সংবাদ সম্মেলনের মাত্র চার মিনিট পেরিয়েছে। বুধবার শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে কোয়ার্টার ফাইনাল নিয়ে সাংবাদিকদের নানা প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছেন রাসেল ডোমিনগো। কিছুটা ইতস্তত করে এক সাংবাদিক অবশেষে প্রশ্নটা করেই ফেললেন, ‘কোচ আমাকেই এই বিষয়ে প্রশ্নটা করতে হচ্ছে বলে খারাপই লাগছে তবে...’ প্রশ্ন শেষ হবার আগেই মুখ খুললেন দক্ষিণ আফ্রিকান কোচ। উত্তর দিলেন, ‘হ্যা হ্যা বুঝতে পারছি বুঝতে পারছি প্রশ্নটা চোকিং তাই না! চার মিনিটের বেশি সময় লাগলো এই প্রশ্নটা আসতে। অনেক সময় নিলেন (আপনারা) প্রশ্নটা করতে!’
বড় ম্যাচে চাপের মুখে ভেঙে পড়ায় চোকার অপবাদটা গায়ে এতই জোরালোভাবে সেঁটে গেছে যে, প্রশ্নের ধরনেই হয়তো এখন আসন্ন প্রশ্নটা আঁঁচ করতে পারছেন ডোমিনগো। তবে বিশ্বকাপ শুরুর আগে এমন প্রশ্নে যে প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছিলেন এবার আর তেমন উত্তেজিত হলেন না ডোমিনগো। বরং ধীর মেজাজে জানিয়ে দিলেন, বড় ম্যাচে জেতার জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত তার দল।
প্রোটিয়া কোচ বলেন, ‘কোয়ার্টার ফাইনালে যে পথ ধরে এসেছি সে নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই পারে। একেবারে নিঁখুত ছিলাম না আমরা। তবে আমরা সব সময়ই বলেছি সঠিক সময়ে বড় ম্যাচে জ্বলে উঠতে সব সময়ই চেষ্টা ছিল আমাদের। বুধবার তেমনই একটা দিন। সেদিন মাঠে নিজেদের সেরাটাই ঢেলে দিতে চাই আমরা।’
চোকার অপবাদ ঘোচাতে যে কাল জেতাটা খুব জরুরি সেটা বুঝতে মোটেই বেগ পেতে হচ্ছে না ডোমিনগোর। তার কথাতেই স্পষ্ট সেটা, ‘বড় ম্যাচ এবং গুরুত্বপূর্ণ সব মুহূর্ত নিয়ে প্রচুর কথা বলতে হয়েছে আমাদের। কিছু কিছু ক্ষেত্রে ব্যাপারগুলো আমাদের ইচ্ছানুযায়ী হয়নি। যে ধারাবাহিকতা দেখানো উচিত ছিল সেটা দেখাতে পারিনি আমরা। তবে নিজেদের সক্ষমতার পুরো প্রমাণ দিতে চাই বুধবারে।’ নিজেদের খেলাটা খেলতে পারলে না জেতার কারণ দেখছেন না জানিয়ে তিনি আরো বলেন, ‘দক্ষিণ আফ্রিকা যদি সব ম্যাচ জিততো তাহলেও তাদের প্রশ্নের মুখে পড়তে হতো। এখন তারা সব ম্যাচ জিততে পারেনি এখনো তাদের প্রশ্নের মুখে পড়তে হচ্ছে। আমরা জানি আমরা পরিষ্কার ব্যবধানেই জায়গা করে নিয়েছি নক আউট রাউন্ডে। আমরা জানি আমরা কিছু কিছু ম্যাচে খুব ভাল খেলেছি আবার কিছু ম্যাচে নিজেদের যোগ্যতার প্রমাণ দিতে পারিনি।’
বিশ্বকাপে দুই ম্যাচে চারশোর বেশি রান করার পাশাপাশি চারটি ম্যাচ জিতেছে প্রোটিয়ারা। হেরেছে শুধু ভারত এবং পাকিস্তানের বিরুদ্ধে। জয়ের সিংহভাগ কৃতিত্বই যাচ্ছে অধিনায়ক এবি ডি ভিলিয়ার্সের দখলে। অন্যদিকে পুরো টুর্নামেন্ট জুড়েই অনুজ্জ্বল ব্যাটিং এবং বোলিংয়ের অন্যতম বড় দুই ভরসা, কুইন্টিন ডি কক এবং ডেল স্টেইন। তবে তাদের নিয়ে খুব একটা উদ্বিগ্ন মনে হলো না ডোমিনগোকে। যেকোন মুহূর্তে তারা বড় কিছু দেখাতে সক্ষম হবেন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি ক্রিড়া মনোবিদ নই। জানি না একজন খেলোয়াড় আপনি যেমন বললেন তেমন মানসিকভাবে আহত (এক সাংবাদিককে উদ্দেশ করে) হতে পারে কিনা। এটা শুনতেও খুব শ্রুতিকটু। আমাদের বিশ্বাস, কুইন্টিন যেকোন সময় বড় রান পাবে। আর ডেল (স্টেইন) প্রতিনিয়তই উন্নতি করছে। খেয়াল করলে দেখবেন ধারাবাহিকভাবে বলের গতি বাড়ছে তার। প্রতি ম্যাচেই আগের ম্যাচের চেয়ে ভাল বল করছে। যেকোন মুহূর্তে সে দলের হয়ে বড় অবদান রাখতে প্রস্তুত। ম্যাচজয়ী পারফরম্যান্স দেখানোটা শুধু সময়ের ব্যাপার।’-ক্রিকইনফো অবলম্বনে
