চান্দিকা হাতুরুসিংহের চেহারার মধ্যে একটা অ-উপমহাদেশীয় নিরাবেগী ব্যাপার আছে।
বলা হয়, এই উপমহাদেশের মানসিকতায় একমত হতে না পেরে শ্রীলঙ্কার কোচ হতে পারেননি; গণ্ডগোল করে চলে গিয়েছিলেন। সেই মানসিকতার কারণেই অস্ট্রেলিয়ায় দারুণ সফল হয়েছেন। বাংলাদেশে এসেও এই কাঠখোট্টা মানসিকতার কারণে একটু কেমন অপরিচিত হয়ে ছিলেন। কিন্তু কোয়ার্টার ফাইনালে উঠে পড়ার পর কী আর এই নিরাবেগ মুখোশটা ধরে রাখা যায়!
গতকাল তাই মেলবোর্নে স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথোপকথনে একটা বাক্য পরিষ্কার করে দিলেন, ‘আমরা যোগ্য বলেই কোয়ার্টার ফাইনালে এসেছি। আমরা জানি, আমরা যোগ্য দল। যোগ্য দল ছাড়া কেউ নকআউট পর্বে আসে না।’
এই কথাতেই বাংলাদেশ দল নিয়ে তার বিশ্বাস, গর্ব পুরোপুরি প্রকাশিত।
হাতুরুসিংহের সঙ্গে আলাপটা শুরু হয়েছিল এভাবে যে, মেলবোর্নে এবার বাংলাদেশের চেয়ে ভারতের সমর্থক ঢের বেশি থাকবে। পুরো অস্ট্রেলিয়ায় যত জন বাংলাদেশি থাকেন, তার চেয়ে বেশি ভারতীয় শুধু মেলবোর্নেই থাকেন। ফলে বাংলাদেশ যে ১৯ তারিখের কোয়ার্টার ফাইনালে দর্শকের বিচারে একটু পিছিয়ে থাকবে, তাতে সন্দেহ নেই। হাতুরুসিংহে এই প্রসঙ্গেই বলছেন, দর্শক নয়, তার মূল ভরসা খেলোয়াড়রা।
দর্শকরা যে বড় অনুপ্রেরণা, তা মানতে এই কোচের আপত্তি নেই। তবে তার কাছে প্রধান ব্যাপার মনে হয় মাঠে খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স। আর সেটা ইতিমধ্যে তার শিষ্যরা করে দেখিয়েছেন বলেই তারা আজ কোয়ার্টার ফাইনালে।
এমনকি হাতুরুসিংহে সেই ২০০৭ সালের ঐতিহাসিক জয় নিয়েও খুব একটা ভাবিত নন। তিনি নাকি আসলেই খোঁজ নেননি যে, সেদিন কী হয়েছিল। সেই ম্যাচের চার নায়ক তার একাদশে আছেন, এমনটা জানালে হাতুরুসিংহে বললেন, ‘আমি অতীতকে অতীত হিসেবেই দেখি। আপনি না বললে আমি জানতামই না, তারা চার জন এই দলে আছে। থাকাটা ভালো। তবে সেটা বিশেষ কিছু নয়। এই ম্যাচে নতুন করে ভালো খেলতে হবে।’
কোয়ার্টার ফাইনালের একাদশ নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই কিছু ভাবেননি এখনও কোচ। তিনি বলছেন, সে জন্য অনেক সময় আছে, ‘এখনও খেলার চারদিন বাকি। আবহাওয়া কেমন থাকবে, আমার খেলোয়াড়রা কে কী অবস্থায় থাকবে, উইকেট কেমন হবে; অনেক কিছু বিচার করে সিদ্ধান্ত নেব আমরা।’
হাতুরুসিংহের মন্ত্র আসলে এখন একটাই। তিনি বারবার ছেলেদের বলছেন, ‘আর কিছু অর্জনের চাপ নিতে হবে না। আমি ওদের বলছি, উপভোগ করো। যে সুযোগ সামনে এসেছে, সারা বিশ্বের সামনে পারফরম করার সুযোগ এসেছে, সেটা উপভোগ করো। সেটা করতে পারলেই হবে।’
কী হবে? সেটা করতে পারলে কী করতে পারেন হাতুরুসিংহে ও তার দল?
‘বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী দলটারও ভিত নাড়িয়ে দিতে পারি আমরা। স্রেফ দিনটা একটু আমাদের পক্ষে থাকলে, ওদের কিছু ভুল হলে, আমরা সেরা খেলা খেলে যে কাউকে বিদায়ের পথ দেখিয়ে দিতে পারি’—হাতুরুসিংহে বুঝিয়ে দিলেন তার জোরটা আসলে কোথায়!
