অভিজিতের শেষ যাত্রায় খুনিদের শাস্তি দাবি

আপডেট : ০১ মার্চ ২০১৫, ২১:৫৯

 

প্রকৌশলী, লেখক-ব্লগার অভিজিৎ রায়ের মরদেহ রবিবার সকাল ১০টায় তার প্রিয় ক্যাম্পাস বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট) নেয়া হয়। এরপর তার মরদেহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, নিজ বাড়ি মগবাজার হয়ে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজে নেয়া হয়। এই কলেজেই শিক্ষার্থীদের গবেষণার জন্য দান করা হয়েছে তার মরদেহ।
বিদায়যাত্রায় যে বিষাদের সুর বাজিয়ে গেলেন, বিদায়শেষে সেই সুরই যেন ক্ষোভ-দ্রোহের প্রতিধ্বনি হয়ে উঠল। অভিজিৎ হত্যাকারীদের গ্রেফতার-শাস্তির পাশাপাশি সাম্প্রদায়িকতা ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করে যাওয়ার প্রত্যয় ঘোষণা করলেন বিশিষ্ট নাগরিক, শিক্ষক-ছাত্রসহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ।
বেলা ১২টার দিকে অভিজিতের মরদেহ টিএসসির  যেখানে তার ওপর হামলা হয়,  সেখানে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে অ্যাম্বুলেন্স  থেকে অভিজিতের মরদেহ নামানো হয়নি।
বেলা সোয়া ১২টার দিকে মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় মগবাজারের বাসায়। সেখানে আনুষ্ঠানিকতা শেষে বেলা একটার দিকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজে মরদেহ হস্তান্তর করা হয়। মরদেহটি গ্রহণ করেন কলেজের এনাটমি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. শামীম আরা। 
সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের তত্ত্বাবধানে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক নেতাকর্মীসহ সর্বস্তরের নাগরিকরা। যারা পুষ্পার্ঘ্য অর্পন করেছেন তাদের মধ্যে আছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক হারুন-অর-রশিদ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক মীজানুর রহমান, সংবিধান বিশেষজ্ঞ ড. কামাল হোসেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ফরিদউদ্দিন আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মাকসুদ কামাল, আওয়ামী লীগের কৃষি ও সমবায় সম্পাদক আবদুর রাজ্জাক, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রামেন্দু মজুমদার, সৈয়দ হাসান ইমাম, ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শাহরিয়ার কবির, মুক্তিযোদ্ধা নাসির উদ্দীন ইউসুফ, গোলাম কুদ্দুছ, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. আমজাদ আলী, ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন, নিজেরা করি’র খুশি কবির, নারী প্রগতি সংঘের রোকেয়া কবির, আইনজীবী সারা হোসেন, সাংবাদিক ডেভিড বার্গম্যান। শ্রদ্ধা নিবেদন করে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ), বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ), গণফোরাম, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি), একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, ছাত্রলীগ, ছাত্র ইউনিয়ন, ছাত্রফ্রন্ট, ব্লগার এন্ড অনলাইন এক্টিভিস্ট নেটওয়ার্কসহ বিভিন্ন সংগঠন।
শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে অভিজিতের বাবা অধ্যাপক অজয় রায় বলেন, আমার মনে হয় মৌলবাদী ও ইসলামি জঙ্গিগোষ্ঠী এই হত্যার পেছনে রয়েছে। এই হত্যাকাণ্ড সরকারের একটি ব্যর্থতার প্রতীক। কারণ, মৌলবাদীরা যখন তাকে হত্যার হুমকি দিচ্ছিল, তখন আমি আইজিপি, ডিআইজি সবাইকে জানিয়েছিলাম। তারপরও এই হত্যাকাণ্ড প্রমাণ করে, তারা কত দরিদ্র, কত ব্যর্থ। তিনি হত্যাকারীদেও গ্রেপ্তার করতে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন। শ্রদ্ধা নিবেদনশেষে ড. কামাল হোসেন বলেন, এটি জঘন্যতম হত্যাকান্ড। এ ধরনের ঘটনা কেন ঘটল? এটা আমার নিজের কাছে প্রশ্ন, রাষ্ট্রের কাছে প্রশ্ন। অভিজিত্ একজন গবেষক, লেখক। সে বই লিখেছে, তার মত প্রকাশ করেছে। এ জন্য কি তার জীবন দিতে হবে?
শাহরিয়ার কবির বলেন, অভিজিতের হত্যাকাণ্ড যারা ঘটিয়েছে তাদের মূল টার্গেট প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। অভিজিতের হত্যাকারীদের না ধরলে প্রধানমন্ত্রীর জীবনও সংকটের মধ্যে থাকবে। প্রগতিশীলদের ওপর হামলাও বন্ধ হবে না।
সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রামেন্দু মজুমদার বলেন, ‘অভিজিৎ হত্যা হলো মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তচিন্তার ওপর আঘাত। অভিজিতের মরদেহ পড়ে থাকার সময় তার স্ত্রী সাহায্যের জন্য চিত্কার করছিল। অন্যের সাহায্যে আমরা যদি এগিয়ে না আসি, তাহলে ভবিষ্যতে আমাদের বিপদেও কেউ এগিয়ে আসবে না।
প্রসঙ্গত, গত বৃহস্পতিবার রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি এলাকায় সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের ফটকের পাশে দৃর্বুত্তদের হামলায় মারা যান অভিজিত্ রায়। গুরুতর আহত হন তার স্ত্রী রাফিদা আহমেদ বন্যা। তিনি এখন স্কয়ার হাসপাতালে চিকিত্সাধীন।