এনামুল হক বিজয় একা একা একটু মুখ কালো করে ঘুরছিলেন। মাশরাফি বিন মুর্তজা এসে মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে কি যেন বললেন। দূর থেকে কথা না শুনলেও ব্যাপারটা যে স্বান্তনা দেওয়া এটুকু বোঝা গেল। কিন্তু এই সান্ত্বনায় বিজয় তার একাধিক ক্যাচ ও রান আউট মিসের দুঃখ কতোটা ভুলতে পারবেন, বলা কঠিন।
শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ম্যাচের পর একদিন পার হয়ে গেলেও এই মিসগুলো আসলে কেউই ভুলতে পারছেন না।
এমন নয় যে, শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে বাংলাদেশের জয় কোনো নিশ্চিত ব্যাপার ছিল। শ্রীলঙ্কা শ্রেয়তর দল হিসেবেই জিতেছে। তারপরও দলের খেলোয়াড়দের অধিকাংশেরই বিশ্বাস, এইসব ছোটখাটো ভুল না করলে ফলাফলটা অন্যরকমও হতে পারতো।
বিশেষ করে এই ফিল্ডিং মিসের ব্যাপারটা এখনও পোড়াচ্ছে সবাইকেই। এই সবাইয়ের মধ্যে আছেন তাসকিন আহমেদ বা সৌম্য সরকারও। তাসকিন বলছিলেন, শ্রীলঙ্কার ব্যাটিংয়ের সময় রানটা এতো বেশী হয়ে গেছে যে, সেটা তাড়া করাটা আসলেই কঠিন ছিল, ‘আমরাই কিছু মিস করে আসলে ওদের অনায়াসে রান করতে দিয়েছি। শুরুতে কয়েকটা উইকেট নিয়ে নিতে পারলে এতো বেশি রান হয়তো হতো না। সে ক্ষেত্রে আমাদের ভালোই সম্ভাবনা ছিল। আমি মনে করি, তিন শ রানের আশেপাশে থাকলেও আমাদের সম্ভাবনা ছিল।’
তারপরও তাসকিন মনে করেন, ব্যাট হাতেও তাদের একটা সম্ভাবনা ছিল। সে সম্ভাবনাটাও শেষ হয়েছে শুরুতে পরপর কয়েকটা উইকেট হারানোয়, ‘শুরুতেই আমরা কয়েকটা উইকেট হারিয়ে ফেলায় আর রানটা তাড়াও করা সম্ভব হয়নি। সৌম্য ভালো শুরু করেছিল, সাকিব ভাই, মুশফিক ভাইও ভালো করছিলেন। কিন্তু উইকেট ওভারে হারানোতে আমরা আর রেসে থাকতে পারিনি।’
সৌম্যর কথাটা অনেকের মুখেই আসছে এখন।
দারুণ একটা শুরু করেছিলেন এই টপ অর্ডার ব্যাটসম্যান। এইরকম আরও খানিকটা সময় চালিয়ে গেলে হয়তো লক্ষ্যটা বাংলাদেশের নাগালে চলেও আসতে পারতো। এ ব্যাপারে খুব একটা দ্বিমত নেই সৌম্য সরকারের নিজেরও। তিনি বলছিলেন, ‘আমরা টপ অর্ডার থেকে আরও লম্বা দু একটা ইনিংস খেলতে পারলে পরে আমাদের ব্যাটিং লাইন আপ শক্তিশালীই ছিল। তারা হয়তো কিছু একটা করতে পারতেন।’
আফসোসটা অবশ্য সৌম্যরও সেই ফিল্ডিং নিয়ে। তিনিও মনে করেন, রানটা আরেকটু কম হলে লক্ষ্যে পৌছানো সম্ভবপর একটা ব্যাপারই ছিল, ‘ওদের রান অনেক বেশী হয়ে গেছে আসলে। তিন শ পার হয়ে যাওয়াটা অনেক বড় ব্যাপার। আসলে শুরুর ওই মিসগুলো অনেক ভুগিয়েছে আমাদের।’
