আইএফসি আইনের খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন

আপডেট : ১৬ মার্চ ২০১৫, ২০:২৪
 
 
বিশ্ব ব্যাংকের সহযোগী প্রতিষ্ঠান ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্স করপোরেশন (আইএফসি) থেকে পাওয়া তহবিল ব্যবস্থাপনায় নতুন আইন করার প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। সোমবার প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভায় আইএফসি আইন-২০১৫’র খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদনলাভ করেছে। সামরিক শাসনামলে জারিকৃত বিদ্যমান অধ্যাদেশটি আরো সময়োপযোগী ও কার্যকর করতে প্রণীত এই খসড়ার অনুমোদন দেয়া হয়।
 
এ প্রসঙ্গে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ১৯৭৬ সালের ইন্টারন্যাশনাল ফিন্যান্স কর্পোরেশন অর্ডিন্যান্সের নবরূপায়নের লক্ষ্যে প্রস্তাবিত আইনটি প্রণীত হয়েছে। অর্ডিন্যান্সটি ২০১০ সালে সর্বোচ্চ আদালতের রায়ে বাতিল হয়ে যায়।
 
প্রস্তাবিত এই আইনে বলা হয়েছে, আইএফসি থেকে প্রাপ্ত সকল আর্থিক সহায়তা সরকারের একটি কনসোলিডেটেড ফান্ডে জমা হবে। একইভাবে আইএফসিকে যেকোন ধরনের সাবস্ক্রিপশন বা পেমেন্টও এই ফান্ড থেকে দেয়া হবে।
 
তিনি বলেন, বাংলাদেশে আইএফসি’র সব সম্পদের কাস্টোডিয়ান হবে বাংলাদেশ ব্যাংক। প্রস্তাবিত এই আইনে এনবিআর’র পরামর্শে একটি বিধান অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, আইএফসি কর্মকর্তারা তাদের ব্যবহার্য বিভিন্ন পণ্যে শুল্কমুক্ত সুবিধায় অতিরিক্ত অনুচিত কোন বিশেষাধিকার পাবেন না।
 
অধ্যাদেশকে আইনে পরিণত করার ক্ষেত্রে কোনো পরিবর্তন আনা হচ্ছে কিনা জানতে চাইলে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, অধ্যাদেশটি ছিল ইংরেজিতে। আর আইনটি করা হচ্ছে বাংলায়। শুধু একটি ধারায় এনবিআরের (জাতীয় রাজস্ব বোর্ড) পরামর্শে একটি বিষয় সংযোজন করা হয়েছে।
 
এতে বলা হয়েছে, আইএফসি কর্মকর্তারা বাংলাদেশে তাদের ব্যবহার্য পণ্য আনার ক্ষেত্রে নির্ধারিত শুল্ক রেয়াতের বাইরে অতিরিক্ত কোনো সুবিধা পাবেন না।
 
এর ব্যাখ্যায় মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, জাতিসংঘ, বিভিন্ন কূটনৈতিক মিশন বা আন্তর্জাতিক সংস্থা ও তাদের কর্মীরা তাদের ব্যবহারের জন্য কোনো পণ্য বাংলাদেশে আনলে তা শুল্কমুক্ত হয়। এখানে এনবিআরের পরামর্শে বিষয়টিকে একটু বিস্তৃত করা হয়েছে, যাতে তারা অতিরিক্ত কোনো রকম শুল্ক রেয়াত পেতে না পারে, অবারিত সুবিধা দেওয়া না হয়।
পল্লী উন্নয়ন বোর্ড আইনের খসড়া নীতিগত অনুমোদন
এদিকে মন্ত্রিসভার বৈঠকে ‘বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড আইন-২০১৫’র খসড়ার নীতিগতভাবে অনুমোদিত হয়েছে।
 
প্রস্তাবিত এ আইনে সমবায়ের কর্মকান্ড আইনগত কাঠামোর আওতায় আনতে বিদ্যমান অধ্যাদেশে সংশোধনী আনা হয়। ১৯৮২ সালের এই অধ্যাদেশ ২০১০ সালে উচ্চ আদালতের রায়ে বাতিল হয়ে যায়।
 
এ প্রসঙ্গে মোশাররফ হোসেইন ভূইয়া বলেন, বর্তমানে সমবায় অধিদফতর উপজেলা কেন্দ্রীয় সমবায় সমিতিগুলোকে নিবন্ধন দেয় এবং বিআরডিবি এ সমিতিগুলোকে অপারেশনাল সহায়তা প্রদান করে।
 
তিনি বলেন, অনেক সমবায় সমিতি বিআরডিবি’র অনুমতি নিয়ে অনানুষ্ঠানিকভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। প্রস্তাবিত খসড়ায় এসব সমিতিকে আইনের কাঠামোর আওতায় আনার বিধান রয়েছে। এছাড়া এতে কর্মকান্ডের পরিধি সমপ্রসারিত হওয়ায় বিআরডিবির জন্য বিদ্যমান জাতীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের পাশাপাশি বিভাগীয় পর্যায়েও কার্যালয় স্থাপনের বিধান রয়েছে।
 
এদিকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলীল গত ৩-৭ মার্চ জেনেভায় জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিলের উচ্চ পর্যায়ের ২৮তম অধিবেশনে যোগদান সম্পর্কে মন্ত্রিসভাকে অবহিত করা হয়। ওই অধিবেশনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিচারহীনতার সংস্কৃতির অবসান ঘটাতে হবে। বাংলাদেশে চলমান যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বিচারহীনতার সংস্কৃতিক অবসান ঘটানোর উল্লেখযোগ্য প্রয়াস।