মেলবোর্ন এমনিতেই বাংলাদেশের অনেক ক্রিকেটারের খুব পরিচিত জায়গা। বিশেষ করে মাশরাফি বিন মুর্তজা, তামিম ইকবাল, তাসকিন আহমেদরা এখানে চিকিত্সা করাতে করাতেই মেলবোর্নের আপন হয়ে উঠেছেন। ইদানিং অবশ্য এই নেতিবাচক কারণে নয়, খেলার কারণেই বিশ্বের অন্যতম সুন্দর এই নগরীর সঙ্গে সখ্যতা গড়ে উঠেছে বাংলাদেশের। বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে খেলতে লম্বা সময় তারা কাটিয়ে গেছেন এখানে। আবার সেই মেলবোর্নে ফিরে এসেছেন মাশরাফিরা; এবার অবশ্য উদ্দেশ্যটা আরও বড়—কোয়ার্টার ফাইনাল।
হ্যাঁ, কোয়ার্টার ফাইনাল খেলতে শনিবারই নিউজিল্যান্ডের হ্যামিলটন থেকে অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নে চলে এসেছে বাংলাদেশ দল। আর এখানে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ভারত।
বাংলাদেশ দল আগামী ১৯ মার্চ মেলবোর্নের বিখ্যাত মাঠ এমসিজিতে ভারতের মুখোমুখি হবে। স্বাভাবিক চিত্র হচ্ছে, এই কোয়ার্টার ফাইনালে আসতে পারাতেই বাংলাদেশের বিশ্বকাপের প্রাথমিক লক্ষ্য পূরণ হয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশের সমর্থক ও খেলোয়াড়রা ঠিক এখানেই শেষ করতে চান না স্বপ্নযাত্রাটা। আগে কয়েকদিন ধরে বলছিলেন, আজও অস্ট্রেলিয়া রওনা হওয়ার আগে অনানুষ্ঠানিকভাবে খেলোয়াড়রা বারবার বললেন, এবার লক্ষ্য তাদের সেমিফাইনাল।
ভোর বেলায় হ্যামিলটন থেকে মেলবোর্নগামী বিমানে চেপেছেন বাংলাদেশের খেলোয়াড়রা। তার আগে তাসকিন আহমেদ যেমন বলছিলেন, তারা কোয়ার্টার ফাইনালের জন্য আরেকটা চমক জমিয়ে রেখেছেন, ‘কোয়ার্টার ফাইনালেও আমরা সেরা ক্রিকেটটা খেলতে চাই। আমাদের লক্ষ্য পরিষ্কার, পরের ধাপে পৌঁছানো। সেরা আটে যখন আসতে পেরেছি, সেরা চারের লক্ষ্য ঠিক করাই স্বাভাবিক।’
এই লক্ষ্য নিয়ে মেলবোর্নে আসা বাংলাদেশ দল অন্তত কোনো ক্রিকেটীয় কার্যক্রমে অংশ নেয়নি। আগের দিনই নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচ খেলার পর লম্বা বিমানযাত্রা শেষ করে দলের সবাই একরকম ক্লান্ত ছিলেন। দলের একটি সূত্র জানিয়েছে, ক্রিকেট নিয়ে তারা এই একটা দিন অন্তত ভাবনার মধ্যেও ছিলেন না। যেহেতু সিনিয়র ক্রিকেটারদের প্রায় সবারই স্ত্রী-সন্তান সঙ্গে আছেন, তাই তাদের সঙ্গে একটা বেলা একটু নিজেদের মতো করে সময় কাটিয়েছেন খেলোয়ড়রা। তবে সময় যতই ক্রিকেট থেকে দূরে কাটান, সাকিবদের মাথা জুড়ে নিশ্চয়ই ছিলো কোয়ার্টার ফাইনালের ভাবনা।
