অ্যাসিরীয় সভ্যতার নিদর্শন গুঁড়িয়ে দিচ্ছে আইএস

আপডেট : ০৭ মার্চ ২০১৫, ০১:১৭

ইরাকি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জঙ্গি গোষ্ঠী ইসলামিক স্টেটের (আইএস) জঙ্গিরা বুলডোজার দিয়ে নিমরুদ শহরের তিন হাজার বছরের পুরানো প্রাচীর ও ভাস্কর্য মাটির সাথে মিশিয়ে দিয়েছে। টাইগ্রিস নদীর তীরে গড়ে ওঠা এই নিমরুদ শহর ছিল অ্যাসিরীয় সাম্রাজ্যের রাজধানী। আইএস বলছে, এই নিদর্শনগুলো ইসলামসম্মত নয়, তাই এগুলোকে ধ্বংস করা প্রয়োজন। প্রাচীন এই নগরী গুঁড়িয়ে দেয়ার ঘটনাকে যুদ্ধাপরাধ বলে মন্তব্য করেছে জাতিসংঘ। খবর বিবিসি’র।

জাতিসংঘের সংস্কৃতি বিষয়ক সংস্থা ইউনেস্কোর প্রধান ইরিনা বোকোভা বলেছেন, ত্রয়োদশ শতাব্দীর এই প্রাচীর ও ভাস্কর্যগুলো ছিল প্রাচীন ইরাকি সমাজ ও সংস্কৃতির ঐতিহ্যবাহী নিদর্শন এবং সেগুলো ইচ্ছাকৃতভাবে ধ্বংস করা যুদ্ধাপরাধেরই সামিল। তিনি ওই এলাকায় রাজনৈতিক এবং ধর্মীয় নেতাদের প্রতি আহবান জানিয়েছেন তারা যেন এটা স্পষ্ট করে দেন যে বিশ্বের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এভাবে ধ্বংস করার পেছনে কোন যুক্তি নেই।
প্রত্নতাত্ত্বিক নিনেভা ইয়াকু যিনি ইরাকি সংস্কৃতি রক্ষা বিষয়ে বিশেষজ্ঞ তিনি বলছেন, নানা কারণে নিমরুদ নগরী বিশ্ববাসীর জন্য ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ। তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, অনেকেরই ধারণা লেন্স ডাচরাই প্রথম আবিষ্কার করেছিল। কিন্তু আসলে লেন্স প্রথম আবিষ্কার হয় তারও তিন হাজার বছর আগে এবং এই নিমরুদেই তার নিদর্শন পাওয়া যায়। এই ধরনের ইতিহাস ভেঙে গুঁড়িয়ে দেয়া হলো। তিনি বলেন, এই উদ্বেগ শুধু অ্যাসিরীয়দের বা প্রত্নতাত্ত্বিক ও ঐতিহাসিকদের নয়, গোটা বিশ্বের জন্য উদ্বেগজনক।

ইরাকি কর্মকর্তারা জানান, আইএসের সদস্যরা বৃহস্পতিবার মসুলের প্রায় ৩০ কিলোমিটার দক্ষিণপূর্বে টাইগ্রিস উপত্যকার ওই জায়গায় ঢোকে এবং বুলডোজার দিয়ে সবকিছু গুঁড়িয়ে দিতে শুরু করে। আইএসের যুক্তি সেখানকার প্রাচীন এসব ভাস্কর্য এবং মূর্তি তাদের ভাষায় অনৈসলামিক। সেখান থেকে ইতিমধ্যে অনেক ভাস্কর্য বাগদাদ ও বিশ্বের অন্যত্র যাদুঘরে নিয়ে যাওয়া হলেও অনেক কিছুই এখনো সেখানে থেকে গিয়েছিল। বাইবেলে এই নিমরুদের উল্লেখ আছে। এক সপ্তাহ আগে আইএস একটি ভিডিও প্রকাশ করে যাতে মসুলের যাদুঘরে প্রাচীন মূর্তি ও অন্যান্য ভাস্কর্য ভেঙ্গে ফেলার ছবি দেখানো হয়। অনেক নিমরুদ নিদর্শন ভেঙ্গে ফেলাকে ২০০১ সালে তালেবানের আফগানিস্তানে ঐতিহাসিক বামিয়ান বুদ্ধ মূর্তি ধ্বংসের সঙ্গে তুলনা করেছেন।