বাংলাদেশের খেলার জন্য দুপুরে কিছুটা ফাঁকা থাকলেও বিকাল থেকেই মানুষের ঢল নেমেছিল বইমেলায়। আজ বাদে কাল শনিবার মেলার শেষ দিন। তাই কেউ আর দেরি করছেন না পছন্দের বইটি সংগ্রহ করতে। সবার হাতে হাতে বই। স্টলে বইপ্রেমিকদের ভিড়। বই কিনে সবাই হাসিমুখে বাড়ি ফিরেছেন। ভিড় ঠেলে, স্টলের সামনে দীর্ঘসময় অপেক্ষা করে বই সংগ্রহ করেছেন সবাই। মা-বাবা ছেলেমেয়েদের নিয়ে ঘুরে ঘুরে কিনেছেন বই। কেউ কেউ ছবি তুলছেন মেলায় আসা প্রিয় লেখকের সঙ্গে, নিচ্ছেন অটোগ্রাফ। ছবি তুলছেন ভাষা শহীদদের প্রতিকৃতির সামনে দাঁড়িয়ে। আজ শুক্রবার সকাল থেকেই খুলে যাবে মেলা। আর শেষ ছুটির দুটি দিনে মেলা যে জমে উঠবে তা বলার অপেক্ষা রাখে না।
সাতদিন মেলার সময় বাড়ানোর দাবি প্রকাশকদের
মেলাকে সাত দিন বাড়াতে সাত দফা দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ জ্ঞান ও সৃজনশীল প্রকাশক সমিতি। সাত দফা দাবির অন্যতম হলো- মেলাকে সাতদিন বাড়ানো ও ক্ষতিপূরণ দেয়া। সেই সঙ্গে আগামীবারের মেলা বাংলা একাডেমির পরিবর্তে প্রকাশকদের দিয়ে আয়োজন করা। বৃহস্পতিবার বিকালে মেলার সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশের উন্মুক্ত প্রাঙ্গণে বাংলাদেশ জ্ঞান ও সৃজনশীল প্রকাশক সমিতির ‘প্রকাশকদের ক্ষতিপূরণ প্রদান ও অমর একুশে গ্রন্থমেলার সময়বৃদ্ধি’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে সভাপতি ওসমান গনি এসব দাবি জানান।
ওসমান গনি বলেন, ‘দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতা, হরতাল-অবরোধ সহিংসতার কারণে গত ২৬ দিনে বই বিক্রির সামগ্রিক চিত্র হতাশাজনক। প্রকাশকরা বই প্রকাশের জন্য বিপুল অংকের অর্থ লগ্নি করলেও প্রত্যাশার চেয়ে অনেক কম বিক্রি হওয়ায় চরম আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।
মেলার সময়সীমা ঐতিহাসিক ৭ মার্চ পর্যন্ত বাড়ানোর দাবি জানিয়ে সংগঠনের পক্ষ থেকে তিনি বলেন, একইসাথে ৭ মার্চ পর্যন্ত সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাপনী অনুষ্ঠান করা যেতে পারে। এর ফলে বইমেলা ভিন্নমাত্রা পাবে।’
জ্ঞান ও সৃজনশীল প্রকাশক সমিতির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মফিদুল হক সাত দিন বাড়ানোর দাবি জানিয়ে বলেন, ঐ সময়কালে ‘সহিংসতার বিরুদ্ধে বই’ শিরোনামে মেলা আয়োজন করা যেতে পারে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও বক্তব্য রাখেন এমিরেটাস প্রকাশক ও ইউপিএলের স্বত্বাধিকারী মহিউদ্দিন আহমেদ, অবসর প্রকাশনীর আলমগীর রহমান, অনুপম প্রকাশনীর মিলনকান্তি নাথ, অন্য প্রকাশের প্রধান নির্বাহী মাজহারুল ইসলাম, কাকলী প্রকাশনীর এ কে এম নাছির আহমেদ সেলিম, সময় প্রকাশনীর ফরিদ আহমেদ, সৃজনশীল প্রকাশক সমিতির নির্বাহী পরিচালক কামরুল হাসান শায়ক প্রমুখ।
