প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়াকে জঙ্গি ও সন্ত্রাসী নেত্রী হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেছেন, হরতাল-অবরোধের নামে গণহত্যা ও জঙ্গিবাদী কর্মকাণ্ড চালিয়ে উনি এখন সম্পূর্ণ জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন। এ কারণে নিজের কার্যালয় থেকে বেরিয়ে দেশের মানুষের সামনে আসতে ভয় পাচ্ছেন। আর তাই উনি জনরোষ এড়াতে কারগারকেই এখন নিরাপদ মনে করছেন। উনি চাইছেন নিজেই গ্রেফতার হতে, যাতে বিদেশি প্রচার-প্রচারণায় শিরোনাম হতে পারেন। পেতে পারেন আন্তর্জাতিক অনুকম্পা। এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, জনরোষ থেকে বাঁচতে এবং আন্তর্জাতিক সহানুভূতি ও প্রচার পেতে জঙ্গি নেত্রী খালেদা জিয়া যেন নাজিমউদ্দিন রোডকেই (কেন্দ্রীয় কারাগার) বেছে নিয়েছেন।
বুধবার সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে জাতীয় পার্টির (জাপা) জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলুর এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে বলেন, আইন তার নিজস্ব গতিতেই চলবে। কেউ যদি আদালত অবমাননা করে তাহলে আদালত যে সিদ্ধান্ত বা নির্দেশ দেবে সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে। প্রচলিত আইন অনুযায়ী প্রতিটি হত্যাকাণ্ডের বিচার হবে। হরতাল-অবরোধের নামে পুড়িয়ে মানুষ হত্যার দায়ে আইন অনুযায়ী বিএনপি নেত্রীর বিচার করা হবে। কারণ সরকার আইনের শাসনে বিশ্বাসী।
স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে প্রশ্নোত্তর পর্বে শেখ হাসিনা আরো বলেন, সীমা লঙ্ঘনকারীদের মহান সৃষ্টিকর্তা আল্লাহও পছন্দ করেন না। বিএনপি নেত্রীর হাত থেকে নারী-শিশু এমনকি অন্তঃসত্ত্বা মা-বোন রেহাই পাচ্ছেন না। আদালতের প্রতিও বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখাচ্ছেন। মর্যাদা লঙ্ঘন করছেন এবং বলছেন আদালতে যাবেন না। এ ধারা অব্যাহত থাকলে তো ভবিষ্যতে কেউই আর আদালতের বিচার মানতে চাইবে না। তিনি বলেন, নিরাপত্তার অভাবে নাকি বিএনপি নেত্রী আদালতে যাননি। যার নির্দেশে আন্দোলনের নামে পুড়িয়ে মানুষ হত্যা করা হচ্ছে, তাকেই নিরাপত্তা দিতে হবে? জাতির কী দুর্ভাগ্য। তারপরও আমরা নিরাপত্তা দিলেও উনি আদালতে যাননি। আসলে নটঙ্গীপনা খালেদা জিয়ার পুরনো অভ্যাস।
শেখ হাসিনা বলেন, খালেদা জিয়ার কথা কেউ না শুনলে আমাদের দোষটা কোথায়? দেশের জনগণ কেন, তাঁর নিজের দলের নেতাকর্মীরাই এমন জঙ্গিপনা ও মানুষকে পুড়িয়ে মারার ঘটনা পছন্দ করেন না। কারণ দেশের মানুষ শান্তি ও নিরাপত্তা চায়। উনি ১৫ লাখ এসএসসি ও সমমনা পরীক্ষার্থীর জীবনকে যে অনিশ্চিত করে তুলেছেন, তা দেশের মানুষ স্বাভাবিকভাবে নেননি।
শেখ হাসিনা বলেন, খালেদা জিয়া ধ্বংস করছেন, আমরা গড়ে যাচ্ছি। দেশবাসীর সহযোগিতায় উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রেখে আমরা অভীষ্ট লক্ষে পৌঁছাবোই ইনশাল্লাহ।
সংসদ সদস্য এম আবদুল লতিফের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রূপকল্প-২০২১ বাস্তবায়নে এবং দেশকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করা হবে।
সংসদ সদস্য এমএ আউয়ালের এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার সবসময়ই কৃষি বান্ধব। ২০০৫-০৬ অর্থবছরে দেশে খাদ্য উত্পাদন হয়েছিল ৩ কোটি ১২ লাখ ২ হাজার মেট্রিক টন। ২০০৮-০৯ অর্থবছরে উত্পাদন ছিল ৩ কোটি ৫৩ লাখ মেট্রিক টন। তিনি বলেন, এখন আমাদের আর চাল আমদানী করতে হয় না। কৃষকদের ফসল উত্পাদনে বর্তমান সরকার বিভিন্ন সুবিধা প্রদান করছে। সরকার দেশকে খাদ্য স্বয়ংসম্পূর্ণ করার লক্ষ্যে কৃষকদের স্বার্থে ব্যাপক পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করছে। চলতি বছর ৩ কোটি ৮৭ লাখ মেট্রিক টন খাদ্যশস্য উত্পাদন হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
