ইংল্যান্ড কোচ পিটার মুরের বিশ্বাস আগামীকাল সোমবার বাংলাদেশের বিপক্ষে ম্যাচে তারা সফল হবে। তার মতে বাংলাদেশের বিপক্ষে চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় মুখিয়ে আছে তার দলের খেলোয়াড়রা।
ইতোমধ্যে চলতি বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে চারটি ম্যাচে অংশ নিয়েছে এয়ন মর্গানের নেতৃত্বাধীন ইংল্যান্ড। তন্মধ্যে একটি মাত্র ম্যাচে জয়লাভ করেছে। ফলে বিশ্বকাপের স্বপ্ন টিকিয়ে রাখতে হলে আগামীকাল বাংলাদেশের বিপক্ষের ম্যাচটি সহ বাকি দুই ম্যাচে অবশ্যই জয়লাভ করতে হবে ইংলিশদের। শেষ দুটি ম্যাচে জয় পেলেই যে ইংল্যান্ডের শেষ আটে জায়গা হবে তা নয়। দুটি ম্যাচে জয়লাভের পরও তাদের তাকিয়ে থাকতে হবে বাংলাদেশ বনাম নিউজিল্যান্ডের মধ্যকার ম্যাচটির দিকে। ওই ম্যাচেও যদি টাইগাররা সহ আয়োজকদের বিপক্ষে জিততে পারে তাহলে দেশের বিমান ধরতে হবে ক্রিকেট বিশ্বের কুলিন দেশটির।
মুরের মতে এটি এমন একটি ম্যাচ, যে ম্যাচটিতে তীব্র চাপের মধ্যে থাকতে হচ্ছে তার দলকে। তারপরও তারা এই চাপ নেয়ার জন্য প্রস্তুত। যার মাধ্যমে শেষ আটের দিকে যাত্রা করার পাশাপাশি তারা সমালোচকদের সমালোচনারও উচিত জবাব দিতে পারবে।
রোববার ইংলিশ কোচ বলেন, ‘দলগতভাবে আমরা চাপের মধ্যে রয়েছি। কারণ (বিগত ম্যাচগুলোতে) আমরা আমাদের স্বাভাবিক খেলাটা খেলতে পারিনি। এখন আমাদের ভাল খেলতেই হবে। আমরা জানি এই ম্যাচে আমাদের জয়লাভ করতেই হবে। যে কোন ধরনের চাপের মোকাবেলা করা এবং চাপের মধ্যে থেকেও খেলা চালিয়ে যাওয়াটা আন্তর্জাতিক খেলোয়াড় হিসেবে আমাদের কাজেরই একটি অংশ। তাই খেলোয়াড়রা আগামীকাল এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করবে।
বিষয়টি নিয়ে আমরা পরিপুর্নভাবে অবগত এবং আমার মনে হয় আমরা এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সফল হব।’
প্রবল চাপের মধ্যে থাকা ইংলিশ কোচ বলেন, ‘তরুণ খেলোয়াড়দের জন্য বিশ্বকাপ হচ্ছে শিক্ষা নেয়ার ভাল একটি মঞ্চ। তারা জানে নিজেদের প্রমান করার জন্য এটি হচ্ছে সর্বোচ্চ জায়গা। শীর্ষ ব্যক্তিরাই এরকম ম্যাচে অংশ গ্রহন করার যোগ্যতা রাখে। এ বিষয়ে আপোষ করার কোন সুযোগ নেই। আমাদের দলে কিছু সিনিয়র তারকা রয়েছে, যাদের কাজ হচ্ছে অন্যদের সহায়তা করা।
এই আসরে আমাদের কিছু তরুণ খেলোয়াড় সামান্য কঠিন অভিজ্ঞতা অর্জন করছে। তাদেরকে এমন পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিতে হবে। এক পর্যায়ে তারাই লড়াইয়ে ফিরে আসার জন্য কিছু করে দেখাবে।
তবে এটি ঠিক যে এই ম্যাচগুলো হচ্ছে চাপের ম্যাচ। আমি এটিও দেখেছি যে অনেকে এখানে খেলার জন্য খুবই উদগ্রীব থাকে। তারা মনে করে নিজেদের যোগ্য প্রমাণ করার একটি পয়েন্ট এর মাধ্যমেই তারা পেয়ে গেছে। এবং সেখান থেকে ফিরে গিয়ে তারা সেটি প্রমাণের চেষ্টা করে। তবে ক্রিকেটে এটি প্রমাণের একমাত্র জায়াগা হচ্ছে লড়াইয়ের মাঠ। ’
২০১১ সালে অনুষ্ঠিত আগের বিশ্বকাপে এই বাংলাদেশের কাছেই পরাজিত হয়েছিল ইংল্যান্ড। যা এখনো দুঃস্বপ্নের মত তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে ইংলিশদের। তাই এটি ইংলিশদের জন্য প্রতিশোধের ম্যাচ কিনা সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে মুর বলেন যে, চার বছর আগে কি ঘটেছিল সেটি এখন কোন বিষয় নয়। তিনি বলেন, ‘আমাদের বিভিন্ন ধরনের খেলোয়াড় রয়েছে, যাদের চিন্তা জুড়ে রয়েছে কাল আমরা কিভাবে খেলবে সেটি নিয়ে। একই সঙ্গে কাল আমরা কিভাবে সেরা খেলাটা খেলব, সেদিকেই তাদের প্রধান মনোযোগ। এটি আমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।’
বাংলাদেশের বিপক্ষে ম্যাচকে সামনে রেখে দলকে পুনর্গঠন করার কথা প্রত্যাখ্যান করে মুর বলেন যে, তিনি ইতোমধ্যেই মূল একাদশ নির্বাচন করে ফেলেছেন। অনেকের ধারণা ওই ম্যাচে জায়গা পেতে পারেন মারকুটে ব্যাটসম্যান এলেক্স হ্যালেস। মুর বলেন, ‘আমরা আগামীকালের একাদশ কি হবে তা অনেকটাই ঠিক করে ফেলেছি। তবে এটি আমরা ঘোষণা করব টস হয়ে যাবার পর। তবে এটি নিশ্চিত করে বলতে পারি যে আপনারা সেরা একাদশকেই মাঠে পাচ্ছেন। কারণ ম্যাচে আমাদের জয় পেতে হবে। এটি আমাদের জন্য সত্যিকার অর্থেই একটি বড় ম্যাচ।’
মুরের ধারণা সোমবার এডিলেড ওভালের ম্যাচটি হবে হাই স্কোরিং ম্যাচ। তিনি বলেন, ‘ঐতিহাসিক ভাবেই এটি একটি ব্যাটিং সহায়ক পিচ। আমার মতে সেখানে রানের ফোয়ার ছুটবে। সেখানেই আমাদেরকে শ্রেষ্টত্ব বজায় রাখতে হবে। এজন্য বাংলাদেশকে চাপে রাখার জন্য তাদের উইকেটগুলো দ্রুত তুলে নিতে হবে।’
