দগ্ধ ট্রাক হেলপার ১ মাস ৬ দিন পর মারা গেলেন

আপডেট : ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৫, ০০:০৮

পেট্রোল বোমায় দগ্ধ হয়ে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে ১ মাস ৬ দিন পর আজ শুক্রবার দুপুরে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের বার্ন ইউনিটে মারা গেলেন ট্রাকের হেলপার জাহাঙ্গীর আলম(২৬)। তিনি বগুড়ার কাহালু উপজেলার নারহট্ট ইউনিয়নের নিশ্চিন্তপুর গ্রামের ছায়েত আলীর পুত্র।

জাহাঙ্গীর ভ্যান চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন। গত ২৩ জানুয়ারী তার ভগ্নিপতির ট্রাকে ধান নিয়ে রংপুর পৌঁছে দিয়ে বাড়ি ফেরার পথে বগুড়া শহরের চারমাথা এলাকায় মুক্তি বিড়ির কারখানার নিকট পৌছান রাত ৮ টার সময়। তখন তিনি পেট্রোল বোমা হামলার শিকার হন।এরপর তাকে চিকিৎসার জন্য  ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তাকে। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গতকাল শুক্রবার দুপুরের দিকে তিনি মারা যান। শুক্রবার রাত সাড়ে ৮ টার দিকে জাহাঙ্গীরের মৃতদেহ গ্রামের বাড়িতে নেয়া হয় এবং রাত ১০ টার দিকে তাকে দাফন করা হয়। জাহাঙ্গীরের লাশ গ্রামে আসার পর তার পরিবারে আহাজারিতে বাতাস ভারি হয়ে উঠে।রাত ৯টার দিকে কাহালু উপজেলা নির্বাহী অফিসার তাছলিমা খাতুন নিশ্চিন্তপুর গ্রামে গিয়ে জাহাঙ্গীরের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে তার স্ত্রীর হাতে তাৎক্ষনিক ভাবে সরকারের দেওয়া ২০ হাজার টাকার অনুদানের চেক তুলে দেন। এ সময় কাহালু থানার ওসি সমিত কুমার কুন্ড উপস্থিত ছিলেন।
জাহাঙ্গীরের  পরিবারে রয়েছে স্ত্রী, ১৫ বছর বয়সের পুত্র জাহিদ ও চতুর্থ শ্রেণীতে পড়া কন্যা জুই। পুত্র জাহিদ কাহালু দরগাহাট এলাকায় একটি জুট মিলে শ্রমিকের কাজ করেন। উল্লেখ্য, জাহাঙ্গীর গত ২৩ জানুয়ারী প্রথমবারের মতো ট্রাকের হেলপার হয়ে ধান নিয়ে রংপুর গিয়েছিলেন। জাহাঙ্গীরের  মৃত্যুতে তার পরিবার একেবারে অসহায় ও দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।