাক্ষ্যগ্রহণ মুলতবি করে আদেশ দিয়েছিল আদালত ।
আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে আইনজীবী ছিলেন এডভোকেট মোশাররফ হোসাইন কাজল।
এর আগে ৫ কার্যদিবস জিয়া অরফানেজ ট্রাষ্ট-সংক্রান্ত দুর্নীতি মামলার বাদী দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) উপ-পরিচালক হারুন-অর-রশীদ আদালতে আংশিক সাক্ষ্য দেন। তার সাক্ষ্য পেশ অসমাপ্ত রয়েছে। খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতিতেই মামলায় গত বছর ২২ সেপ্টেম্বর সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়।
জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের নামে দুর্নীতির অভিযোগে ২০০৮ সালের ৩ জুলাই রমনা থানায় দুদক মামলা দায়ের করে। এ মামলায় ২০০৯ সালের ৫ আগস্ট দুদক অভিযোগপত্র দাখিল করে।
জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাষ্টের নামে অবৈধভাবে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ এনে খালেদা জিয়াসহ চারজনের নামে ২০১১ সালের ৮ আগস্ট তেজগাঁও থানায় মামলা দায়ের করেন দুদকের সহকারী পরিচালক হারুনুর রশিদ।
২০১২ সালের ১৬ জানুয়ারি এ মামলায় আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। গত ১৯ মার্চ দুই মামলায় খালেদা জিয়া ও তার বড় ছেলে বিএনপি’র সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ অন্য আসামীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ (চার্জ) গঠন করে ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৩।
