ফেনীতে যৌথ বাহিনীর অভিযান: আতঙ্কগ্রস্ত ছাত্রদল কর্মীর বাবার মৃত্যু

আপডেট : ০৪ মার্চ ২০১৫, ২৩:৩৬

ফেনীতে গাড়ি পোড়ানোর পর যৌথ বাহিনীর অভিযান চলাকালে অতঙ্কে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মোঃ মফিজুর রহমান (৬৫) নামে একজন মারা গেছে বলে জানা গেছে। মফিজুর রহমান ফেনী সদর উপজেলার শর্শাদি ইউনিয়নের দেবীপুর গ্রামের ছাত্রদল কর্মী আরিফুর রহমানের বাবা। মঙ্গলবার রাত সাড়ে নয়টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের দেবীপুর মা-মনি ফিলিং ষ্টেশনে একটি যাত্রীবাহি বাস ও একটি কাঠবোঝাই ট্রাকে পেট্রোল ঢেলে অগ্নিসংযোগ করে দুর্বৃত্তরা।

ছাত্রদল কর্মী আরিফুর রহমানের একাধিক স্বজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে গাড়িতে অগ্নিসংযোগের পর রাতে যৌথ বাহিনীর সদস্যরা দেবীপুর গ্রামে অভিযান চালায়। এ সময় তারা বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের বাড়ীতে তল্লাশী করেন। তারা আরিফের খোঁজে ওই বাড়ীতে যায়। ঘরে ঢুকে আরিফকে না পেয়ে তার বাবা ও প্রবাসী ভাইকে গ্রেপ্তারের হুমকি দেয়। এ সময় আরিফের প্রবাসি বড় ভাইকে যৌথ বাহিনী আটক করে নিয়ে আসতে চাইলে তার বাবা বাধা দেয়। যৌথ বাহিনীর গ্রেপ্তারের হুমকি শুনে তিনি তাৎক্ষনিক ভাবে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। বাড়ি থেকে পুলিশ চলে যাওয়ার পর তারা অচেতন অবস্থায় মফিজুর রহমানকে ফেনী জেলা সদর হাসপাতালের জরুরী বিভাগে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে (মফিজুর রহমান) মৃত ঘোষণা করেন। স্বজনরা মরদেহ বাড়ি নিয়ে যায় এবং বুধবার দুপুরে জানাজা শেষে গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে লাশ দাফন করা হয়।
ফেনী জেলা সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডাঃ অসীম কুমার সাহা জানান, মঙ্গলবার রাতে হাসপাতালের জরুরী বিভাগে একজন স্ট্রোক করা রোগী আনা হয়েছিল। হাসপাতালে নেয়ার আগেই ওই রোগী মারা গেছেন বলে কর্তব্যরত চিকিৎসক স্বজনদের জানানোর পরই তারা লাশ নিয়ে ফিরে যায়। তার নাম-ঠিকানা ও পরিচয় হাসপাতালের রেজিষ্ট্রারে লেখার দরকার হয়নি।
ফেনীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ সাইফুল হক জানান, গত দুই মাসে জেলায় নাশকতার ঘটনায় থানায় বেশকটি মামলা হয়েছে। ওই সব মামলার পলাতক আসামী গ্রেপ্তারে পুলিশ প্রতি রাতেই অভিযান চালায়। পুলিশ বা যৌথ বাহিনীর অভিযানে অহেতুক কাউকে হয়রানী বা হুমকি ধামকি দেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। স্ট্রোক করে কেউ মারা গেছে এমন তথ্যও ফেনী পুলিশের জানা নেই।