সিডনিতে কাল দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে কোয়ার্টার ফাইনালের ঠিক আগে দলের সবচেয়ে বড় অস্ত্র কুমার সাঙ্গাকারাকে আরেকটু উস্কে দিলেন সনাত জয়সুরিয়া। শ্রীলকা ক্রিকেটের প্রধান নির্বাচক এই কিংবদন্তি বলেছেন, সাঙ্গাকারার এমন পারফরম্যান্স চোখের সামনে দেখতে পারাটা রীতিমতো সৌভাগ্যের ব্যাপার! নিজের উত্তরসূরীকে বিশ্বকাপের পরেই অবসরে না যাবার অনুরোধের পাশাপাশি জয়সুরিয়া জানিয়েছেন, শ্রীলঙ্কার ১৯৯৬ সালের বিশ্বকাপজয়ী দলের সাথে বর্তমান দলের প্রচুর মিল খুঁজে পাচ্ছেন তিনি।
গ্রুপপর্বে দর্শনীয় পারফরম্যান্স করা সাঙ্গাকারা ওয়ানডে ক্রিকেটে প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে পর পর চার ম্যাচে সেঞ্চুরি করেছেন। আফগানিস্তানের বিপক্ষে মাত্র সাত রানে আউট হওয়ার পর ৩৭ বছর বয়সী এ তারকা খেলোয়াড় বাংলাদেশের বিপক্ষে অপরাজিত ১০৫, ইংল্যান্ডের বিপক্ষে অপরাজিত ১১৭, অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ১০৪ এবং স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ১২৪ রান করেছেন সাঙ্গা।
চলমান বিশ্বকাপ শেষে ওয়ানডে ক্রিকেট থেকে অবসর নেবেন বলে আগেই ঘোষণা দিয়ে রেখেছেন সাঙ্গাকারা। কিন্তু জয়সুরিয়া বলেছেন, সাঙ্গাকারা এমন সিদ্ধান্ত থেকে সরে এলে খুশি হবেন তিনি।
সিডনি ক্রিকেট গ্রাউন্ডে সোমবার দলের অনুশীলন চলাকালে তার সাবেক সতীর্থ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে শ্রীলংকা দল নির্বাচন কমিটির প্রধান জয়সুরিয়া বলেন, ‘অবিশ্বাস্য! আপনি কদাচিত এমন ব্যাপারগুলো দেখতে পারবেন। সে এক নাগাড়ে চারটি সেঞ্চুরি করেছে। আমি সৌভাগ্যবান যে, এখানে থেকে স্বচক্ষে তার চারটি ইনিংস দেখতে পেরেছি!’
দলের জন্য সাঙ্গাকারার এমন ফর্ম খুব গুরুত্বপূর্ণ জানিয়ে ওয়ানডে ক্রিকেটে উদ্বোধনীয় ব্যাটসম্যানের সংজ্ঞা পাল্টে দেয়া জয়সুরিয়া আরো বলেন, ‘আমি অত্যন্ত আনন্দিত এবং নির্বাচক কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে আমি চাই পুরো বিশ্বকাপেই তার এ ফর্ম অব্যাহত থাকুক। আমি জানি শ্রীলংকার জন্য সে একজন গ্রেট খেলোয়াড় এবং সে নিজেও তার ফর্ম অব্যাহত রাখতে চায়।’
১৯৯৬ বিশ্বকাপ জয়ী লংকান দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য জয়সুরিয়া বলেন, ওয়ানডে ক্রিকেট চালিয়ে যেতে বয়স সাঙ্গাকরার জন্য কোন বাধা নয়। তিনি বলেন, ‘সে এখনো টেস্ট ক্রিকেট খেলছে। তবে অবশ্যই আমি চাইব সে আরো কিছু বছর এটা অব্যাহত রাখুক। এটার সব কিছুই তার হাতে।’ উইকেটরক্ষক-ব্যাটসম্যান হিসেবে সাঙ্গাকারার সাফল্যের গোপন রহস্য জানতে চাইলে জয়সুরিয়া আরো বলেন, ‘২০০০ সালে দলে আসার পর থেকেই সে সত্যিকারের কঠোর পরিশ্রম করছে। কিপিং এবং ব্যাটিং দুই ক্ষেত্রেই প্রতিদিনই উন্নতি করতে চেয়েছে সে। এমনকি সে তার শেষ ওয়ানডে সিরিজ খেলার সময়ও এটা করছে। মানসিকভাবে সে খুবই শক্তিশালী এবং সব সময় ভাল করতে চায়।’
শ্রীলংকার ১৯৯৬ এবং বর্তমান দলের মধ্যে অনেক মিল খুঁজে পান জয়সুরিয়া। দেশের ক্রিকেট ইতিহাসে সবচেয়ে বড় সাফল্যটি এনে দিতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করা এই বাঁহাতি বলেন, ‘মিলগুলো হচ্ছে— সে সময়ে মিডল অর্ডারে আমাদের দলে ছিলেন অর্জুনা রানাতুঙ্গা, অরবিন্দ ডি সিলভা এবং বর্তমান দলে আছেন সাঙ্গাকারা, মাহেলা জয়াবর্ধনে এবং অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুজ। আমাদের সময়ে অশংকা গুরু সিনহাও ছিলেন। টপ অর্ডারে আমাদের স্বাভাবিক খেলাটা খেলার অনুমতি পেয়েছিলাম এবং মিডল অর্ডারে আমাদের ব্যাটিং লাইনআপটা ছিল খুবই ভাল। এখনো একই অবস্থা। আমাদের দু’জন ভাল ওপেনার আছে এবং মিডল অর্ডারে আছে তিন জন ব্যাটসম্যান টেকনিক বিবেচনায় যারা বিশ্বমানের।’ এএফপি/বাসস
