স্টেডিয়ামে প্রায়ই তাদের দেখা পাওয়া যায়। কখনোবা দেখা মিলে গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতেও। একসাথে অনেকজন মানুষ। সবাই হলুদ রঙের টি-শার্ট পরা। কারো পিঠে দুই ফিতার ব্যাগ, ব্যাগের পিছনে বাঘের মুখের ছবি। বাঘটা জুড়ে আছে টি-শার্টের বুকেও। আবার এই বাঘ, ঠিক এই বাঘকেই মাঝেমধ্যে আবিষ্কার করা যায় গ্যালারির হাজারো মানুষের মুখের দিকে তাকালে। টাইগাররা যখন মাঠ কাঁপায়, দর্শকেরা তখন কাঁপান গ্যালারি। আর সেই গ্যালারির এক অবিচ্ছেদ্য অংশ এই হলুদ টি-শার্ট পরা দলটি। হ্যাঁ, যাদের কথা বলা হচ্ছে তারা বিসিএসএ টাইগার্স। বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের একনিষ্ঠ একদল সমর্থক নিয়ে প্রায় বছরখানেক আগে যাত্রা শুরু হয় বাংলাদেশ ক্রিকেট সাপোর্টারস অ্যাসোসিয়েশনের (বিসিএসএ)। অল্প সময়ের মধ্যেই তুমুল জনপ্রিয়তা ও পরিচিতি অর্জন করে অলাভজনক সংস্থাটি। বাস্তব জীবনে ক্রিকেট মাঠে দৌড়ের সাথে সাথে দৌড় চলছে ভার্চুয়াল জগতেও। সংগঠনের ফেসবুক পেজে লাইকার আছেন ৫৮০০০ জন। অফিশিয়াল ফেসবুক গ্রুপটিকে সারাক্ষণ ক্রিকেট আড্ডায় মাতিয়ে রাখেন এক লাখেরও বেশি ক্রিকেটপ্রেমী। সব মিলিয়ে ক্রিকেট সমর্থকদের এক আস্থা আর ভালোবাসায় পরিণত হয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট সাপোর্টারস অ্যাসোসিয়েশন। ক্রিকেট সমর্থকদের ভালোবাসায় সিক্ত সংগঠনটির সভাপতি হচ্ছেন জুনায়েদ পাইকার। ক্রিকেট স্মারক-স্মৃতি সংগ্রহের কারণে ক্রিকেট পাড়ায় অতি প্রিয় এক মুখ। এদিকে বিসিএসএর সেক্রেটারি জেনারেল জাবেদ আলী, নিজের দক্ষতা আর দারুণ অভিজ্ঞতার মিশেলে পরিণত হয়েছেন ক্রিকেট সমর্থকদের একজন প্রতিনিধি হিসেবে। দুজনই জানালেন, বিসিএসএর শুরুর কথা। মূলত এ দুজনের পরিকল্পনাই বিসিএসএর স্বপ্নের ভিত্তি। আশপাশের আরও ১৯ জন খাঁটি ক্রিকেট সমর্থককে নিয়ে শুরু হয় বিসিএসএর যাত্রা। ২১ জন ফাউন্ডার মেম্বারের তালিকাটা যে কেবল তারুণ্য দিয়েই ভরপুর ছিল এমনটি নয়, অভিজ্ঞতা আর বৈচিত্র্যের উপস্থিতিও বিদ্যমান। ফাউন্ডার মেম্বারদের একজন হলেন মাহবুব হামিদ, জাতীয় টেস্ট দলের অধিনায়ক ও উইকেটকিপার ব্যাটসম্যান মুশফিকুর রহিমের বাবা। গ্যালারিতে সবসময় এক ‘জীবন্ত’ বাঘের গর্জন শিহরিত করত তাদের, তাই শোয়েব আলী বুখারিকে স্পন্সর করা হয়, ‘বাঘ’ও হয়ে যান ২১জন ফাউন্ডার মেম্বারদের একজন। সহজ-সরল শোয়েব আলী অকপটে স্বীকার করে নেন, তিনি একজন মোটর মেকানিক। দেশের জন্য, দেশের খেলার জন্য নিজেকে বাঘের মতো রাঙিয়ে আবির্ভূত হন বাংলাদেশের খেলার সময়। মাঠে ক্রিকেটারদের সাহস জোগাতে গলা ফাটিয়ে চিত্কার করে যান অবিরত। সহজ-সরল মানসিকতার প্রমাণ ঘটল তার আবেগঢালা কথায়।
বিসিএসএর কাজ মূলত কী? জাবেদের উত্তর, মূল কাজ ক্রিকেটার আর সমর্থকদের সেতুবন্ধন গড়ে তোলা। সংগঠনটি দেশের ক্রিকেটের জন্য এ অল্প সময়ে যা করেছে, তা নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবিদার। যেমন বিসিএসএ জাভেদ ওমর বেলিমসহ অনেক খেলোয়াড়কে বিদায়ে দিয়েছে উষ্ণ অভিনন্দন, সাবেক ক্রিকেটার ও ক্রিকেট সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুতে আয়োজন করেছে শোক ও স্মরণ সভার। বিদায়ী কিংবা সাবেক কোচেরা তাদের কাছ থেকে পেয়েছেন সংবর্ধনা। এমন কি বিভিন্ন দেশের সমর্থকদেরও তারা সম্মানিত করেছেন। এ ছাড়াও দেশের ক্রিকেটের ক্রান্তিকালে ব্যানার-ফেস্টুন হাতে বিসিএসএ সবার আগে দাঁড়িয়েছিল বুক চিতিয়ে, কখনোবা ক্রিকেটকে রক্ষায় নেমে পড়েছে রাস্তায়ই। চলতি বছরের শুরুতে ঢাকায় আয়োজন করা হয় এক ক্রিকেট এক্সিবিশনের, যা সমাদৃত হয়েছিল সর্বমহলে। এ ছাড়াও জাতীয় ফিজিক্যাল চ্যালেঞ্জ ক্রিকেট টিমের স্পন্সর করে বিসিএসএ, যে দলটি ভারতের মাটিতে ভারতীয় দলকে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ হারিয়ে এসেছে। সেই দলের অধিনায়ক মহসিন অকপটে প্রকাশ করলেন বিসিএসএর প্রতি তার মুগ্ধতা।
সভাপতি জুনায়েদ পাইকার বললেন এমন এক কথা, শুনলে ক্রিকেটপ্রেমীদের স্পৃহা বেড়ে যাবে শতগুণ। ‘আমরা টেস্ট-ওয়ানডে র্যাংকিংয়ে এখন ১ নম্বর দল নই হয়তো, তবে নম্বর ওয়ান সাপোর্টার তো হতে পারি।’ ক্রিকেট পাগল এই সমর্থকেরা ইতোমধ্যে হয়তো তা হয়েও গেছেন। কারণ, ক্রিকেট বাংলাদেশের মানুষের কাছে কেবল একটি খেলা নয়, এটি একটি আবেগের নাম, ভালোবাসার রূপভেদ।
লেখক সহযোগী সদস্য, বিসিএসএ টাইগার্সই
