‘রাজশাহীর রাজৈর সম্প্রদায়ের শিশুরা স্কুলে ভর্তির সুযোগ পায় সাধারণ বাংলাদেশি শিশুরা ভর্তি হওয়ার পর। কলকামরা সম্প্রদায়ের শিক্ষার্থীরা বৈষ্যমের শিকার হচ্ছে স্কুলে কম্পিউটার শিক্ষায়। তাদের অভিযোগ, স্কুলের শিশুদের ভিন্ন ধর্ম শিক্ষার বই পড়তে বাধ্য করা হচ্ছে। সাধারণ শিশুরা নতুন বই পেলেও বাঘধি সম্প্রদায়ের শিশুরা পাচ্ছে পুরাতন বই। শিক্ষকরাও তাদের শিশুদের প্রতি কম গুরুত্ব দিচ্ছেন। উত্তরবঙ্গের আদিবাসীরা এ রকম অনেক বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন। শুধু শিক্ষা ক্ষেত্রে নয়, অর্থনৈতিক, সামাজিকসহ সরকারি চিকিৎসাসেবা গ্রহণেও তারা বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন।’
হিউম্যান ডেভেলপমেন্ট রিসার্চ সেন্টারের (এইচডিআরসি) এক গবেষণায় এসব তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, জরিপকালে নওঁগার চণ্ডাল সম্প্রদায়ের উত্তরদাতারা জানিয়েছেন, আদিবাসী হওয়ার কারণে ডাক্তাররা তাদের ঠিকমতো চিকিৎসা সেবা দেয়না। রাজশাহীর কলকামরা সম্প্রদায়দের প্রতি খুব খারাপ ব্যবহার করেন স্বাস্থ্য সেবাদানকারীরা। ভূমিজ সম্প্রদায়ের অনেকেই হাসপাতালে সিট পায়নি।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর একটি কনভেনশন সেন্টারে আনুষ্ঠানিক ভাবে এ প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করেন গবেষণা দলের প্রধান অধ্যাপক ড. আবুল বারকাত। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন, অর্থনীতি সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. আশরাফ উদ্দিন চৌধুরী।
ড. আবুল বারকাত উল্লেখ করেন, ২০১২-১৩ সালের সরকারি হিসেবে দেশে আদিবাসীর সংখ্যা আড়াই লাখ। কিন্তু আমাদের হিসেবে পাঁচ লাখ। সরকারি হিসেবে ২৭টি খুদ্র নৃগোষ্ঠী থাকলেও আমাদের হিসেবে ৪৯টি। এভাবে অনেক ভুল তথ্য রয়েছে।
গবেষণা প্রতিবেদনের বিষয়ে তিনি বলেন, রাজশাহী, নওঁগা এবং দিনাজপুরের ৪৮টি গ্রামে এ জরিপ করা হয়েছে। এতে অনেকেই উল্লেখ করেছেন, তারা সমান পরিশ্রম করলেও তুলনামূলক কম মজুরি পাচ্ছেন। আাইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কাছেও তারা কম গুরুত্ব পেয়ে থাকেন। সামাজিক সুরক্ষা সহায়তার ক্ষেত্রেও তারা বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন।
এ ধরণের নানা বৈষম্যের শিকার জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে তাদের আইনগত সুরক্ষাসহ বিভিন্ন সুপারিশ করা হয়েছে প্রতিবেদনে।
