বগুড়ায় দুই যুবকের ফাঁসি

আপডেট : ০৩ মার্চ ২০১৫, ০১:২৪

বগুড়ায় ৬ বছরের শিশুকে ধর্ষণের পর গলাটিপে হত্যার দায়ে ২ যুবকের মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছে আদালত। বগুড়ার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারক এসএম সাইফুল ইসলাম গতকাল সোমবার বেলা সাড়ে ১২টায় জনাকীর্ণ আদালতে মৃত্যুদণ্ডের এই রায় ঘোষণা করেন। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হচ্ছে: বগুড়া শহরের নিশিন্দারা মন্ডলপাড়ার মৃত আব্দুস সবুরের ছেলে বিদ্যুত্ হোসেন (২৬) ও একই এলাকার জিল্লাল হোসেনের ছেলে রবিউল ইসলাম (২৫)।

আদালত সূত্র ও মামলার নথিপত্র থেকে জানা যায়,  ২০০৬ সালের ১৩ মার্চ দুপুরে বগুড়া সদরের নিশিন্দারা মন্ডলপাড়া এলাকার খোরশেদ আলীর শিশুকন্যা খুশি (৬) পার্শ্ববর্তী নিশিন্দারা ফকির উদ্দিন স্কুল এন্ড কলেজ মাঠে বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা দেখতে যায়। এসময় আসামিরা খুশিকে ফুসলিয়ে পার্শ্ববর্তী বাঁশঝাড়ে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে ধর্ষণের পর গলাটিপে হত্যা করে। এরপর আসামিরা ঘটনাটি ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার জন্য নিহত খুশির গলায় ওড়না পেঁচিয়ে বাঁশঝাড়ে ঝুলিয়ে রাখে। ওইদিন সন্ধ্যায় পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়। নিহতের বাবা খোরশেদ আলী বগুড়া সদর থানায় অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।

তদন্তকারী কর্মকর্তা সদর থানার এসআই খন্দকার ফুয়াদ রুহানী পরদিন  বিদ্যুত্ ও রবিউলকে প্রথমে সন্দেহজনকভাবে গ্রেফতার করেন। পরে তারা খুশিকে ধর্ষণের পর গলাটিপে হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। এরপর থেকে আসামিরা জেল হাজতে ছিল। একই বছরের ৩০ মে তদন্তকারী কর্মকর্তা গ্রেফতারকৃত দুইজনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। দীর্ঘ শুনানি শেষে সোমবার বিচারক আসামিদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণা করেন। বাদীপক্ষে মামলা পরিচালনাকালী বগুড়ার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এর পিপি এ্যাডভোকেট মন্তেজার রহমান মন্টু জানান, রায়ের  আদেশে আসামিদের ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা ছাড়াও একলক্ষ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানার টাকা আদায় করে মামলার বাদীকে দেয়ার নির্দেশ দিয়েছে আদালত। আসামিপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন এডভোকেট আব্দুল বারী আকন্দ ও এডভোকেট জিল্লুল হক।