বাংলাদেশের চলমান পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে উল্লেখ করে উদ্বেগ ও শঙ্কা প্রকাশ করেছে ইউরোপীয় পার্লামেন্টের (ইপি) মানবাধিকারবিষয়ক উপ-কমিটি।
বৃহস্পতিবার ব্রাসেলসে ইউরোপীয় পার্লামেন্টে কমিটির সভাপতি এলিনা ভেলেনসিয়ানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বিতর্কে এই উদ্বেগের কথা জানানো হয়।
আলোচনার শুরুতে গত ১৬ থেকে ২০ ফেব্রুয়ারি ক্রিশ্চিয়ান দ্যান প্রেদার নেতৃত্বে তিন সদস্যের উপকমিটির বাংলাদেশ সফরের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়। ওই কমিটির অন্যতম সদস্য ইওসেফ ভাইডেনহলত্সার বলেন, আমরা সেখানে সমঝোতার কোনো সুযোগ দেখিনি। প্রত্যেকে যার যার অবস্থানে অনড়। সফরকালে যাদের সঙ্গে কথা হয়েছে তাঁদের সকলেই মনে করেন আগামী কয়েক সপ্তাহে কোনো কিছু পরিবর্তন হবে না। বরং সংঘাত-সহিংসতা আরো বাড়তে পারে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্র বিভাগের এক প্রতিনিধি বলেন, বাংলাদেশ নিয়ে তাদের উদ্বেগ রয়েছে। মানবাধিকার-বিষয়ক উপ পরে ইউরোপীয় পার্লামেন্টের ওয়েবসাইটে অনুষ্ঠিত বিতর্কের একটি ভিডিও প্রকাশ করা হয়।
গেল সপ্তাহে ইপি কমিটি বাংলাদেশ নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছিল। বিতর্কে সেই বিবৃতি ও উদ্বেগ নিয়ে আলোচনা হয়। সেই আলোচনায় বাংলাদেশে নির্বিচার সহিংসতা, বিরোধী রাজনীতিকদের গ্রেফতার, এনজিওগুলোর জন্য বিদেশি অনুদান আইনের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন কমিটির সদস্য ও পার্লামেন্টের সদস্যরা (এমইপি)। তবে উদার, মুসলমান সংখ্যাগরিষ্ঠ, অসামপ্রদায়িক ও গণতান্ত্রিক দেশের গুরুত্ব তুলে ধরে তাঁরা বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেন। ওই আলোচনায় বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রতিনিধি চলমান সহিংসতার জন্য বিএনপি ও জামায়াতকে দায়ী করেন এবং জনগণের জানমালের নিরাপত্তায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রচেষ্টার কথা জানান। আলোচনার শেষ পর্যায়ে সভাপতি বলেন, আগামী কয়েক মাস বাংলাদেশ পরিস্থিতির দিকে নজর রাখবে ইউরোপীয় পার্লামেন্ট।
আলোচনার শুরুতে পার্লামেন্ট সদস্য ইওসেফ ভাইডেনহলত্সার জানান, বাংলাদেশের পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগের। দুর্ভাগ্যজনকভাবে সব কিছু খারাপের দিকে দিচ্ছে। সফরকালে নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে তাঁরা ঢাকার বাইরে যাননি। তারা সফরকারে বিভিন্ন পর্যায়ে বৈঠক করেছেন। তবে শ্রম পরিস্থিতি দেখাই ছিল তাঁদের প্রধান উদ্দেশ্য। শ্রম অধিকার ইস্যুতে কিছু অগ্রগতিও হয়েছে।
তিনি আরো জানান, ৫ জানুয়ারি নির্বাচনের বছরপূর্তির দিন থেকেই সারা বাংলাদেশ সংঘাত হচ্ছে। এসব সংঘাতে ৬০ জনেরও বেশি নিহত হয়েছে। সাত থেকে ১০ হাজার বিরোধী কর্মীকে আটক করা হয়েছে। এই সংঘাত, সহিংসতার সমাধান করা কঠিন। কারণ উভয় দলই অনড় অবস্থানে আছে। সফর শেষে তাঁর ব্যক্তিগত উপলদ্বি হলো যে, বিরোধীদের কোনঠাসা করে রাখলে অন্য কোনো উগ্রপন্থী গোষ্ঠীর উত্থান হতে পারে। এটা আমাদের জন্য বড় উদ্বেগের বিষয়। তিনি বলেন, বাংলাদেশের জন্য আরো বেশি কিছু করা উচিত। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটি এখনো কার্যকর করা হয়নি। তাকে গ্রেফতার করা হলে নাটকীয়ভাবে পরিস্থিতির অবনতি ঘটতে পারে।
