‘পাইপ লাইনে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করে দেয়া প্রয়োজন’

আপডেট : ০৬ মার্চ ২০১৫, ১৮:৫৭
শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু বলেছেন, গ্যাসের অপচয়ের কারণে মজুদ কমে আসছে। তাই অপচয় রোধে সব ধরণের পাইপ লাইনে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করে দেয়া প্রয়োজন। বিদেশের মতো বাসা-বাড়িতে সিলিন্ডার দিয়ে গ্যাস ব্যবহার করলে অপচয় কমবে। 
শুক্রবার দি সিলেট চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজ এর উদ্যোগে সিলেটের শিল্পখাতের উন্নয়ন ও বিকাশের লক্ষ্যে মতবিনিময় সভায় শিল্পমন্ত্রী এ কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, কোটি টাকা দিয়ে প্রাইভেটকার কিনে কম পয়সায় গ্যাস ব্যবহার করা যুক্তি সঙ্গত নয়। বাস মালিকরাও স্বল্প মূল্যে গ্যাস কিনেন কিন্তু বাস ভাড়া কমান না। 
তিনি বলেন, তাই দেশে নতুন সিএনজি ফিলিং স্টেশনের অনুমতি না দিয়ে চালু স্টেশনগুলো পর্যায়ক্রমে বন্ধ করে দেয়া উচিত। এরকম একটি প্রস্তাব তিনি প্রধানমন্ত্রীর কাছে দিয়েছেন। 
সিলেটের পর্যটন শিল্পকে দৃষ্টিনন্দন করতে সরকার ইতিবাচক চিন্তা করছে মন্তব্য করে বলেন, সার্কভুক্ত দেশগুলোর সাথে চুক্তি করে পর্যটনের উন্নয়নে সরকার কাজ করবে।
সিলেটের পর্যটন খাতকে অত্যান্ত সম্ভাবনাময় খাত উল্লেখ করে শিল্পমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দেশি-বিদেশি এক্সপার্টদের, অর্থনীতিবিদ ও পরিকল্পনাবিদদের পরামর্শক্রমে তা বাস্তবায়ন করা হবে। 
তিনি বলেন, দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ করার জন্য সিলেটে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার কাজও চলছে। 
মন্ত্রী বলেন, সিলেটের শেরপুরে স্থাপিত এ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে স্থানীয়রা বিনিয়োগে এগিয়ে আসবে। ছাতক সিমেন্ট ফ্যাক্টরিকে আধুনিকায়নের আশ্বাস দিয়ে মন্ত্রী বলেন, সেখানে নতুন আরেকটি সিমেন্ট ফ্যাক্টরি স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে।
শিল্পমন্ত্রী আগর উৎপাদনের উপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, দেশ-বিদেশে আগরের প্রচুর চাহিদা রয়েছে। সরকার আগরকে শিল্প হিসেবে ঘোষণা করেছে। কেউ আগর ফ্যাক্টরিকে ইন্ডাস্ট্রিতে রূপান্তর করতে চাইলে সরকার সহযোগিতা দেবে। দেশের পর্যটন খাতের বিকাশ সম্পর্কে মন্ত্রী বলেন সরকার সিলেটসহ সারাদেশের পর্যটনের উন্নয়নে সার্কভুক্ত দেশগুলোর সাথে চুক্তি করে এর উন্নয়নে সরকার কাজ করবে।
শিল্পমন্ত্রী সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জের পুরাতন সার কারখানাকে অ্যামোনিয়া কারখানায় রূপান্তরের আশ্বাস দিয়ে বলেন এতে অ্যামোনিয়া আমদানি কমবে। তিনি নির্মাণাধীন শাহজালাল সার কারখানা আগামী জুন মাসে উদ্বোধন হবে জানিয়ে বলেন, ইতোমধ্যে সারকারখানাটির ১১টি ইউনিটের কাজ স¤পন্ন হয়েছে। বাকি ৮টি ইউনিটের ৯৫ ভাগ কাজ শেষ হয়ে গেছে। 
সিলেট চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি সালাহ উদ্দিন আলী আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী কয়েস, সিলেট চেম্বারের সাবেক সভাপতি ফারুক আহমদ মিসবাহ, ব্যবসায়ী নেতা কলন্দর আলী, আবদুল মান্নান, মুশফিক জায়গীরদার, আবদুল্লাহ আল মামুন, আলীমুল এহসান চৌধুরী প্রমুখ।