প্রধানমন্ত্রীর সহায়তা পাননি সিরাজগঞ্জে অগ্নিদগ্ধরা

আপডেট : ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৫, ০০:৫৩

গত ৩১ জানুয়ারি চলন্ত সিএনজিতে পেট্রোল বোমা হামলায় নিহত হন সিরাজগঞ্জের পান ব্যবসায়ী গনেশ দাস (৪৫)। সংসারের একমাত্র উপার্জনক্ষম মানুষটিকে হারিয়ে সন্তানদের নিয়ে স্ত্রী রূপালী দাস (৩৫) এখন মানবেতর জীবনযাপন করছেন। এ ঘটনায় গনেশের সহযাত্রী সুবীর চন্দ্র কুন্ডুসহ আরো চারজন অগ্নিদগ্ধ হয়েছেন। তারা এখনও অসুস্থ। রোজগার বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তাদের পরিবারের সদস্যরা চোখেমুখে অন্ধকার দেখছেন। কিন্তু ঘটনার ২৫ দিন পার হলেও অসহায় এই পরিবারগুলো প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে প্রয়োজনীয় আর্থিক সহায়তা পাননি। গুরুতর আহত সুবীর চন্দ্র কুন্ডুর স্ত্রী বিথিরানী কুন্ডুসহ অন্যরা আর্থিক সহায়তা চেয়ে প্রধানমন্ত্রী বরাবর লিখিত আবেদন করেছেন বলে জানা গেছে।

নিহত গনেশ শহরের বানিয়াপট্টি এলাকার কুঞ্জু লালের ছেলে। সরেজমিনে তার বাসায় গিয়ে দেখা গেছে, গৌরব (১০) আর সৌরভ (৪) নামে তার ২টি শিশুসন্তান রয়েছে। গৌরব স্থানীয় সবুজ কানন হাই স্কুলে ৮ম শ্রেণিতে পড়ে। গনেশের নিজের কোনো বসতভিটে নেই। বড়বাজারে ছোট একটি দোকান ভাড়া করে পান বিক্রি করতেন। সেখানেই এক ভাড়া বাসায় পরিবার নিয়ে বসবাস। হতভাগ্য এই সংসারে আয়-রোজগার করবার মত এখন আর কেউ নেই। অকালে স্বামীকে হারিয়ে ভেঙ্গে পড়েছেন রূপালী। নাওয়া-খাওয়া প্রায় ছেড়েই দিয়েছেন। নাবালক সন্তান ২টিকে নিয়ে কিভাবে চলবে তার জীবন-সংসার, সন্তানদেরই বা কিভাবে মানুষ করবেন- সে দুশ্চিন্তায় তিনি এখন নির্বাক হয়ে গেছেন।  
মোক্তারপাড়া শিরাজী রোড মহল্লার শ্রী শম্ভুনাথ কুন্ডুর পুত্র সুবীর চন্দ্র কুন্ডু (৪৮) এখনো শয্যাশায়ী। বোমার আগুনে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ঝলসে যাওয়ায় দগদগে ক্ষত নিয়ে তিনি বিছানায় যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছেন। একদিকে আয় বন্ধ, অন্যদিকে ব্যবসার পুঁজি হারিয়ে নিথর দেহ নিয়ে তিনি শুধু কাঁদেন। সুবীর জানান, আন্দোলনের নামে আমাদের মত সাধারণ মানুষকে যেভাবে পুড়িয়ে মারা হচ্ছে আমরা এর উপযুক্ত বিচার চাই।
এলাকাবাসী জানান, ঘটনার পর স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম নিহত গনেশের বাড়ি গিয়ে শোকার্ত পরিবারকে সান্ত্বনা দিয়ে তাদের প্রয়োজনীয় ক্ষতিপূরণ প্রদানের আশ্বাস দিয়েছিলেন। এছাড়া স্থানীয় এমপি ডা. হাবিবে মিল্লাতও তাদের প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে সহায়তা দেবার আশ্বাস প্রদান করেন। এ ব্যাপারে সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসক বিল্লাল হোসেন জানান, সন্ত্রাসীদের হামলায় জেলায় একজন নিহত ও চারজন আহত হয়েছেন। এদের সকলকেই সরকারি সহায়তা দেয়া হবে। তবে কবেনাগাদ তারা সহায়তা পাবে সে ব্যাপারে তিনি কিছু বলতে পারেননি।

উল্লেখ্য, ওই দিন শহরের ৫ পান ব্যবসায়ী রাজশাহী পানের মোকামে যাবার উদ্দেশে বাড়ি থেকে বের হয়েছিলেন। রাত সাড়ে আটটার দিকে শহরের রামগাতি এলাকায় তাদের বহনকারী অটোরিক্সায় পেট্রোল বোমা হামলা চালায় দুর্বৃত্তরা। এতে গনেশ দাস ঘটনাস্থলেই নিহত হন। এ ঘটনায় সুবীর চন্দ্র কুন্ডু ছাড়াও অগ্নিদ্গ্ধ হয়ে এখন চিকিত্সাধীন আছেন সিরাজগঞ্জ পৌর এলাকার মিরপুর মহল্লার আখতার হোসেনের ছেলে আলহাজ (৩৫), বারাকান্দি গ্রামের হেমায়েত হোসেনের ছেলে সায়েম (৪০) ও খোকশাবাড়ী ইউনিয়নের আবুল হোসেনের ছেলে আবু সাঈদ (৪৫)। এরাও কোনো প্রকার সহায়তা পাননি বলে জানা গেছে।