সিটি-আনন্দ আলো সাহিত্য পুরস্কার ঘোষণা
প্রতিবারের মতো এবারও অমর একুশে গ্রন্থমেলা উপলক্ষে ঘোষণা করা হলো সিটি আনন্দ-আলো সাহিত্য পুরস্কার। দুই শাখায় ৬ জনকে এ বছরের পুরস্কারের জন্য বিবেচনা করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার বাংলা একাডেমিতে এক অনুষ্ঠানে পুরস্কারপ্রাপ্তদের নাম ঘোষণা করেন আনন্দ আলোর সম্পাদক রেজানুর রহমান।
‘ক’ শাখায় প্রবন্ধে সময় প্রকাশন থেকে প্রকাশিত শামসুজ্জামান খানের ‘রাষ্ট্র ধর্ম ও সংস্কৃতি’, উপন্যাসে অনন্যা থেকে প্রকাশিত ইমদাদুল হক মিলনের ‘সাড়ে তিন হাত ভূমি’, শিশুসাহিত্যে (যৌথভাবে) অনিন্দ্য প্রকাশ থেকে প্রকাশিত মোশতাক আহমেদের ‘হিমালয়ে রিবিট’, সময় থেকে প্রকাশিত আলম তালুকদারের ‘হাওয়া আর রোদের ছড়া’, কবিতায় কুঁড়েঘর প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত রেজাউদ্দিন স্টালিনের ‘বায়োডাটা’ পুরস্কার পেয়েছে।
‘খ’ শাখায় অনিন্দ্য থেকে প্রকাশিত মাহবুব আজীজের ‘ঠিক সন্ধ্যার আগে’, অন্বেষা প্রকাশন থেকে প্রকাশিত কুসুম সিকদারের ‘নীল ক্যাফের কবি’, সময়কাল থেকে প্রকাশিত গালিব রহমানের ‘যে সুতোয় বোনা যায় সমতল আবাস’ পুরস্কার পেয়েছে।
নতুন বই
গতকাল নজরুল মঞ্চে আতাউল করিমের গ্রন্থ ‘অদিতিদের গ্রাম্য খেলা’ শীর্ষক গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন করেন কবি আসাদ চৌধুরীর। এদিকে, বাংলা একাডেমির তথ্য অনুযায়ী, গতকাল মেলার ২৬তম দিনে নতুন বই এসেছে ১৩৪টি। এর মধ্যে গল্প ১৬, উপন্যাস ১৪, প্রবন্ধ ১৩, কবিতা ৪০, গবেষণা ৩, ছড়া ৮, শিশুসাহিত্য ৭, জীবনী ৩, বিজ্ঞান ৩, ভ্রমণ ৩, ইতিহাস ২, রাজনীতি ১, ধর্মীয় ১ এবং অন্যান্য বিষয়ের উপর এসেছে ২০টি বই। এছাড়া মেলার নজরুল মঞ্চে ৮টি বইয়ের মোড়ক উন্মোচিত হয়েছে।
মেলামঞ্চের আয়োজন
গতকাল বিকালে মেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় ‘গত বছরে বাংলাদেশের কবিতা’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অধ্যাপক রফিকউল্লাহ খান। আলোচনায় অংশ নেন কবি মুহম্মদ নূরুল হুদা এবং রেজাউদ্দিন স্টালিন। সভাপতিত্ব করেন কবি আসাদ চৌধুরী।
সন্ধ্যায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
আজকের অনুষ্ঠান
আজ সকালে শিশু-কিশোর চিত্রাঙ্কন, আবৃত্তি এবং সাধারণ জ্ঞান ও উপস্থিত বক্তৃতা প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিশু-কিশোরদের পুরস্কার প্রদান করা হবে। অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন শিল্পী শাহাবুদ্দীন আহমদ। সভাপতিত্ব করবেন খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ।
বিকালে মেলার মূল মঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে ‘সাংবাদিক সন্তোষ গুপ্ত’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান।
