দেশে নৌপথে অহরহ দুর্ঘটনা ঘটলেও তা উদ্ধারে নেই কোন শক্তিশালী জাহাজ বা নৌযান। যাত্রীবাহী বড় লঞ্চ, ট্রলার, পণ্যবাহী কার্গো ও ফেরি ডুবির দুর্ঘটনা ঘটছে প্রায়ই। নিমজ্জিত নৌযান উদ্ধারের জন্য বিআইডব্লিউটিএ’র উপর ভরসা করতে পারছেন না নৌযান মালিকরা। সংস্থার উদ্ধারকারী জলযান ‘হামজা’ ও ‘রুস্তুম’ অনেক আগেই যৌবন হারিয়েছে। ঐ দু’টি জাহাজের ক্রেনের উত্তোলন ক্ষমতা ৬০ টন করে। ‘হামজা’ সংগ্রহ করা হয়েছিল ১৯৬৫ সালে। ‘রুস্তুম’ সংগ্রহ করা হয় ১৯৮৪ সালে।
বিআইডব্লিউটিএ’র কর্মকর্তারা জানান, যে কোন নৌযান নিমজ্জিত হলে ওজন কয়েকগুণ বেড়ে যায়। পানির নিচে দু’একদিন থাকলে নৌ-যানের ওজন আরো অনেক বাড়ে। এ কারণে বড় লঞ্চ দুর্ঘটনার সময় হামজা কিংবা রুস্তুম এককভাবে উদ্ধার করতে পারে না। দু’টি উদ্ধার ইউনিট একত্রিত হয়েও লঞ্চ উদ্ধারে হিমশিম খায়। চাঁদপুরের নিম্নাঞ্চলে অর্থাত্ দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের নৌপথে উদ্ধার অভিযানে দায়িত্ব পালনকারী হামজা। চাঁদপুরের উপরের অংশে অর্থাত্ দেশের অন্য নৌপথে উদ্ধার অভিযান করে থাকে রুস্তুম। প্রত্যেক জাহাজে দু’জন করে ডুবুরির পদ রয়েছে। এ ছাড়াও নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ডের ডুবুরি দল কাজ করেছে। বিআইডব্লিউটি-এর পর্যাপ্ত ডুবুরি না থাকায় অধিকাংশ দুর্ঘটনাকবলিত লঞ্চ থেকে আহত যাত্রীদের উদ্ধারের জন্য ফায়ার সার্ভিস এন্ড সিভিল ডিফেন্স থেকে ডুবুরি আনতে হয় বলে হামজা ও রুস্তুমের কমান্ডারদ্বয় জানান। বরিশাল ফায়ার সার্ভিসে ডুবুরি পাওয়া না গেলে খুলনা ফায়ার সার্ভিস এন্ড সিভিল ডিফেন্স থেকে ডুবুরিকে তলব করতে হয়। অতিরিক্ত ডুবুরি রাখার পাশাপাশি উদ্ধারকারী জলযানে একাধিক অপারেটর থাকা প্রয়োজন বলে বিআইডব্লিউটিএ’র কর্মকর্তারা মনে করেন। কিন্তু হামজা ও রুস্তুমে ক্রেন অপারেটর আছেন একজন করে। লাইফম্যানও মাত্র একজন করে। উদ্ধারকারী জাহাজে ক্রেন অপারেটর কিংবা লাইফম্যান অসুস্থ হলে পুরো উদ্ধার অভিযান থমকে দাঁড়ায়। ঐ দু’টি পদের অভিজ্ঞ লোক ছাড়া উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করা কখনোই সম্ভব হয় না। সংশ্লিষ্ট জাহাজের কেউ অসুস্থ কিংবা অনুপস্থিত থাকলে অন্য জাহাজ থেকে লোক ধার করা হয়। উভয় ইউনিট উদ্ধার অভিযান এলে বিপাকে পড়েন হামজা ও রুস্তুম। উদ্ধারকারী দু’টি জাহাজের একটিতেও স্যালভেজ সুপারভাইজার নেই। জাহাজের কমান্ডার এ দায়িত্ব পালন করেন। উদ্ধারকারী জাহাজগুলোতে নেই কোন আধুনিক যন্ত্রপাতি। পানির নিচে নৌযানের অবস্থান জানতে এখনো ডুবুরি পাঠানো ও রশি টেনে কাজ সম্পন্ন করা হয়। এ কাজে ডুবন্ত জাহাজ চিহ্নিত করতে কয়েক ঘন্টা থেকে কয়েকদিন পার হয়ে যায়।
