প্রায় দুই মাস ধরে নিখোঁজ রাজশাহীর নওহাটা পৌরসভার মেয়র ও আওয়ামী লীগ নেতা আবদুল গফুর সরকারকে হত্যা করা হয়েছে! পুলিশ রিমান্ডে কথিত চিকিৎসক জান্নাতুন সালমা মীম বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তবে কোথায়, কখন ও কিভাবে মেয়র হত্যা করা হয়েছে, সে সম্পর্কে এখনো তথ্য দেয়নি। আবার হত্যার কথা মীম অস্বীকারও করেছে। এ নিয়ে পুলিশ গোলক ধাঁধাঁয় রয়েছে। এদিকে রাজশাহীর পুলিশ সুপার আলমগীর কবির বলেন, ‘জীবিত অথবা মৃত যেটিই হোক, নওহাটার মেয়র আব্দুল গফুরকে ঢাকা থেকেই উদ্ধার করা হবে। এ নিয়ে পুলিশ অনেক দূরই এগিয়েছে।‘
এ ব্যাপারে পবা থানার ওসি প্রশাসন মতিয়ার রহমান এ প্রতিবেদককে বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে নিখোঁজ মেয়রের কথিত স্ত্রী মীম পুলিশকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন। তাঁর তথ্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। তাকে রবিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির জন্য আদালতে নেয়া হয়নি। তিনি বলেন, এখনো আমাদের হাতে একদিন সময় আছে। মীমকে যেকোনো সময় আদালতে উপস্থাপন করা হবে। এরমধ্যে হয়তো অবশিষ্ট তথ্যও পাওয়া যাবে। আশা করছি তার তথ্যানুযায়ী দুই-একদিনের মধ্যেই মেয়র গফুরকে জীবিত অথবা মৃত উদ্ধার করা সম্ভব হবে।
পুলিশের আরেক সূত্র জানায়, গত ৬ জানুয়ারি মেয়র গফুরকে হত্যা করা হয়েছে বলে মীম স্বীকার করেছেন। কিন্তু পরক্ষণে আবার তিনি হত্যার কথা অস্বীকার করেছেন। ফলে পুলিশ তাকে নিয়ে ধোঁয়াশার মধ্যে রয়েছে। মেয়র গফুর ও কথিত চিকিৎসক মীমের যৌথ মালিকানায় নওগাঁর মন্দায় একটি ক্লিনিকও রয়েছে। এছাড়া পুলিশ হেফাজতে নেয়ার পর এবং রিমান্ডের আবেদনের শুনানীতে আইনজীবীর মাধ্যমে আদালতে মীম নিজেকে মেয়র গফুরের স্ত্রী ও অন্তসত্ত্বা বলেও দাবি করেন।
সূত্র মতে, গত ২৭ ফেব্রুয়ারি মীম ও তার অপর দুই বোনের তিনদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত। ২৮ ফেব্রুয়ারি তাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে নেয়া হয়। ১ মার্চ দুইদিন অতিবাহিত হয়েছে। সে অনুযায়ী আজ সোমবার রিমান্ড শেষ হবে।
পুলিশ সূত্র জানায়, গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর ঢাকায় গিয়ে নিখোঁজ হওয়ার পর নওহাটা পৌর আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি আবদুল গফুরকে গত ৬ জানুয়ারি হত্যা করা হয়। পরে লাশ গুম করতে তা মাটির নিচে পুঁতে ফেলা হয়। এরপর থেকে ২২ জানুয়ারি পর্যন্ত মেয়রের মোবাইল ফোন থেকে পরিবার ও নিকট আত্মীয়দের কাছে মোবাইলে ম্যাসেজ আসতে থাকে। কিন্তু ফোন দিলে পরক্ষণেই মেয়রের মোবাইলের সুইচ অফ পাওয়া যায়। এতে পরিবারের সবার মনে সন্দেহ দেখা দেয়। পরে ১৯ জানুয়ারি মেয়রের বর্তমান তৃতীয় স্ত্রী ফজিলাতুন্নেসা পারুল পবা থানায় অপহরণের মামলা করেন।
মামলার পর গত ২৩ জানুয়ারি ঢাকার সংসদ ভবন এলাকা থেকে মীমকে পুলিশ আটক করে। আটকের পর মীম নিজেকে মেয়র গফুরের স্ত্রী বলে দাবি করেন। এরপর ৩১ জানুয়ারি মীমের দুই বোন জান্নাতুন নাইম ও জান্নাতুন ফেরদৌসকে নওগাঁ ও ঢাকা থেকে আটক করা হয়। তাঁদের তিনজনকে আটকের পর আদালতে হাজির করে জিজ্ঞাবাদের জন্য সাতদিন করে রিমান্ড চাওয়া হয়।