চোখের সামনে সতীর্থদের একে একে বিদায় নিতে দেখছেন। কিন্তু নিজে দাঁড়িয়ে রইলেন শেষ ভরসা হিসাবে। এরপর পাল্টা আক্রমণে প্রতিপক্ষকে প্রায় ছিটকেই দিচ্ছিলেন ম্যাচ থেকে। শেষ পর্যন্ত জয় থেকে ৩২ রান দূরে যখন আউট হয়ে গেলেন, দক্ষিণ আফ্রিকার জয়ের আশাও শেষ হয়ে গেল। পুরো ম্যাচে প্রোটিয়াদের জয়ের একমাত্র আশা হয়ে থাকা এবি ডি ভিলিয়ার্স ম্যাচ শেষে কিনা হারের পেছনে দেখছেন নিজের দায়ভার!
ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে ভিলিয়ার্স বললেন, অকল্যান্ডের ইডেন পার্কে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে এই ম্যাচে জেতার মতো যথেষ্ট ক্ষুধা দেখাতে পারেনি তার দল। মাঠে নিজের দলকে দেখে মনে হয়েছে শক্তি ফুরিয়ে যাওয়া একটি বাহিনী। আর দলকে অনুপ্রাণিত করতে না পারার দায়ভার অধিনায়ক হিসাবে নিজের কাঁধেই তুলে নিচ্ছেন তিনি।
নির্দিষ্টভাবে কাউকে দোষারোপ না করে দলের সামগ্রিক অবস্থা তুলে ধরতে চাইলেন ভিলিয়ার্স, ‘আমি কাউকে দোষ দিতে চাই না। আমি বলবো না নির্দিষ্ট কারো জয় ক্ষুধার অভাব ছিল। তবে আমাকে বলতেই হবে, অনুশীলনে (ম্যাচের আগে) তাদের মধ্যে চনমনে ভাবটা আমি দেখিনি। আমাকে সতর্ক করে দেয়ার জন্য সেটাই ছিল যথেষ্ট। আর দ্বিতীয়ত, আমার দায়িত্ব হচ্ছে সতীর্থদের মধ্যে সেই জয়ের তাড়নাটা জাগিয়ে তোলা। যেটা আমি করতে ব্যর্থ হয়েছি। সুতরাং (হারের) দায়ভার নিতে হলে সেটা আমারই নেয়া উচিত।’
৬৭ রানে তিন উইকেট হারিয়ে পথ হারিয়ে ফেলা প্রোটিয়ারা আশা ফিরে পায় ভিলিয়ার্সের হাত ধরেই। ডাকওয়ার্থ লুইস পদ্ধতিতে জয়ের জন্য ২৩২ রানের লক্ষ্যে ব্যাটিংয়ে নামা দলটি এরপরও নিয়মিত বিরতিতে হারাতে থাকে উইকেট। কিন্তু পাল্টা আক্রমনের দারুণ এক প্রদর্শনী মাত্র ৫৮ বলে ৭৭ রান তুলে নেন ভিলিয়ার্স। সাত চার আর পাঁচ ছয়ে সাজানো ইনিংসটা শেষ হয় সোহেল খানের বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিলে। নবম ব্যাটসম্যান হিসাবে তার বিদায়ের পরই হার নিশ্চিত হয়ে যায় প্রোটিয়াদের। শেষ পর্যন্ত ২৯ রানে হারে তারা।
আইসিসি ডট কম অবলম্বনে
