প্রথম ইনিংস শেষে মনে হচ্ছিল, বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম জয়ের প্রায় দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গেছে তার দল। কিন্তু বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের দারুন ব্যাটিংয়ে শেষ পর্যন্ত পরাজিত দলেই থাকতে হলো স্কটল্যান্ড অধিনায়ক প্রেস্টন মমসেনকে। এই হারের পেছনে নিজেদের ব্যর্থতার চেয়ে তামিম ইকবাল-মাহমুদুল্লাহ রিয়াদদের ব্যাটিং সক্ষমতাকেই বড় কারণ হিসাবে দেখছেন মমসেন। ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে মমসেন আরো বলেন, দু’দলের অভিজ্ঞতার তারতম্যই পার্থক্য গড়ে দিয়েছে ম্যাচে।
বিশ্বকাপে নিজেদের সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহ, সর্বোচ্চ ব্যাক্তিগত রানের ইনিংসসহ বেশ কিছু রেকর্ডই এই ম্যাচে সঙ্গী হয়েছে স্কটল্যান্ডের। সঙ্গী হতে পারতো ক্রিকেটের সর্বোচ্চ আসরে প্রথম জয়ের ঐতিহাসিক মুহূর্তও।
মমসেন জানালেন, বাংলাদেশি ব্যাটসম্যানদের দায়িত্বশীলতার কাছেই হেরে গেছে তার দল। তবে হারের হতাশা লুকানোর কোন চেষ্টা করলেন না দক্ষিণ আফ্রিকায় জন্ম নেয়া এই স্কটিশ অধিনায়ক, ‘আফগানিস্তান এবং এই ম্যাচের প্রথমার্ধে আমরা যেভাবে খেলেছি তার পর এই ফল মেনে নেয়াটা কঠিন। শেষ রেখাটা না ছুঁতে পেরে আমি খুবই হতাশ। আমরা আশাহত তবে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা যেভাবে চাপটা সামলে নিয়েছে তাতে তাদের কৃতিত্ব দিতেই হবে। খুবই ভাল ব্যাট করেছে তারা।’
পাশাপাশি এই ২৭ বছর বয়সী ব্যাটসম্যান স্মরণ করিয়ে দিলেন দুই দলের অভিজ্ঞতার পার্থক্য। বড় রান তাড়া করতে গেলে কিভাবে ইনিংস নির্মাণ করতে হয় বাংলাদেশ এই ম্যাচে সেটা দেখিয়ে দিয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘অবশ্যই এখানে অভিজ্ঞতার প্রশ্নটা জড়িত। বাংলাদেশ দল একত্রে শতাধিক ম্যাচ খেলার সুযোগ পেয়েছে। যেখানে আমরা খেলেছি কয়েকটি মাত্র। সুতরাং রান তাড়ার ক্ষেত্রে এই মানসিক সক্ষমতা এবং অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগাতে পেরেছে তারা। তারা যে এই ধরনের পরিস্থিতির মোকাবেলা আগেও করেছে সেটা তাদের খেলা দেখেই বোঝা গেছে। খুব ভালভাবে সব কিছু সমন্বয় করতে পেরেছে তারা।’
বোলাররা ঠিকভাবে নিজেদের মেলে ধরতে না পারলেও ব্যাটসম্যানদের পারফরম্যান্সে দারুণ খুশি মমসেন।
স্পিননির্ভর বাংলাদেশের হঠাৎ ‘পেস নির্ভর’ হয়ে যাওয়ার সাথে দারুণভাবে মানিয়ে নিতে পারায় ব্যাটসম্যানদের প্রশংসা ঝরলো মমসেনের কণ্ঠে।
বিশেষ করে কাইল কোয়েটজারের ১৫৪ রানের ইনিংসটিতে তো রীতিমতো মুগ্ধ তিনি। তবে এমন পেস বোলিং নির্ভর প্রতিপক্ষের জন্যও আগে থেকেই প্রস্তুতি নিয়েছিলেন বলে জানালেন তিনি।
মমসেন বলেন এই বাংলাদেশের বোলিং আক্রমণের বিরুদ্ধে কোয়েটজারের ইনিংসটিকে বিশেষ কিছু আখ্যায়িত করার পাশাপাশি তিনি জানান, ‘হ্যা আমি কিছুটা অবাকই হয়েছি যে তারা মাত্র একজন বিশেষজ্ঞ স্পিনার অলরাউন্ডার নিয়ে নেমেছিল। তবে আমরা পুরোপুরি স্পিন এবং শুধুমাত্র পেস বোলিং নির্ভর; দু’টোর জন্যই প্রস্তুত ছিলাম। আমার মনে হয় তাদের বোলিং বিভাগ যথেষ্ট ভারসাম্যপূর্ণ ছিল। তাদের বেশ ভালো মানের কিছু পার্ট টাইম স্পিনার ছিল। আর অবশ্যই তারা সাকিবের উপর নির্ভর করতে পারে। সে দেখিয়েছে শুরুতে বল করার ক্ষমতা আছে তার। ইনিংসের মাঝপথে কিংবা একেবারে শেষ দিকেও প্রতিপক্ষকে চমকে দেয়ার ক্ষমতা আছে তার। সবমিলে তাদের আক্রমনকে খুবই ভারসাম্যপূর্ণ বলবো আমি।’
