জয়পুরহাটে শতাধিক শিক্ষক কর্মচারীর দুঃসহ জীবন

আপডেট : ১৭ মার্চ ২০১৫, ১০:০৩


শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা কমিটির নিয়োগ পাওয়া ১০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত না হওয়ায় শতাধিক শিক্ষক-কর্মচারী ১৬ বছর ধরে বিনা বেতনে চাকরি করে আসছেন। দীর্ঘদিন বেতন-ভাতা না পাওয়ায় জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীরা মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
প্রতিষ্ঠার পর থেকেই এসব প্রতিষ্ঠান নিয়মানুযায়ী ভাল ফলাফলের পাশাপাশি শিক্ষার পরিবেশ ও মানোন্নয়ন নিশ্চিত করায় সুনাম অর্জন করলেও আজো তার সুফল থেকে বঞ্চিত। প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ১৯৯৫ সালে প্রতিষ্ঠিত পৌর এলাকার আওড়া নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় ২০০১ সালে এমপিওভুক্ত হলে আওড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে উন্নীত করা হয়। এখন পর্যন্ত বিদ্যালয়টি এমপিওভুক্ত না হওয়ায় ৫ জন শিক্ষক ১৪ বছর থেকে বেতন-ভাতা বঞ্চিত রয়েছেন। মাত্রাই মডেল কলেজ ১৯৯৯ সালে প্রতিষ্ঠিত হলেও অদ্যাবধি এমপিওভুক্ত না হওয়ায় ২৭ জন শিক্ষক-কর্মচারী ১৬ বছর থেকে বিনা বেতন-ভাতায় কর্মরত আছেন। একই অবস্থা মাত্রাই কারিগরি কলেজের সাধারণ শাখার ২০ জন শিক্ষক-কর্মচারীর।
একই কারণে ১৫ বছর আগে প্রতিষ্ঠিত মোলামগাড়িহাট আদর্শ কলেজের ২০ জন শিক্ষক-কর্মচারী কেউ আর কলেজে আসেন না বলে কলেজের কার্যক্রম বন্ধ হয়েছে। এছাড়াও মোলামগাড়িহাট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, চেঁচুরিয়া নিম্ন মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়, বলিশিব সমুদ্র নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়, মাত্রাই নিম্ন মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়, রাঘবপুর নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়, হারুজ্ঞা দাখিল মাদ্রাসার ৫২ জন শিক্ষক-কর্মচারী এক যুগেরও বেশি বিনা বেতনে চাকরি করছেন। এমপিওভুক্তির আশায় বুক বেঁধে আছেন এসব প্রতিষ্ঠানের ১২৪ জন শিক্ষক-কর্মচারী।  
আওড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গোলাম মোস্তফা খান বলেন, আমার বিদ্যালয় একের পর এক শতভাগ পাসের রেকর্ড করেও এমপিওভুক্তি মেলেনি। মাত্রাই কলেজের প্রভাষক আতাউর রহমান, মামুনুর রশীদ ও জাহিদুল ইসলাম বলেন, এমপিওভুক্ত না হওয়ায় চাকরি করেও মাসশেষে খালি হাতে বাড়ি ফিরতে হয়। মাত্রাই মডেল কলেজের অধ্যক্ষ মনোয়ার হোসেন বলেন, মানসম্পন্ন শিক্ষার পরিবেশ ও ভালো ফলাফলের সুবাদে এলাকায় কলেজের সুনাম ছড়িয়েছে। ২০১১ সালে উপজেলায় শ্রেষ্ঠ স্থান অর্জন করেও প্রতিষ্ঠানটি এখনো এমপিওভুক্ত হয়নি। প্রতিষ্ঠানের ২৭ জন শিক্ষক-কর্মচারী মানবেতর জীবন যাপন করছেন।
জেলা শিক্ষা অফিসার আব্দুল আজিজ জানান, এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন নিয়মিত ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বরাবর পাঠানো হয়েছে। ২০১০ সালে জেলায় একটিমাত্র কলেজ এমপিওভুক্ত হয়েছে। জয়পুরহাট-২ আসনের এমপি আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন বলেন, এলাকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করার সুপারিশ করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছি।