শ্রীলঙ্কায় ভীত নয় দক্ষিণ আফ্রিকা

আপডেট : ১৭ মার্চ ২০১৫, ২০:৩৬
 
দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটিং কী খুবই ভালো না ভঙ্গুর? শ্রীলঙ্কার বোলিং কী কৌশলপূর্ণ না দুর্বল? সিডনিতে বুধবার বিশ্বকাপের প্রথম কোয়ার্টার ফাইনালের আগে দল দু’টির হিসাব-নিকাশ করতে গিয়ে ক্রিকেট বিশেষজ্ঞরা মোটা দাগে এ দুটি বিষয়কেই তুলে এনেছেন।
 
দক্ষিণ আফ্রিকা গ্রুপ পর্বে ওয়েস্ট ইন্ডিজ এবং আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে দুর্দান্ত ব্যাটিং করে ৪০০’র বেশি রান তোলে। এ দলটিই ভারতের কাছে হার মানে এবং পাকিস্তানের পেস বোলিংয়ের সামনে নুয়ে পড়ে। অপরদিকে বর্তমান রানার্স আপ শ্রীলঙ্কা দাপুটে ব্যাটিংয়ের সুবাদেই কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করে। চারটি খেলায় সহজেই ৩০০ রানের সংগ্রহ দাঁড় করায় তারা। কিন্তু নিউজিল্যান্ড এবং অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে আশানুরূপ ভালো করতে পারেনি লঙ্কানরা। এ কারণেই ম্যাচ দু’টিতে হারতে হয় তাদের।
 
দক্ষিণ আফ্রিকার এ দলটি দৃশ্যতই অনেক ভালোভাবেই নিজেদের মেলে ধরছে। গত বছর দল দু’টি শ্রীলঙ্কায় সর্বশেষ মুখোমুখি হয়েছিলো। ওই সময় হাশিম আমলা, কুইন্টন ডি কক এবং এবি ডি ভিলিয়ার্সের নৈপুণ্যে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজটি ২-১ ব্যবধানে জিতে নেয় দক্ষিণ আফ্রিকা। তবে এ হারের পর  দারুণভাবেই ঘুরে দাঁড়িয়ে শ্রীলঙ্কা। ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ওয়ানডে সিরিজ এবং টি-টোয়েন্টি ম্যাচে জিতে আত্মবিশ্বাস নিয়েই বিশ্বকাপ মিশনে আসে সাবেক চ্যাম্পিয়নরা।
 
দুর্দান্ত ফর্মে আছেন শ্রীলঙ্কা দলের অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যানরা। বিশেষ করে ক্যারিয়ারের শেষটায় এসে নিজেকে যেন নতুন করে চেনাচ্ছেন কুমার সাঙ্কাকারা। গ্রুপ পর্বে টানা চার সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে এর প্রমাণ দিয়েছেন তিনি। তাছাড়া রানে আছেন তিলকারত্নে দিলশান, মাহেলা জয়াবর্ধনে এবং লাহিরু থিরিমান্নে। এ পর্বে তারা সবাই সেঞ্চুরির দেখা পেয়েছেন। গত নয় মাসে দলটির পেসার লাসিথ মালিঙ্গা কিছুটা গতি হাঁরালেও দ্রুতই উন্নতি করছেন তিনি এবং এখনো তিনি ওয়ানডে ক্রিকেটে অসাধারণ একজন বোলার। শ্রীলঙ্কা কোয়ার্টার ফাইনালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে রঙ্গনা হেরাথের অভাব অনুভব করবে। যদিও অধিনায়ক অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুস জানিয়েছেন তার খেলার সম্ভাবনা ফিফটি-ফিফটি।
যে কোনো নক-আউট ম্যাচ মানেই দক্ষিণ আফ্রিকার সামনে থাকে ‘চোকার’ বা গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে ভেঙে পড়ার করুন ইতিহাস। অতীত অন্তত এমনটাই জানান দেয় প্রোটিয়াদের সম্পর্কে। এই অপবাদ ঘোচাতে কোয়ার্টার ফাইনালে মাঠে নামছে তারা। ফলে সামপ্রতিক সময়ে অন্যতম শক্তিশালী হিসেবে নিজেদের মেলে ধরা শ্রীলঙ্কা নিয়ে খুব বেশি উদ্বিগ্ন নয় এবি ডি ভিলিয়ার্সের দল।
খেলাটিতে নজর থাকবে দক্ষিণ আফ্রিকার স্পিনার ইমরান তাহিরের দিকেও। চলতি আসরে একজন স্পিনারই এক ম্যাচে পাঁচ উইকেট নিয়েছেন। তিনি তাহিরই, ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে এই নৈপূণ্য দেখান তিনি। আজকের খেলায়ও লেগ স্পিনারটি দলকে গুরূত্বপূর্ণ মুহুর্তে বিপক্ষের বিরুদ্ধে দাপুটে কিছু করে দেখাতে চাইবেন।
 
শ্রীলঙ্কা দলের হয়ে সাঙ্গাকারা ছাড়াও নজর থাকবে মাহেলা জয়াবর্ধনের দিকে। কেননা নক-আউট পর্বে যেকোনো ম্যাচই হতে পারে তার ক্যারিয়ারের সমাপ্তি। জয়াবর্ধনে শ্রীলঙ্কার সবচেয়ে কার্যকরী ব্যাটসম্যান না হলেও, দলে তাকে ঘিরে আস্থা বেশি। তার আছে ২০০৭ সালের বিশ্বকাপ সেমিফাইনাল এবং গতবারের শিরোপা লড়াইয়ে সেঞ্চুরি হাঁকানোর অভিজ্ঞতা।
পিঠের চোট কাটিয়ে ওঠেছেন দক্ষিণ আফ্রিকার পাফ ডু প্লেসিস যিনি এ কারণে সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিপক্ষে খেলতে পারেননি। কোয়ার্টার ফাইনালে ফিরছেন তিনি। প্রোটিয়া দল নির্বাচনের ক্ষেত্রে বড় ধাঁধাটা হতে পারে ফারহান বেহারদিয়েন অথবা লিও রুশোকে ঘিরে। রুশো বেশ ভালো একজন ব্যাটসম্যান, যদিও বেহারদিয়েন সর্বশেষ খেলায় অপরাজিত ৬৪ রানের ইনিংস খেলে সবার নজর কেড়েছেন।