শীর্ষ সন্ত্রাসী মোল্লা মাসুদ ভারতে গ্রেফতার

আপডেট : ১৫ মার্চ ২০১৫, ২১:৩৩
 
ঢাকার শীর্ষ সন্ত্রাসী ও ইন্টারপোলের রেড নোটিশধারী মোল্লা মাসুদ ভারতে গ্রেফতার হয়েছে। পশ্চিমবাংলা সিআইডি পুলিশ গত মাসে ( ফেব্রয়ারি) মাসে ব্যারাকপুর এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করে।
 
 ইন্টারপোল দিল্লি তার গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে বলে রবিবার পুলিশ সদর দফতর থেকে জানানো হয়েছে।
 
পাশাপাশি জানানো হয়, মোল্লা মাসুদকে দেশে ফিরিয়ে আনার কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। মোল্লা মাসুদের বিরুদ্ধে ব্যারাকপুর থানায় ফরেন এ্যাক্ট  আইনে মামলা হয়েছে ।
 
 মামলা নম্বর ৯, তারিখ ৮ ফেব্রয়ারী ২০১৫। তার বিরুদ্ধে রাজধানীর বিভিন্ন থানায় দুই ডজনের অধিক মামলা রয়েছে।
 
এক সময়ের রাজধানীর বহুল আলোচিত মগবাজারের সেভেন স্টার বাহিনীর সদস্য মোল্লা মাসুদ।
 
এ গ্রুপের প্রধান সুব্রত বাইনের সেকেন্ড ইন কমান্ড ।গ্রামের বাড়ি ঝালকাঠি জেলার মহাদেবপুর। তার বাবার নাম আমজাদ হোসেন। বাসা রমনার মীরবাগ এলাকায়।
সেভেন স্টার বাহিনীর অপর সদস্য হলেন মধু বাবু, পাপ্পু, বিল্পব, বিপু ও আল আমীন। এসএসসি পাশ করার পর ভর্তি হয়েছিল সিদ্ধেশ্বরী কলেজে। ঐ  কলেজে পড়াকালীন সময় জড়িয়ে পড়ে সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে। পরবর্তীতে সুব্রত বাইনের সঙ্গে গড়ে তোলে সেভেন স্টার বাহিনী।
 
১৯৯৪ সাল থেকে ২০০০ সাল  রাজধানীর মগবাজার এলাকাসহ আশপাশ এলাকায় চাঁদাবাজি ও  আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে প্রায় প্রতি নিয়ন্ত্রন সংঘর্ষ ছিল নিয়মিত ব্যাপার। মোল্লা মাসুদের বিরুদ্ধে খিলগাঁয়ের ত্রিপল হত্যা, মগবাজারের রফিক হত্যা, আদালত প্রাঙ্গনে মুরগি মিলন হত্যাসহ প্রায় দুই ডজন মামলা রয়েছে।
 
২০০১ সালে ২৬ ডিসেম্বর  ২৩ শীর্ষ সন্ত্রাসীর নাম ঘোষণা করা হয়। এ তালিকায় মোল্লা মাসুদ ছিল ১৩ নম্বরে।
 
২৩ শীর্ষ সন্ত্রাসী ধরিয়ে দিয়ে সরকার ১৫ লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষনা এবং একই সঙ্গে তাদের ছবি সম্বলিত পোষ্টার লাগানো হয়। কিন্তু এত কিছুর পরে এসব সন্ত্রাসীদের কর্মকান্ড থেমে থাকেনি।
 
২০০৪ সালে র্যাবের ক্রস ফায়ার শুরুর পর থেকে সুব্রত বাইন, মোল্লা মাসুদ সহ অন্যান্য শীর্ষ সন্ত্রাসীরা ভারতে আত্মগোপন করে। পাশাপাশি সরকার তাদের ধরিয়ে দিতে ইন্টারপোলে রেড নোটিশ জারি করে।
২৩ শীর্ষ সন্ত্রাসীদের মধ্যে বিভিন্ন সময় গ্রেফতার হয়ে কারাগারে রয়েছে  ৮ জন । অব্যাহতি পায় দুইজন এবং মারা গেছে ২ জন।
 
সূত্র জানায়, ভারতে পালিয়ে যাবার পর মোল্লা মাসুদ পরিচিত পায় রাসেল মাসুদ।  পরবর্তীতে ভারতে মুর্শিদাবাদে ভারতীয় নাগরিক রিজিয়া সুলতানাকে বিয়ে করে স্থায়ী ভাবে বসবাস শুরু করে। কিন্তু তার পর থেমে থাকেনি মোল্লা মাসুদের চাঁদাবাজি।  সে  ঢাকার বড় বড় ব্যবসায়ীকে টার্গেট করে বিভিন্ন সময় মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করে আসছিল। তার সহযোগীদের মাধ্যমে সেই চাঁদা তুলত। কোনো কোনো ব্যবসায়ী হুন্ডির মাধ্যমে চাঁদার টাকা তার কাছে পৌঁছে দিতেন।