প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব এ কে এম শামীম চৌধুরী সাংবাদিকদের জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠকে ভারতীয় পররাষ্ট্র সচিব জয়শঙ্কর জানিয়েছেন- দুটি বিষয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে শিগগিরই ভারতের চুক্তি স্বাক্ষরিত হতে যাচ্ছে। একটি হলো ‘ট্রেড প্রটোকল’, অপরটি ‘কোস্টাল শিপিং প্রটোকল’।
সোমবার সংসদ অধিবেশনের মাগরিবের বিরতির সময় জাতীয় সংসদ ভবনে প্রধামন্ত্রীর কার্যালয়ে জয়শঙ্করের সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা ড. গওহর রিজভী, ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার পঙ্কজ শরণ ও ভারতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার সৈয়দ মোয়াজ্জেম আলী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
জানা গেছে, কোস্টাল শিপিং চুক্তি হলে ভারতের দক্ষিণ থেকে মংলা বন্দর হয়ে বাংলাদেশ দিয়ে দুই দেশের জাহাজ চলাচল করবে। তবে সোমবারের এই বৈঠকে বহুল আলোচিত তিস্তা নদীর পানিবণ্টন চুক্তি নিয়ে কোনো কথা হয়নি।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ভারতের পররাষ্ট্রসচিব জয়শঙ্কর জানিয়েছেন, দু’দেশের মধ্যে গৃহীত বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মসূচির বাস্তবায়ন অগ্রগতিতে ভারত সরকার সন্তুষ্ট। এই অগ্রগতি আরও তরান্বিত হবে বলে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ও ভারতের পররাষ্ট্র সচিব দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন। কোস্টাল শিপিং প্রটোকল স্বাক্ষরসহ এসব কর্মসূচি বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে দু’দেশের সম্পর্ক আরও টেকসই ও উন্নত হবে বলেও তারা একমত পোষণ করেন।
প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব জানান, বৈঠকে রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের বিষয়েও আলোচনা হয়। এটির বাস্তবায়ন অগ্রগতিতেও জয়শঙ্কর সন্তোষ প্রকাশ করেন।
ভারতের পররাষ্ট্রসচিব বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে জানান, ভারত শুধু সার্ক ফ্রেমওয়ার্কের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকতে চায় না, এর বাইরেও দু’দেশের সম্পর্ক উন্নয়নে আরও যা যা করা দরকার সেসব বিষয়েও পর্যায়ক্রমে কাজ করতে আগ্রহী।
শেখ হাসিনা এসময় তাকে বাংলাদেশে আরও বেশি করে বিদ্যুত্ রপ্তানির অনুরোধ জানালে জয়শঙ্কর বলেন ‘সেটি অবশ্যই হবে-বাংলাদেশ আরও বেশি বিদ্যুত্ পাবে, রামপাল এর প্রথম উদ্যোগ’।
জয়শঙ্কর তাকে জানান, ভারত ইতোমধ্যে ভুটান থেকে হাইড্রলিক বিদ্যুত্ আনার উদ্যোগ নিয়েছে। ভুটান যদি বেশি করে এই বিদ্যুত্ উত্পাদন করতে পারে, তাহলে সেখান থেকে বাংলাদেশও বিদ্যুত্ পেতে পারে। ভারতের পররাষ্ট্রসচিব আরও জানিয়েছেন, দু’দেশের বেসরকারি খাতও বিভিন্নভাবে যৌথ উদ্যোগ নিতে পারে, যা দেশ দুটির অর্থনৈতিক উন্নয়নে সমন্বিতভাবে ভূমিকা রাখবে।
