রাজনীতিবিদরা বিবেচক হলে জনদুর্ভোগ হয় না: আনোয়ার হোসেন মঞ্জু

আপডেট : ১৭ মার্চ ২০১৫, ০০:২৮

পরিবেশ ও বন মন্ত্রী এবং জাতীয় পার্টির (জেপি) চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেছেন, যখন দেশে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা দেখা দেয় তখন প্রশাসনের গতি কমে যায়, অন্যমনস্কতার সৃষ্টি হয়। নানা অজুহাত দেখিয়ে প্রয়োজনীয় ও জরুরি কাজগুলো দীর্ঘসূত্রতার কবলে ঠেলে দেয়া হয়। আমাদের বিজ্ঞ রাজনীতিবিদদের এসব অসঙ্গতির প্রতি মন দেয়া উচিত ছিল। তাঁরা যদি বিবেচক হতেন তা হলে রাজনীতির নামে এমন জনদুর্ভোগের উদ্ভব হতো না। গতকাল সোমবার পিরোজপুর জেলার ভাণ্ডারিয়ায় বিভিন্ন সরকারি কর্মসূচিতে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী আরও বলেন, আশা করা যাচ্ছে অচিরেই এই অস্থিরতা দূর হবে। ধর্মঘট, হরতাল, অবরোধ এসব অনাকাঙ্ক্ষিত অধ্যায়ের অবসান হবে। রাজনৈতিক অঙ্গনে শান্তি-শৃঙ্খলা ফিরে আসবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন তার প্রতিফলন আমরা দেখতে পাব। দেশবাসী একটি সুস্থ পরিবেশ ও কাজ করার উপযোগী সময়ের অপেক্ষায় রয়েছে। কাজ করতে হলে অগ্রাধিকার নির্ণয় করতে হয়। আমাদের চাহিদা ও অভাব অনেক। তা পূরণ করতে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সমন্বয় থাকতে হবে। বাংলাদেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খাত হচ্ছে কৃষি। আমাদের প্রধানমন্ত্রী ও কৃষি মন্ত্রীর সফল নেতৃত্বে বর্তমান সরকার এ ক্ষেত্রে ব্যাপক সাফল্য দেখিয়েছেন। শুধু ধান নয়, গম-ভুট্টা চাষ বাংলাদেশের কৃষিতে শস্যের বহুমুখী চাষাবাদে দৃশ্যমান সফলতা। সাবেকি ধরনের কৃষি উপকরণ ব্যবহারের বদলে আজ কৃষিতে যান্ত্রিকীকরণ আমাদের খাদ্য উত্পাদনে এক যুগান্তকারী পরিবর্তন এনেছে। আগে উত্তরাঞ্চলে যমুনার ওপারে কৃষি অনেক বেশি গুরুত্ব পেত। কৃষিমন্ত্রী বলেছেন দক্ষিণাঞ্চলে বিভিন্ন কৃষি উন্নয়ন কর্মসূচি গ্রহণ করায় এ ক্ষেত্রে সুফল আসছে। আমাদের এ অঞ্চলে কৃষি বরাদ্দ বেড়েছে। প্রধানমন্ত্রী নিজেই এ বিষয় গুরুত্ব দিয়েছেন। বিদেশি সহায়তা-অনুদানেও এসব কর্মসূচিতে অগ্রগতি ঘটছে। কৃষি ও প্রযুক্তি মেলার আয়োজনের মধ্য দিয়ে কৃষি উত্পাদন বৃদ্ধিতে আমাদের আগ্রহ সৃষ্টি করা হচ্ছে। দেশের খাদ্য উত্পাদনের উদ্বৃত্ত ধারাকে তাই অব্যাহত রাখতে সমন্বিত প্রচেষ্টা চালাতে হবে।
আনোয়ার হোসেন মঞ্জু গতকাল সকালে ভাণ্ডারিয়া উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে পিরোজপুর-গোপালগঞ্জ-বাগেরহাট সমন্বিত কৃষি উন্নয়ন প্রকল্প এবং কৃষি অধিদপ্তরের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত কৃষি ও প্রযুক্তি মেলার উদ্বোধন করেন। মেলায় কৃষি বিষয়ক ১৮টি স্টল রয়েছে। মেলা উদ্বোধনের পর মন্ত্রী স্টলগুলো ঘুরে দেখেন। এরপর এ উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন। ভাণ্ডারিয়া উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মনির হোসেন হাওলাদারের সভাপতিত্বে এ অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন উপজেলা চেয়ারম্যান আতিকুল ইসলাম তালুকদার উজ্জল, নদমূলা শিয়ালকাঠি ইউপি চেয়ারম্যান শফিকুল কবির তালুকদার বাবুল, ধাওয়া ইউপি চেয়ারম্যান সিদ্দিকুর রহমান টুলু ও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা চপল কৃষ্ণ নাথ। এসময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মনিরুল হক মনি জোমাদ্দার, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপ-কমিটির সহ সম্পাদক মহিউদ্দিন মহারাজ, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শেখ আবু যাহিদ, সদর ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম সরওয়ার জোমাদ্দার, গৌরীপুর ইউপি চেয়ারম্যান বদিউজ্জামান টিপু প্রমুখ।
এছাড়া পরিবেশ ও বন মন্ত্রী ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের জন্য প্রাপ্ত আর্থিক অনুদানের চেক এবং মন্ত্রীর ঐচ্ছিক তহবিল থেকে সুবিধা বঞ্চিত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের জন্য আর্থিক অনুদানের চেক বিতরণ করেন।
দুপুরে তিনি ভাণ্ডারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় সভাপতিত্ব করেন। সভায় কমিটির সদস্য সচিব এবং উপজেলা স্বাস্থ্য পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শাহদাত হোসেনসহ অন্যান্য সদস্য উপস্থিত ছিলেন। কমিটির সভাপতি বলেন, অচিরেই ভাণ্ডারিয়ায় স্বাস্থ্য সেবাকে আরও উন্নত করার জন্য অতিরিক্ত ৫০ শয্যার আরেকটি হাসপাতাল ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এ সময় মন্ত্রীর কাছে জরুরি প্রসূতি সেবা কার্যক্রম চালুর দাবি করা হয়।
গতকাল ভাণ্ডারিয়ায় বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ গ্রহণের সময় আনোয়ার হোসেন মঞ্জু’র সাথে উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মিরাজুল ইসলাম, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান আসমা আক্তার, ভিটাবাড়িয়া ইউপি চেয়ারম্যান মশিউর রহমান মৃধা, ইকড়ি ইউপি চেয়ারম্যান তানভীর হোসেন তালুকদার, জেপি নেতা ইউসুফ আলী আকন, আবুল কালাম পোদ্দার, যুব সংহতির উপজেলা আহ্বায়ক শহীদুজ্জামান মল্লিক রাজু, সদস্য সচিব মনির হোসেন সরদার, ছাত্র সমাজের আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম শিমুল আকন, সদস্য সচিব সালাউদ্দিন রাহাত প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

ভাণ্ডারিয়া-কাউখালী ও জিয়ানগরে তাঁর চার দিনের সফর কর্মসূচি শেষে মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু গতকাল বিকালে ঢাকার উদ্দেশে ভাণ্ডারিয়া ত্যাগ করেন। এসময় ভাণ্ডারিয়ার বাসভবনে মন্ত্রীকে বিদায় জানান পিরোজপুরের জেলা প্রশাসক এ কে এম শামিমুল হক ছিদ্দিকী, পুলিশ সুপার মোঃ শাহ আবিদ হোসেন, বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মিজানুর রহমান প্রমুখ।