কক্সবাজার-টেকনাফ সড়কের উখিয়ার বালুখালী ব্রিজ এলাকায় অনুপ্রবেশকারী ১০৮ রোহিঙ্গা নাগরিক আটকের সময় বিজিবি’র সদস্যদের ওপর গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। এতে বিজিবি’র সুবেদার ফজলুল হক গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। দালাল ও স্থানীয় গ্রামবাসী বিজিবি সদস্যদের ওপর ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে। এ সময় বিজিবি সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ৪ রাউন্ড গুলি বর্ষণ করে। এতে তিন গ্রামবাসী আহত হন। গতকাল শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯ টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থল থেকে বিজিবি পুরুষ, নারী ও শিশুসহ ১০৮ জন রোহিঙ্গা নাগরিককে আটক করে স্থানীয় বালুখালী বিজিবি ক্যাম্পে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় বিজিবি অনুপ্রবেশকারীদের সহায়তার অভিযোগে একটি চাঁদের গাড়ির মালিক শাহ আলমগীরকে আটক করেছে।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় পালংখালী ইউপি সদস্য ফজলুল কাদের চৌধুরী ভুট্টো জানান, সকাল সাড়ে ৯ টার দিকে ৪ টি চাঁদের গাড়িতে করে রোহিঙ্গাদের ঐ সড়ক দিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। বালুখালী ব্রিজের কাছাকাছি সড়কে বিজিবি সদস্যরা গাড়ি ৪টি আটক করে। তারা গাড়ি থেকে রোহিঙ্গা নাগরিকদের আটক করে ক্যাম্পে নিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেয়। এসময় গাড়ির চালক ও হেলপাররা বাধা দেন। এতে গাড়ির চালকদের সঙ্গে বিজিবি’র সদস্যদের কথা কাটাকাটি হয়। পরে বিজিবি সদস্যরা গাড়ির চালক ও হেলপারদের আটকের নির্দেশ দিলে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।
একজন প্রত্যক্ষদর্শী জানান, এ খবর ছড়িয়ে পড়লে পাশেই পানবাজার এলাকায় চাঁদের গাড়ি পরিবহন শ্রমিকরা রাস্তায় গাড়ি রেখে ব্যারিকেড দেয়। ঐ এলাকা থেকে স্থানীয় দালালরা একজোট হয়ে বিজিবি’র সদস্যদের ওপর ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকে। এক পর্যায়ে দালালরা বিজিবি’র সদস্যদের লক্ষ্য করে গুলি করে। এতে বিজিবি’র সুবেদার ফজলুল হকের ঘাড়ে গুলিবিদ্ধ হয়। দালালদের ইট-পাটকেল নিক্ষেপে নুরুল আলম (৩৫), বাদশা মিয়া (৪০) ও নুুরুল আলম (২৫) নামে তিনজন আহত হন। এক পর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বিজিবি সদস্যরা গুলি করলে দালালরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। আহত বিজিবি সদস্যকে উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে হেলিকপ্টারে করে তাকে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
খবর পেয়ে বিজিবি কক্সবাজারস্থ সেক্টর কমান্ডার কর্নেল মোঃ খালেকুজ্জামান ও উখিয়া সার্কেল এএসপি জসিম উদ্দিন মজুমদার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
এদিকে, ঘটনার ব্যাপারে কক্সবাজার ১৭ বিজিবি’র অধিনায়ক লে. কর্নেল খন্দকার সাইফুল আলম বলেন, ১০৮ জন রোহিঙ্গা আটক করে নিয়ে আসার পথে পালংখালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান গফুর উদ্দিন চৌধুরীর নির্দেশে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় প্রশ্রয়দাতা দালালরা দলবদ্ধভাবে বিজিবি’র উপর হামলা ও এক রাউন্ড গুলিবষর্ণ করেছে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।
পুলিশের উখিয়া থানা সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার পর বিজিবি’র পক্ষ থেকে থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।