বিয়ে করলে রুবেলকেই করব :হ্যাপী

আপডেট : ১১ মার্চ ২০১৫, ০২:৫৬

ক্রিকেটার রুবেল হোসেনের বিরুদ্ধে দায়ের করা প্রতারণা মামলা আর চালাতে ইচ্ছুক নন তার এক সময়কার বান্ধবী নাজনীন আখতার হ্যাপী। তিনি এও বলেন, ‘রুবেল যদি সত্যি আমার জীবনে আবার ফিরে আসে, তবে তাকে বিয়ে করবো। আমি তার জন্য সারাজীবন অপেক্ষা করতে রাজি। আমি যদি বিয়ে করি তবে শুধু রুবেলকেই বিয়ে করবো, অন্য কাউকে নয়।’

বিশ্বকাপে রুবেলের বিধ্বংসী বোলিং গুঁড়িয়ে দিয়েছে ইংল্যান্ডের ব্যাটিং লাইন। তিনি একাই তুলে নিয়েছেন চার চারটি উইকেট। এই রুবেলই কিনা বিশ্বকাপ শুরুর সপ্তাহ খানেক আগে ছিলেন ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে। বিয়ের নামে প্রতারণার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মামলা করেন চিত্রাভিনেত্রী হ্যাপী। এই মামলায় তিন দিন কারাভোগও করেন রুবেল। পরে নিম্ন আদালত জামিন দিলে তিনি বিশ্বকাপে অংশ নেয়ার সুযোগ পান।
সোমবার বিদেশের মাটিতে রুবেল যখন দেশকে কোয়ার্টার ফাইনালে নিতে লড়ছেন, তার কৃতিত্বে ফেইসবুকে একের পর এক স্ট্যাটাস দিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করছিলেন হ্যাপী। ম্যাচের মাঝখানে এক স্ট্যাটাসে তিনি লেখেন- “আমি সত্যিই খুব খুশি। উইকেট পেয়েছে। দারুণ দেখিয়েছো বাবু, চালিয়ে যাও।” আর ম্যাচ জয়ের পর রুবেলের উদ্দেশে ‘চুমু’ ছুঁড়ে দিয়ে হ্যাপী লেখেন, “আমি কিছু বলার ভাষা হারিয়ে ফেলেছি।”
এর পরদিন গতকাল বিডিনিউজকে দেয়া এক সাক্ষাত্কারে হ্যাপী বলেন, দুই সপ্তাহ আগেই সিদ্ধান্ত নিয়েছি রুবেলের বিরুদ্ধে আমি মামলাটি আর পরিচালনা করতে চাই না। কারণ, আমার দায়ের করা মামলায় রুবেল যখন জামিন পেয়ে গেলো, তখন আমার আইনজীবীদের কোন কাজ ছিল না। শুধু নামেই তারা এই মামলার আইনজীবী ছিল। আর আমি যখন বলেই দিয়েছি মামলাটি আর চালাবো না, তখন আইনজীবীরা মামলা করবেন না বলে যে বক্তব্য দিয়েছেন তার কোনো মানে নেই। হ্যাপী বলেন, আমি রাগের মাথায় কি না কি বলেছি আল্লাহ জানেন। কিন্তু সত্যি হলো, আমি রুবেলকে খুব ভালোবাসি। ওর জন্য মায়া লাগে আমার। সবকিছুর পরে আমি তাকে ভুলতে পারি না।
এর আগে হ্যাপীর আইনজীবী কুমার দেবুল দে বাংলাদেশের জয়ের পর ফেইসবুকে এক স্ট্যাটাসে লিখেছিলেন, এহেন সফলতায় রুবেলের বিপক্ষে মামলায় লড়ার আমার আর ইচ্ছে নেই। তাই হ্যাপীর আইনজীবী হিসাবে এখুনি নিজের নাম প্রত্যাহার করে নিলাম।
‘প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে রুবেলের জন্য আইনি লড়াই’

এদিকে, আইসিসি সভাপতি ও পরিকল্পনামন্ত্রী আহম মুস্তফা কামাল বলেছেন, আপনারা সবাই জানেন, রুবেলের বিশ্বকাপে খেলা নিয়ে আমরা চিন্তিত ছিলাম। এরপর প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে রুবেলের জন্য আইনি লড়াই করে তাকে বিশ্বকাপে পাঠিয়েছি। প্রধানমন্ত্রী ও আইন মন্ত্রণালয়ের দিক-নির্দেশনায় আইনি লড়াই করেই তাকে বিশ্বকাপে পাঠাতে আমরা সক্ষম হয়েছি এবং রুবেল দেশের জন্য বিরাট অর্জন বয়ে এনেছেন। গতকাল মঙ্গলবার শেরেবাংলা নগরে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে এনইসি সভা শেষে তিনি সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন। তিনি আরো বলেন, আমরা এর আগেও ইংল্যান্ডকে হারিয়েছি। এবারও হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠলাম। এই জয়ে দেশবাসী আনন্দে কেঁদেছে।