আইসিসি বিশ্বকাপের ভবিষ্যত্ ফরম্যাট কেমন হবে সে নিয়ে বিস্তর মত দেখতে পাচ্ছি আমরা। এখনও নিশ্চিত নয় বিষয়টি। তবে বিশ্বকাপ তথাকথিত ছোট দেশগুলোকে নিজেদের সক্ষমতা প্রমাণের দারুণ সুযোগ করে দিয়েছে। সেই সুযোগটা লুফে নিয়েছে তারাও। তারা দেখিয়ে দিয়েছে ক্রিকেটের সর্বোচ্চ পর্যায়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তোলার সামর্থ্য আছে তাদের।
গত বছর বিশ্বকাপের বাছাইপর্বের ঠিক আগে আমি স্কটল্যান্ডের সাথে যোগ দেই। আইসিটি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও আমি তাদের সাথে ছিলাম। দলের সদস্য হওয়ার সাথে সাথেই আমি বুঝতে পারলাম ইংল্যান্ড এবং স্কটল্যান্ড দলের মৌলিক পার্থক্য।
ইংল্যান্ডের স্কোয়াডে থাকার অর্থ হচ্ছে আপনি যদি দলে সুযোগ পান তাহলেই বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ পাচ্ছেন। কিন্তু স্কটল্যান্ডের মতো দলগুলোকে আগে বাছাইপর্ব খেলতে হয়।
তবে বিশ্বকাপে সুযোগ পেলে দলগুলো আইসিসির কাছ থেকে ভালো ধরনের একটা অর্থনৈতিক সাহায্য পেয়ে থাকে। খেলোয়াড়দের একটা নিয়মতান্ত্রিক চুক্তির অন্তর্ভুক্তি এবং নিজেদের অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য এই অর্থের ভূমিকা অসামান্য। কারণ বেশ কয়েকটি দেশেরই এখনো পর্যন্ত স্থায়ী কোনো ক্রিকেট অবকাঠামো নেই, খেলোয়াড়দের স্থায়ী চুক্তিতে রাখতে পারছে না তারা। ফলে প্রায়ই তাদের মুখোমুখি হতে হচ্ছে মেধা পাচারের।
তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে ম্যাচ খেলার সুযোগ। আপনি যখন আপনার চেয়ে শক্তিশালী কোনো দলের বিরুদ্ধে খেলবেন তখন অনেক কিছুই শিখতে বাধ্য হবেন। তাছাড়া একটা আন্তর্জাতিক ম্যাচ মানে পরস্পরের সাথে অভিজ্ঞতা বিনিময়।
বিশ্বকাপে একবার সুযোগ পেলে তারা বেশ কিছু আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার সুযোগ পায়। তার আগেই বিভিন্ন দেশের বাছাই করা একাদশের সাথে খেলতে পারে তারা। সহযোগী দেশগুলো কোনো টেস্ট খেলুড়ে দেশের বিরুদ্ধে দ্বিপক্ষীয় বা ত্রিদেশীয় সিরিজ খেলার সুযোগ পায় না। তাই তারা যখন অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ডে নির্বাচিত একাদশের বিরুদ্ধে খেলে সেটা তাদের জন্য বিশাল সুযোগ বয়ে আনে।
আমি নিজেও আরব আমিরাতের অনুশীলন কর্মসূচিতে ছিলাম। তাছাড়া উইকেটরক্ষক কোচ ছিলেন ক্রিস রিড। সহযোগী দেশগুলোর খেলোয়াড়রা খুব কাছ থেকে তাদের পেয়েছে। শিখেছে তাদের কাছ থেকে। এই ব্যবস্থা করেছে আইসিসিই। এভাবে নানা কর্মসূচির মাধ্যমে তারা ক্রিকেটের বিশ্বায়নে ভূমিকা রাখছে।
আপনি যদি আয়ারল্যান্ডের গত দশ বছরের পারফরম্যান্স দেখেন, দেখবেন প্রায় সব ক্ষেত্রেই প্রচুর উন্নতি করেছে তারা। শেষ পর্যন্ত কোয়ার্টার ফাইনালে খেলতে না পারলেও তাদের পারফরম্যান্স মন ভরিয়েছে সবার।
তারা প্রমাণ করেছে প্রতিভার অভাব নেই তাদের। তা না হলে এতদূর আসতে পারত না তারা। নেপাল, হংকং, পাপুয়া নিউগিনি, আফগানিস্তানের মতো দেশগুলোর অগ্রগতি রীতিমতো ঈর্ষণীয়।
আয়ারল্যান্ড তিনটি ম্যাচ জিতেছে। এরই মধ্যে নিজেদের দক্ষতার প্রমাণ দিয়েছে তারা। স্কটল্যান্ড খুব ধারাবাহিক না হলেও ব্যক্তিগত পর্যায়ে বেশ কয়েকজন নিজেদের মেলে ধরেছেন। সব মিলিয়ে আমি বলব মনে রাখার মতোই একটা টুর্নামেন্ট ছিল তাদের সবার জন্য।
