রাজশাহীর বাঘায় রহস্যজনক আগুনে টেলিফোন এক্সচেঞ্জের মূল্যবান যন্ত্রপাতি পুড়ে ছাই হয়েছে। শুক্রবার দিবাগত রাত চারটার দিকের এই ঘটনায় জিজ্ঞসাবাদের জন্য এক্সচেঞ্জের নৈশ প্রহরী সোহেল রানাকে আটক এবং লাইনম্যান সেন্টুর মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে। আগুনের উৎপত্তি সম্পর্কে কেউ সুনির্দিষ্ট তথ্য দিতে পারেনি। এদিকে অগ্নিকাণ্ডে এক্সচেঞ্জের ২৮৫টি টেলিফোন বন্ধ হয়ে গেছে।
শনিবার সকালে জেলা ডিএসবি এবং চারঘাট, বাঘা ও পুঠিয়ার দয়িত্বপ্রাপ্ত অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এসএম রশিদুল ইসলাম ও পুঠিয়া সার্কেলের সহকারি পুলিশ সুপার আসলাম হোসেন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
বাঘা সংবাদদাতা জানান, ১৯৮১ সালে বাঘায় প্রথম টেলিফোন এক্সচেঞ্জ স্থাপিত হয়। ১৯৮৪ সালে প্রায় সাড়ে চারশ’ গ্রাহক নিয়ে কার্যক্রম শুরু করে। বর্তমান সরকারের আগের মেয়াদে ডিজিটালে রূপান্তরিত হয়। শনিবার রাতের অগ্নিকাণ্ডে টেলিফোন এক্সচেঞ্জটির একটি এনালগ বোর্ড, ১২ ভোল্টের ৪৮টি ব্যাটারি, তিনশ মিটার কেবল, দরজা, জানালা, ছাদ ও দেয়ালসহ গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রপাতি পুড়ে ছাই হয়েছে।
লাইনম্যান সেন্টু জানান, তিনি রাতে এক্সচেঞ্জের দোতালায় ঘুমিয়ে ছিলেন। ভোর চারটার দিকে আগুনের দেখে তিনি চিৎকার শুরু করেন। পরে স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণ করে। এক্সচেঞ্জ ভবনের মূল গেট বন্ধ এবং দক্ষিণ দিকের জানালার কাঁচ ভাঙা ছিল।
বাঘা থানার ওসি আমিনুর রহমান জানান, জানালার কাঁচ ভাঙ্গা থাকলেও পেট্রোল কিংবা কেরোসিনের কোনো আলামত পাওয়া যায়নি।
তিনি আরো জানান, চারঘাট ফায়ার সার্ভিসের প্রধান মতিউর রহমান বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে অনুমান করলেও তিনি নিশ্চিত করে কিছু বলেননি। তবে গান পাউডার দিয়ে আগুন দেয়া হয়েছে কীনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। তবে সুনির্দিষ্ট কাউকে আসামি করা হয়নি।
