বাংলাদেশের বিপক্ষে সাধারণ একটা ম্যাচ হলেও ইংল্যান্ডের একটু চাপে থাকার কথা। কারণ, এই দলটির বিপক্ষে সর্বশেষ তিন ম্যাচের দুটিতেই হেরেছে তারা; তার একটি দেশের মাটিতে, একটি বিশ্বকাপে!
কিন্তু চাপটা শুধু এই অতীত রেকর্ড নয়। ইংল্যান্ডের ওপর এখন আসলে জীবন-মরণ চাপ তৈরী হয়েছে। বাংলাদেশের বিপক্ষে আগামী ম্যাচ হারলেই বাদ পড়ে যাবে তারা বিশ্বকাপের দ্বিতীয় রাউন্ডে ওঠার দৌড় থেকে। অন্য দিকে বাংলাদেশ হারলেও লড়াইয়ে টিকে থাকবে; নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে শেষ ম্যাচ জিতে কোয়ার্টার ফাইনালে যাওয়া সম্ভব বাংলাদেশের। ফলে ইংল্যান্ডের ওপরই এখন দুনিয়ার সব চাপ।
অবশ্য ইংলিশ অধিনায়ক এউইন মরগ্যান বলছেন, তারা এতো চাপের কিছু দেখছেন না। তারা যথেষ্ঠ খোশ মেজাজেই আছেন।
বাংলাদেশের বিপক্ষে জয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসেরও অভাব নেই ইংলিশ অধিনায়কের। তবে নিজেই যেন নিজেকে অতীত রেকর্ড মনে করিয়ে দিয়ে বলেছেন—সাকিবদের এই বাংলাদেশের বিপক্ষে সাবধানী থাকতেই হবে।
ইংল্যান্ডের যে কোনো ব্যর্থতা মানেই ইংলিশ মিডিয়ায় চুলচেরা বিশ্লেষন ও সমালোচনা। সেই সমালোচনার অংশ হিসেবেই বলা হচ্ছে, ইংল্যান্ড দল এখন আসলে ম্যাচ বের আনার জন্য যথেষ্ঠ পরিমানে আগ্রাসী ক্রিকেটই খেলার যোগ্যতা রাখে না। এই কথায় তীব্র আপত্তি মরগ্যানের, ‘একটা দল হারতে থাকলে হাজারটা তত্ত্ব তৈরী হয়। এটাও তার একটা। আমরা জিততে শুরু করলে, তখন আমরা যথেষ্ঠ আগ্রাসী কি না, এটা নিয়ে আর আলোচনা থাকবে না। আমার বিশ্বাস, স্বাভাবিক খেলা খেললে আমরা জিততে পারবো।’
এই বিশ্বকাপের পেছনে মরগ্যানের ভরসা হল বিশ্বকাপেই গত দুই ম্যাচের স্মৃতি!
যদিও এই বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত নিজেদের চার ম্যাচের তিনটিতেই হেরেছে ইংল্যান্ড। কিন্তু গত দুই ম্যাচে শ্রীলঙ্কা ও স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে তিন শ করে রান অন্তত তুলেছে তারা। আর মরগ্যান বলছেন, এই ব্যাটিংটাই তাদের এখন মূল শক্তি, ‘আমাদের অবশ্যই ইতিবাচক দিকগুলো ভাবতে হবে। সর্বশেষ দু ম্যাচেই আমরা তিন শ পার করেছি। এটা একটা ভালো ব্যাপার। এই খেলাটা খেলতে পারলে ব্যাটিং নিয়ে অন্তত কোনো দুশ্চিন্তা নেই।’
মরগ্যান দাবি করছেন, বাংলাদেশের বিপক্ষে তাদের দুশ্চিন্তা করারই আসলে তেমন কোনো কারণ নেই। শুধু একটু সাবধান থাকতে চান, ‘আমি বলছি না যে, আমরা জিতবই। তবে স্বাভাবিক খেলাটা খেললে আমরাই এগিয়ে থাকবো। বাংলাদেশ এখন অনেক ভালো দল। বিশ্বসেরা একজন অলরাউন্ডার ছাড়াও কয়েক জন দারুন ক্রিকেটার আছে ওদের দলে। ফলে আমাদের সতর্কই থাকতে হবে।’
