ঢাকায় ‘মুক্তমনা’ ব্লগের প্রতিষ্ঠাতা ও যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী অভিজিৎ রায়কে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যার প্রতিবাদে নিউইয়র্কে প্রতিবাদী সমাবেশ করেছেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার রাত ১০টায় জ্যাকসন হাইটসের ৭৩ স্ট্রিটে অনুষ্ঠিত এই সমাবেশ নিউইয়র্কের লেখক, সাংবাদিক, সাহিত্যিক, শিল্পী, সাংস্কৃতিক কর্মী ও প্রবাসী বাংলাদেশিরা অংশ নেন।
সমাবেশে বক্তারা অভিজিৎ রায় হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, স্বাধীনতাবিরোধী চক্র একাত্তরের মতই বাংলাদেশের তরুণ মেধাবীদের হত্যা করছে। এই জঙ্গি মৌলবাদী চক্রকে প্রতিহত করতে বাংলাদেশের লেখক, সাংবাদিক, সাহিত্যিক, শিল্পী, সাংস্কৃতিক কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে একই প্ল্যাটফরমে শক্ত অবস্থানে দাঁড়াতে হবে।
প্রতিবাদী এই সমাবেশের সঞ্চালক ছিলেন সাংস্কৃতিক কর্মী মিথুন আহমেদ। সমাবেশের শুরুতে প্রদীপ জ্বেলে অভিজিৎ রায় হত্যার প্রতিবাদ জানানো হয়।
সমাবেশে প্রবীণ সাংবাদিক সৈয়দ মোহাম্মদ উল্লাহ বলেন, আমাদের আর আপোসের রাজনীতি করলে চলবে না। আমাদের স্পষ্টভাবে অঙ্গীকার করতে হবে এই বর্বরদের সঙ্গে আমাদের কোনো রাজনীতি নয়। বর্বরদের কোনো সমাজ নয়, সখ্যতা নয় এবং তাদের বয়কট করতে হবে। তিনি বলেন, এর আগে সন্ত্রাসীরা ব্লগার রাজীব এবং প্রখ্যাত সাহিত্যিক হুমায়ূন আজাদকে হত্যা করেছে। তারা প্রখ্যাত কবি শামসুর রাহমানকে আঘাতের চেষ্টা করেছিল।
সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন টিভি অভিনেত্রী লুৎফুন নাহার লতা, চলচ্চিত্র নির্মাতা কবীর আনোয়ার, সিনিয়র সাংবাদিক শরীফ সাহাব উদ্দিন, মুজাহিদ আনসারী, আকবর হায়দার কিরণ, অপটিমিস্টস মিনহাজ আহম্মেদ, সাংস্কৃতিক কর্মী গোপাল স্যানাল, তানভীর রাব্বানী, যুক্তরাষ্ট্র মুক্তিযোদ্ধা যুব কমান্ডের সভাপতি জাকারিয়া চৌধুরী, যুব নেতা শিবলী সাদেক, টি মোল্লা, কায়কোবাদ খান, মুজাহিদ আনসারী, নূরুজ্জামান সরদার, সুবল দেবনাথ, দুরুদ মিয়া রণেল, শাকিল মিয়া প্রমুখ।
উল্লেখ্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি’র সামনে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার রাতে দুর্বৃত্তরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ব্লগার ড. অভিজিৎ রায়কে (৪২) হত্যা করে। এ সময় তাদের হামলায় তার স্ত্রী ডা. রাফিদা আফরিন বন্যা (৩৫) গুরুতর আহত হন।
