অস্ত্র উদ্ধার ও সন্ত্রাসী গ্রেফতারে অভিযানে নামছে র‌্যাব পুলিশ

আপডেট : ১৬ মার্চ ২০১৫, ০০:১০

গত দুই মাস ধরে র‌্যাব-পুলিশের স্বাভাবিক কাজকর্ম প্রায় স্থবির হয়ে আছে। এ সময়ে রাজনৈতিক কর্মসূচিতেই বেশি সময় পার হয়েছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর। ফলে পেশাদার সন্ত্রাসীদের দিকে খুব একটা মনোযোগ ছিল না তাদের। আর এই সুযোগে অনেক সন্ত্রাসী এলাকায় নিজেদের অবস্থান সুসংহত করেছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। এর মধ্যেই অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে রাজধানীর দুই সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচন। এখন এই নির্বাচনকে সামনে রেখে এবং পরিস্থিতি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে পেশাদার অপরাধীদের ধরতে চায় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। এ কারণেই খুব শিগগিরই পেশাদার অপরাধীদের বিরুদ্ধে অভিযানে নামতে যাচ্ছে র্যাব-পুলিশ।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-কমিশনার (মিডিয়া) মাসুদুর রহমান বলেন, সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন যাতে নির্বিঘ্নে হয় তার জন্য আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশের যা যা করা দরকার তার সবই করা হবে। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ ব্যবস্থা নেবে। তিনি বলেন, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরপরই চলমান বিশেষ অভিযানের সঙ্গে জোরালোভাবে যুক্ত হচ্ছে অস্ত্র উদ্ধার, সন্ত্রাসী গ্রেফতার ও মাদকবিরোধী অভিযান। বর্তমানে নাশকতা দমনে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর বিশেষ অভিযান চলছে।
জানা গেছে, এই পরিস্থিতিতে রাজধানীর ৪৯ থানা এলাকায় অস্ত্র ও মাদক বিরোধী অভিযানকে আরও বেগবান করা হচ্ছে। এ অভিযানে চিহ্নিত সন্ত্রাসী, অবৈধ অস্ত্রধারী, মাদক বিক্রেতা, ডাকাত গ্রুপ, পরিবহন চাঁদাবাজ, টেন্ডারবাজ, ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি, গার্মেন্টস সেক্টরে চাঁদাবাজি, ঝুট ব্যবসায়ী ও ছিনতাইকারীসহ নানা ক্যাটাগরির অপরাধী অভিযানের আওতায় আসছে। তবে সংশ্লিষ্ট থানা এলাকাগুলোতে তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী, অস্ত্র ব্যবসায়ী ও মাদক ব্যবসায়ীদের গ্রেফতারের বিষয়ে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী বিশেষ নজর দিচ্ছে। তাছাড়া সন্ত্রাসীদের মধ্যে কারামুক্ত ও পলাতকদের নজরদারির বিষয়টি প্রাধান্য পাবে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এসব তথ্য জানিয়েছেন।
এদিকে গত বৃহস্পতিবার নির্বাচন কমিশনে নির্বাচনপূর্ব পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেখানে নির্বাচনে সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও অভিযান নিয়ে আলোচনা হয়েছে। ডিসিসি নির্বাচনকে সামনে রেখে যাতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী আরও তত্পর হয় সে বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। পেশাদার সন্ত্রাসী ও অপরাধীরা যাতে মাথাচাড়া দিতে না পারে সে ব্যাপারে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে বিশেষ নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে। ডিসিসি নির্বাচনে তফসিল ঘোষণার পরপরই এ অভিযান জোরেশোরে চলবে। তবে এখন থেকে গোয়েন্দা অনুসন্ধান ও নজরদারি বাড়ানো হচ্ছে। 
পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, প্রত্যেক নির্বাচনের আগে কিছু এলাকায় অপরাধী চক্র রাজনৈতিক ক্যাডারদের হাতে টাকার বিনিময়ে অস্ত্র তুলে দিয়ে থাকে। তখন সন্ত্রাসী ও দলীয় ক্যাডাররা তাদের শক্তি প্রদর্শনের জন্য তত্পর হয়। এসব রুখতে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাও বিভিন্ন কৌশল নিয়ে থাকে।

পুলিশ ও র্যাবের কর্মকর্তারা বলছেন, দেশে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর চলমান অভিযানে অস্ত্র ও গোলাবারুদ এবং মাদক উদ্ধার অব্যাহত আছে। একই সঙ্গে সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে অস্ত্র চোরাচালানিদের তালিকা অনুযায়ী অভিযানের সিদ্ধান্তও রয়েছে। পুলিশের বিশেষ শাখার এক কর্মকর্তা বলেন, ডিসিসি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জামিনে থাকা সন্ত্রাসীদের ওপর কঠোর নজরদারি করা হচ্ছে। তারা কোনোভাবে অপরাধে জড়িয়ে পড়লে বা পড়ার চেষ্টা করলে তাদের আবার গ্রেফতার করা হবে।  জানা গেছে, তথ্য অনুসন্ধান ও পর্যবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা গোয়েন্দা ইউনিটগুলো অপারেশনের ইউনিটগুলোকে বিভিন্ন তথ্য দেয়া শুরু করেছে। এসব তথ্যের ভিত্তিতে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে অস্ত্র উদ্ধার অভিযান চলবে।